আল-ফুরকান · 20/77
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-ফুরকান
وَمَا أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِنَ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا إِنَّهُمْ لَيَأْكُلُونَ الطَّعَامَ وَيَمْشُونَ فِي الْأَسْوَاقِ ۗ وَجَعَلْنَا بَعْضَكُمْ لِبَعْضٍ فِتْنَةً أَتَصْبِرُونَ ۗ وَكَانَ رَبُّكَ بَصِيرًا ۝٢٠
Wa maaa arsalnaa qablaka minal mursaleena illaaa innahum la yaakuloonat ta`aama wa yamshoona fil aswaaq; wa ja`alnaa ba`dakum liba`din fitnatan atasbiroon; wa kaana Rabbuka Baseera
📖 বাংলা অর্থ
আপনার পূর্বে যত রসূল প্রেরণ করেছি, তারা সবাই খাদ্য গ্রহণ করত এবং হাটে-বাজারে চলাফেরা করত। আমি তোমাদের এককে অপরের জন্যে পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। দেখি, তোমরা সবর কর কিনা। আপনার পালনকর্তা সব কিছু দেখেন।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • ফিতনা: পরীক্ষা, পরীক্ষার মাধ্যম।
  • أتصبرون: তোমরা কি ধৈর্য ধারণ করবে?

তفسير:

হে নবী! আপনার পূর্বে আমরা যত রাসূল প্রেরণ করেছি, তারা সকলেই সাধারণ মানুষ ছিলেন—তারা খাদ্য খেতেন এবং বাজারে চলাফেরা করতেন। তারা ফেরেশতা ছিলেন না, বরং মানুষের মধ্য থেকেই মনোনীত হয়েছিলেন। সুতরাং আপনার ব্যাপারে কাফিরদের এই আপত্তি যে, আপনি খাদ্য খান এবং বাজারে চলাফেরা করেন—এটি কোনো নতুন বিষয় নয়; বরং এটি সকল নবী-রাসূলেরই স্বভাব ছিল। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে মানুষের মধ্য থেকেই পাঠিয়েছেন, যাতে মানুষ তাদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে এবং তাদের সাথে মেলামেশা করতে পারে।

আরও বলেছেন: হে মানুষ! আমরা তোমাদের কিছুকে অন্যদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ তৈরি করেছি। কাউকে দিয়েছি ধন-সম্পদ, কাউকে দিয়েছি দারিদ্র্য; কাউকে দিয়েছি সুস্থতা, কাউকে দিয়েছি রোগ; কাউকে দিয়েছি উচ্চ মর্যাদা, কাউকে রেখেছি সাধারণ পর্যায়ে। এ সবই পরীক্ষার জন্য, যাতে দেখা যায় কে ধৈর্য ধারণ করে এবং কে অধৈর্য হয়ে পড়ে। ধনী ব্যক্তি দরিদ্রের জন্য পরীক্ষা—দরিদ্র দেখে সে অহংকারী হয় কি না; আর দরিদ্র ব্যক্তি ধনীর জন্য পরীক্ষা—সে কি ধৈর্য ধারণ করে এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখে কি না। নবী-রাসূলগণও তাদের উম্মতদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ—মানুষ তাদের অনুসরণ করবে কি না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “তোমরা কি ধৈর্য ধারণ করবে?” অর্থাৎ এই পরীক্ষার মুখোমুখি হয়ে তোমরা কি সবর করবে এবং আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলবে? আর তোমাদের রব সবকিছু দেখছেন—কে ধৈর্যশীল, কে অধৈর্য; কে কৃতজ্ঞ, কে অকৃতজ্ঞ। তিনি প্রত্যেককে তার কর্ম অনুযায়ী প্রতিদান দেবেন।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. নবী-রাসূলগণ সকলেই সাধারণ মানুষ ছিলেন—তারা খেতেন, পান করতেন, বাজারে যেতেন। এটি তাদের মর্যাদা হ্রাস করে না, বরং মানুষের জন্য শিক্ষা গ্রহণের সহজতা তৈরি করে। ইসলাম একটি বাস্তবসম্মত জীবনব্যবস্থা, যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
  2. দুনিয়ার জীবন একটি পরীক্ষার স্থল। ধন-দারিদ্র্য, সুস্থতা-অসুস্থতা, সম্মান-অপমান—সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা। আমাদের কর্তব্য প্রতিটি অবস্থায় ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা।
  3. ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতা মুমিনের দুটি প্রধান গুণ। ধনী ব্যক্তি সম্পদের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে এবং দরিদ্রের সাহায্য করবে; দরিদ্র ব্যক্তি ধৈর্য ধারণ করবে এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখবে। এভাবেই সমাজে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
  4. আল্লাহ সর্বদা আমাদের দেখছেন এবং আমাদের প্রতিটি কাজ সম্পর্কে অবগত। এই বিশ্বাস আমাদেরকে ভালো কাজে অটল থাকতে এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে সাহায্য করে। পরকালে প্রত্যেকে তার কর্মের ফল পাবে—ধৈর্যশীলদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ, আর অপরাধীদের জন্য রয়েছে সতর্কবার্তা।
  5. ইসলামে নেতা-শাসক, আলিম-উপদেষ্টা সবার জন্যই পরীক্ষা রয়েছে। সাধারণ মানুষের উচিত তাদের অনুসরণ করা এবং তাদের কাছ থেকে সঠিক পথ গ্রহণ করা; আর যারা নেতৃত্বে রয়েছেন, তাদের উচিত আল্লাহর ভয় রেখে ন্যায়বিচার করা।


📜 আয়াত 18-22 — সূরা আল-ফুরকান

18قَالُوا سُبْحَانَكَ مَا كَانَ يَنبَغِي لَنَا أَن نَّتَّخِذَ مِن دُونِكَ مِنْ أَوْلِيَاءَ وَلَٰكِن مَّتَّعْتَهُمْ وَآبَاءَهُمْ حَتَّىٰ نَسُوا الذِّكْرَ وَكَانُوا قَوْمًا بُورًا
তারা বলবে-আপনি পবিত্র, আমরা আপনার পরিবর্তে অন্যকে মুরুব্বীরূপে গ্রহণ করতে পারতাম না; কিন্তু আপনিই তো তাদেরকে এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরকে ভোগসম্ভার দিয়েছিলেন, ফলে তারা আপনার স্মৃতি বিস্মৃত হয়েছিল এবং তারা ছিল ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতি।
19فَقَدْ كَذَّبُوكُم بِمَا تَقُولُونَ فَمَا تَسْتَطِيعُونَ صَرْفًا وَلَا نَصْرًا ۚ وَمَن يَظْلِم مِّنكُمْ نُذِقْهُ عَذَابًا كَبِيرًا
আল্লাহ মুশরিকদেরকে বলবেন, তোমাদের কথা তো তারা মিথ্যা সাব্যস্ত করল, এখন তোমরা শাস্তি প্রতিরোধ করতে পারবে না এবং সাহায্যও করতে পারবে না। তোমাদের মধ্যে যে গোনাহগার আমি তাকে গুরুতর শাস্তি আস্বাদন করাব।
20وَمَا أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِنَ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا إِنَّهُمْ لَيَأْكُلُونَ الطَّعَامَ وَيَمْشُونَ فِي الْأَسْوَاقِ ۗ وَجَعَلْنَا بَعْضَكُمْ لِبَعْضٍ فِتْنَةً أَتَصْبِرُونَ ۗ وَكَانَ رَبُّكَ بَصِيرًا
আপনার পূর্বে যত রসূল প্রেরণ করেছি, তারা সবাই খাদ্য গ্রহণ করত এবং হাটে-বাজারে চলাফেরা করত। আমি তোমাদের এককে অপরের জন্যে পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। দেখি, তোমরা সবর কর কিনা। আপনার পালনকর্তা সব কিছু দেখেন।
21۞ وَقَالَ الَّذِينَ لَا يَرْجُونَ لِقَاءَنَا لَوْلَا أُنزِلَ عَلَيْنَا الْمَلَائِكَةُ أَوْ نَرَىٰ رَبَّنَا ۗ لَقَدِ اسْتَكْبَرُوا فِي أَنفُسِهِمْ وَعَتَوْا عُتُوًّا كَبِيرًا
যারা আমার সাক্ষাৎ আশা করে না, তারা বলে, আমাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ করা হল না কেন? অথবা আমরা আমাদের পালনকর্তাকে দেখি না কেন? তারা নিজেদের অন্তরে অহংকার পোষণ করে এবং গুরুতর অবাধ্যতায় মেতে উঠেছে।
22يَوْمَ يَرَوْنَ الْمَلَائِكَةَ لَا بُشْرَىٰ يَوْمَئِذٍ لِّلْمُجْرِمِينَ وَيَقُولُونَ حِجْرًا مَّحْجُورًا
যেদিন তারা ফেরেশতাদেরকে দেখবে, সেদিন অপরাধীদের জন্যে কোন সুসংবাদ থাকবে না এবং তারা বলবে, কোন বাধা যদি তা আটকে রাখত।
আল-ফুরকানকুরআন সূচী
77আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
20আয়াত

অনুবাদ — আল-ফুরকান 20

সূরা আল-ফুরকান আয়াত 20 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আপনার পূর্বে যত রসূল প্রেরণ করেছি, তারা সবাই খাদ্য গ্রহণ…

সূরা আয়াত 20/77 — সূরা আল-ফুরকান الفرقان (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-ফুরকান শুনুন, সূরা আল-ফুরকান অনুবাদ, সূরা আল-ফুরকান mp3, সূরা আল-ফুরকান pdf. আয়াত 18–22. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Tuesday, September 29, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না