আল-ফুরকান · 21/77
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-ফুরকান
۞ وَقَالَ الَّذِينَ لَا يَرْجُونَ لِقَاءَنَا لَوْلَا أُنزِلَ عَلَيْنَا الْمَلَائِكَةُ أَوْ نَرَىٰ رَبَّنَا ۗ لَقَدِ اسْتَكْبَرُوا فِي أَنفُسِهِمْ وَعَتَوْا عُتُوًّا كَبِيرًا ۝٢١
Wa qaalal lazeena laa yarjoona liqaaa`anaa law laaa unzila `alainal malaaa`ikatu awnaraa Rabbanaa; laqadistakbaroo feee anfusihim wa `ataw `utuwwan kabeeraa
📖 বাংলা অর্থ
যারা আমার সাক্ষাৎ আশা করে না, তারা বলে, আমাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ করা হল না কেন? অথবা আমরা আমাদের পালনকর্তাকে দেখি না কেন? তারা নিজেদের অন্তরে অহংকার পোষণ করে এবং গুরুতর অবাধ্যতায় মেতে উঠেছে।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দের অর্থ:

  • لَا يَرْجُونَ لِقَاءَنَا – যারা আমাদের সাক্ষাতের আশা করে না (অর্থাৎ পুনরুত্থান ও পরকালে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হওয়ায় বিশ্বাস করে না)।
  • لَوْلَا – কেন নয়? / হলে কেমন হতো?
  • عَتَوْا – তারা সীমালঙ্ঘন করেছে, বিদ্রোহ করেছে।
  • عُتُوًّا كَبِيرًا – চরম/মহা বিদ্রোহ ও সীমালঙ্ঘন।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

যারা পুনরুত্থান ও আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে না, তারা ঔদ্ধত্যের সাথে বলতে থাকে: “আমাদের কাছে ফেরেশতা কেন নাযিল করা হলো না? অথবা আমরা আমাদের রবকে কেন দেখতে পাচ্ছি না?” — অর্থাৎ তারা দাবি করে, যদি ফেরেশতা এসে সাক্ষ্য দিত অথবা তারা নিজ চোখে আল্লাহকে দেখতে পেত, তবেই তারা ঈমান আনত।

তাদের এই দাবি মূলত সত্য অন্বেষণের জন্য ছিল না, বরং ছিল নিছক অজুহাত ও প্রবৃত্তির অনুসরণ। কারণ তারা জানত, আল্লাহকে দুনিয়ায় দেখা সম্ভব নয়, আর ফেরেশতা নাযিল হওয়ার পরও তারা ঈমান আনত না — যেমন পূর্ববর্তী সম্প্রদায়গুলো ফেরেশতা দেখেও ঈমান আনে নি।

আল্লাহ তা‘আলা তাদের এই অবস্থার সমালোচনা করে বলেন: তারা নিজেদের অন্তরে অহংকারে পূর্ণ হয়ে গেছে এবং চরম সীমালঙ্ঘন ও বিদ্রোহে লিপ্ত হয়েছে। তাদের এই কথা প্রমাণ করে যে, তারা কত বড় অহংকারী ও অবাধ্য — কারণ তারা এমন জিনিস দাবি করছে যা তাদের অবস্থান ও মর্যাদার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, বরং তা তাদের কুফরি ও অহংকারেরই বহিঃপ্রকাশ।


শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. অহংকার ও ঔদ্ধত্য — ঈমানের পথে সবচেয়ে বড় বাধা: এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, অহংকার মানুষকে সত্য গ্রহণ থেকে বিরত রাখে। যারা নিজেদেরকে বড় মনে করে, তারা আল্লাহর নির্দেশ ও রাসূলের আহ্বান মানতে চায় না।
  2. অজুহাত তৈরি করা — মুনাফিকদের স্বভাব: সত্যকে মেনে নেওয়ার জন্য মানুষ নানা রকম অজুহাত দাঁড় করায়। কিন্তু প্রকৃত সন্ধানী অন্তর অজুহাত নয়, সত্যকে গ্রহণ করার পথ খোঁজে।
  3. আল্লাহকে দুনিয়ায় দেখা সম্ভব নয়: আল্লাহকে দেখা তো আখিরাতের বিষয়। দুনিয়ায় কেউ আল্লাহকে দেখতে চাইলে তা অহংকার ও অজ্ঞতার পরিচায়ক। মুমিনের কাজ হলো আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলা, তাঁকে দেখার দাবি করা নয়।
  4. ঈমানের পূর্বশর্ত — বিনয় ও নম্রতা: ঈমান আনার জন্য প্রয়োজন বিনয়ী অন্তর। যে অন্তরে অহংকার থাকে, সে কখনো সত্যকে মেনে নিতে পারে না। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর সামনে নিজেকে ছোট করা এবং তাঁর নির্দেশের কাছে আত্মসমর্পণ করা।
  5. কুরআন ও রাসূলের শিক্ষাই যথেষ্ট: আল্লাহ আমাদের জন্য কুরআন নাযিল করেছেন এবং রাসূল (সা.)-কে পাঠিয়েছেন। এটাই আমাদের জন্য যথেষ্ট হিদায়াত। এরপরও যদি কেউ অজুহাত দেখায়, তবে তা তার নিজের অন্তরের রোগেরই প্রমাণ।


📜 আয়াত 19-23 — সূরা আল-ফুরকান

19فَقَدْ كَذَّبُوكُم بِمَا تَقُولُونَ فَمَا تَسْتَطِيعُونَ صَرْفًا وَلَا نَصْرًا ۚ وَمَن يَظْلِم مِّنكُمْ نُذِقْهُ عَذَابًا كَبِيرًا
আল্লাহ মুশরিকদেরকে বলবেন, তোমাদের কথা তো তারা মিথ্যা সাব্যস্ত করল, এখন তোমরা শাস্তি প্রতিরোধ করতে পারবে না এবং সাহায্যও করতে পারবে না। তোমাদের মধ্যে যে গোনাহগার আমি তাকে গুরুতর শাস্তি আস্বাদন করাব।
20وَمَا أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِنَ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا إِنَّهُمْ لَيَأْكُلُونَ الطَّعَامَ وَيَمْشُونَ فِي الْأَسْوَاقِ ۗ وَجَعَلْنَا بَعْضَكُمْ لِبَعْضٍ فِتْنَةً أَتَصْبِرُونَ ۗ وَكَانَ رَبُّكَ بَصِيرًا
আপনার পূর্বে যত রসূল প্রেরণ করেছি, তারা সবাই খাদ্য গ্রহণ করত এবং হাটে-বাজারে চলাফেরা করত। আমি তোমাদের এককে অপরের জন্যে পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। দেখি, তোমরা সবর কর কিনা। আপনার পালনকর্তা সব কিছু দেখেন।
21۞ وَقَالَ الَّذِينَ لَا يَرْجُونَ لِقَاءَنَا لَوْلَا أُنزِلَ عَلَيْنَا الْمَلَائِكَةُ أَوْ نَرَىٰ رَبَّنَا ۗ لَقَدِ اسْتَكْبَرُوا فِي أَنفُسِهِمْ وَعَتَوْا عُتُوًّا كَبِيرًا
যারা আমার সাক্ষাৎ আশা করে না, তারা বলে, আমাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ করা হল না কেন? অথবা আমরা আমাদের পালনকর্তাকে দেখি না কেন? তারা নিজেদের অন্তরে অহংকার পোষণ করে এবং গুরুতর অবাধ্যতায় মেতে উঠেছে।
22يَوْمَ يَرَوْنَ الْمَلَائِكَةَ لَا بُشْرَىٰ يَوْمَئِذٍ لِّلْمُجْرِمِينَ وَيَقُولُونَ حِجْرًا مَّحْجُورًا
যেদিন তারা ফেরেশতাদেরকে দেখবে, সেদিন অপরাধীদের জন্যে কোন সুসংবাদ থাকবে না এবং তারা বলবে, কোন বাধা যদি তা আটকে রাখত।
23وَقَدِمْنَا إِلَىٰ مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَّنثُورًا
আমি তাদের কৃতকর্মের প্রতি মনোনিবেশ করব, অতঃপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধুলিকণারূপে করে দেব।
আল-ফুরকানকুরআন সূচী
77আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
21আয়াত

অনুবাদ — আল-ফুরকান 21

সূরা আল-ফুরকান আয়াত 21 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যারা আমার সাক্ষাৎ আশা করে না, তারা বলে, আমাদের কাছে…

সূরা আয়াত 21/77 — সূরা আল-ফুরকান الفرقان (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-ফুরকান শুনুন, সূরা আল-ফুরকান অনুবাদ, সূরা আল-ফুরকান mp3, সূরা আল-ফুরকান pdf. আয়াত 19–23. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Thursday, October 1, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না