অনুবাদ — Tafsir
শব্দের অর্থ:
- لَا يَرْجُونَ لِقَاءَنَا – যারা আমাদের সাক্ষাতের আশা করে না (অর্থাৎ পুনরুত্থান ও পরকালে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হওয়ায় বিশ্বাস করে না)।
- لَوْلَا – কেন নয়? / হলে কেমন হতো?
- عَتَوْا – তারা সীমালঙ্ঘন করেছে, বিদ্রোহ করেছে।
- عُتُوًّا كَبِيرًا – চরম/মহা বিদ্রোহ ও সীমালঙ্ঘন।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
যারা পুনরুত্থান ও আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে না, তারা ঔদ্ধত্যের সাথে বলতে থাকে: “আমাদের কাছে ফেরেশতা কেন নাযিল করা হলো না? অথবা আমরা আমাদের রবকে কেন দেখতে পাচ্ছি না?” — অর্থাৎ তারা দাবি করে, যদি ফেরেশতা এসে সাক্ষ্য দিত অথবা তারা নিজ চোখে আল্লাহকে দেখতে পেত, তবেই তারা ঈমান আনত।
তাদের এই দাবি মূলত সত্য অন্বেষণের জন্য ছিল না, বরং ছিল নিছক অজুহাত ও প্রবৃত্তির অনুসরণ। কারণ তারা জানত, আল্লাহকে দুনিয়ায় দেখা সম্ভব নয়, আর ফেরেশতা নাযিল হওয়ার পরও তারা ঈমান আনত না — যেমন পূর্ববর্তী সম্প্রদায়গুলো ফেরেশতা দেখেও ঈমান আনে নি।
আল্লাহ তা‘আলা তাদের এই অবস্থার সমালোচনা করে বলেন: তারা নিজেদের অন্তরে অহংকারে পূর্ণ হয়ে গেছে এবং চরম সীমালঙ্ঘন ও বিদ্রোহে লিপ্ত হয়েছে। তাদের এই কথা প্রমাণ করে যে, তারা কত বড় অহংকারী ও অবাধ্য — কারণ তারা এমন জিনিস দাবি করছে যা তাদের অবস্থান ও মর্যাদার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, বরং তা তাদের কুফরি ও অহংকারেরই বহিঃপ্রকাশ।
শিক্ষা ও উপদেশ:
- অহংকার ও ঔদ্ধত্য — ঈমানের পথে সবচেয়ে বড় বাধা: এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, অহংকার মানুষকে সত্য গ্রহণ থেকে বিরত রাখে। যারা নিজেদেরকে বড় মনে করে, তারা আল্লাহর নির্দেশ ও রাসূলের আহ্বান মানতে চায় না।
- অজুহাত তৈরি করা — মুনাফিকদের স্বভাব: সত্যকে মেনে নেওয়ার জন্য মানুষ নানা রকম অজুহাত দাঁড় করায়। কিন্তু প্রকৃত সন্ধানী অন্তর অজুহাত নয়, সত্যকে গ্রহণ করার পথ খোঁজে।
- আল্লাহকে দুনিয়ায় দেখা সম্ভব নয়: আল্লাহকে দেখা তো আখিরাতের বিষয়। দুনিয়ায় কেউ আল্লাহকে দেখতে চাইলে তা অহংকার ও অজ্ঞতার পরিচায়ক। মুমিনের কাজ হলো আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলা, তাঁকে দেখার দাবি করা নয়।
- ঈমানের পূর্বশর্ত — বিনয় ও নম্রতা: ঈমান আনার জন্য প্রয়োজন বিনয়ী অন্তর। যে অন্তরে অহংকার থাকে, সে কখনো সত্যকে মেনে নিতে পারে না। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর সামনে নিজেকে ছোট করা এবং তাঁর নির্দেশের কাছে আত্মসমর্পণ করা।
- কুরআন ও রাসূলের শিক্ষাই যথেষ্ট: আল্লাহ আমাদের জন্য কুরআন নাযিল করেছেন এবং রাসূল (সা.)-কে পাঠিয়েছেন। এটাই আমাদের জন্য যথেষ্ট হিদায়াত। এরপরও যদি কেউ অজুহাত দেখায়, তবে তা তার নিজের অন্তরের রোগেরই প্রমাণ।
📜 আয়াত 19-23 — আল-ফুরকান
অনুবাদ — আল-ফুরকান 21
সূরা আল-ফুরকান আয়াত 21 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যারা আমার সাক্ষাৎ আশা করে না, তারা বলে, আমাদের কাছে…সূরা আয়াত 21/77 — আল-ফুরকান الفرقان (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-ফুরকান শুনুন, আল-ফুরকান অনুবাদ, আল-ফুরকান mp3, আল-ফুরকান pdf. আয়াত 19–23. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, August 18, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








