আল-ফুরকান · 47/77
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-ফুরকান
وَهُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ اللَّيْلَ لِبَاسًا وَالنَّوْمَ سُبَاتًا وَجَعَلَ النَّهَارَ نُشُورًا ۝٤٧
Wa Huwal lazee ja`ala lakumul laila libaasanw wannawma subaatanw wa ja`alan nahaara nushooraa
📖 বাংলা অর্থ
তিনিই তো তোমাদের জন্যে রাত্রিকে করেছেন আবরণ, নিদ্রাকে বিশ্রাম এবং দিনকে করেছেন বাইরে গমনের জন্যে।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • لِبَاسًا — আবরণ, ঢাকনা, পোশাক।
  • سُبَاتًا — বিশ্রাম, আরাম, নিদ্রা (যা ক্লান্তি দূর করে)।
  • نُشُورًا — বিস্তার লাভের সময়, জীবিকা অন্বেষণে ছড়িয়ে পড়ার সময়।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

আল্লাহ তা‘আলাই সেই সত্তা যিনি তোমাদের জন্য রাতকে করেছেন আবরণস্বরূপ—তার অন্ধকার তোমাদেরকে ঢেকে রাখে, যেমন পোশাক শরীরকে ঢেকে রাখে। রাতের এই আঁধার তোমাদের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তা বয়ে আনে, যখন তোমরা বিশ্রাম নাও এবং চারপাশের কোলাহল থেকে আত্মগোপন করো। আর তিনি নিদ্রাকে করেছেন তোমাদের জন্য বিশ্রামের উপায়—যার মাধ্যমে তোমাদের শরীরের ক্লান্তি দূর হয়, শক্তি ফিরে আসে এবং মন প্রশান্ত হয়। আর দিনকে করেছেন জীবিকা অন্বেষণের জন্য বিস্তৃত হওয়ার সময়—তোমরা যখন ঘুম থেকে জেগে উঠে নিজ নিজ কাজে বেরিয়ে পড়ো, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাষাবাদ বা অন্য কোনো বৈধ উপায়ে রিজিকের সন্ধান করো। এভাবে আল্লাহ রাত, নিদ্রা ও দিন—এই তিনটি নিয়ামতের মাধ্যমে তোমাদের জীবনকে সুশৃঙ্খল ও সুখময় করে দিয়েছেন।

উপকারিতা ও শিক্ষা:

  1. এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, রাত-দিনের পরিবর্তন, নিদ্রা ও জাগরণ—এসব আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহ। তাঁর এই ব্যবস্থাপনা ছাড়া মানুষের জীবন অচল হয়ে যেত।
  2. রাতের অন্ধকার ও নিদ্রা আমাদের জন্য প্রশান্তির মাধ্যম—এতে আমরা আল্লাহর রহমতের স্বাদ পাই এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হতে শিখি।
  3. দিনকে জীবিকা অর্জনের সময় বানিয়ে আল্লাহ আমাদেরকে পরিশ্রম ও কর্মমুখী হতে উৎসাহিত করেছেন। ইসলাম অলসতা ও আত্মবিমুখতাকে পছন্দ করে না, বরং পরিশ্রম করে হালাল রিজিক অন্বেষণকে ইবাদতের অংশ মনে করে।
  4. এই আয়াত আমাদেরকে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও ভক্তি জাগিয়ে তোলে—যিনি আমাদের প্রতিটি প্রয়োজন মেটানোর ব্যবস্থা করেছেন, এমনকি ঘুমের মতো নিয়ামতও দিয়েছেন যা ছাড়া আমরা ক্লান্তিতে ভেঙে পড়তাম।
  5. এখানে মানুষের জন্য একটি গভীর শিক্ষা রয়েছে—যেভাবে রাতের পর দিন আসে, তেমনি কষ্টের পর স্বস্তি আসে। তাই জীবনের কোনো সংকটে হতাশ না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা উচিত।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 45-49 — আল-ফুরকান

45أَلَمْ تَرَ إِلَىٰ رَبِّكَ كَيْفَ مَدَّ الظِّلَّ وَلَوْ شَاءَ لَجَعَلَهُ سَاكِنًا ثُمَّ جَعَلْنَا الشَّمْسَ عَلَيْهِ دَلِيلًا
তুমি কি তোমার পালনকর্তাকে দেখ না, তিনি কিভাবে ছায়াকে বিলম্বিত করেন? তিনি ইচ্ছা করলে একে স্থির রাখতে পারতেন। এরপর আমি সূর্যকে করেছি এর নির্দেশক।
46ثُمَّ قَبَضْنَاهُ إِلَيْنَا قَبْضًا يَسِيرًا
অতঃপর আমি একে নিজের দিকে ধীরে ধীরে গুটিয়ে আনি।
47وَهُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ اللَّيْلَ لِبَاسًا وَالنَّوْمَ سُبَاتًا وَجَعَلَ النَّهَارَ نُشُورًا
তিনিই তো তোমাদের জন্যে রাত্রিকে করেছেন আবরণ, নিদ্রাকে বিশ্রাম এবং দিনকে করেছেন বাইরে গমনের জন্যে।
48وَهُوَ الَّذِي أَرْسَلَ الرِّيَاحَ بُشْرًا بَيْنَ يَدَيْ رَحْمَتِهِ ۚ وَأَنزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً طَهُورًا
তিনিই স্বীয় রহমতের প্রাক্কালে বাতাসকে সুসংবাদবাহীরূপে প্রেরণ করেন। এবং আমি আকাশ থেকে পবিত্রতা অর্জনের জন্যে পানি বর্ষণ করি।
49لِّنُحْيِيَ بِهِ بَلْدَةً مَّيْتًا وَنُسْقِيَهُ مِمَّا خَلَقْنَا أَنْعَامًا وَأَنَاسِيَّ كَثِيرًا
তদ্দ্বারা মৃত ভূভাগকে সঞ্জীবিত করার জন্যে এবং আমার সৃষ্ট জীবজন্তু ও অনেক মানুষের তৃষ্ণা নিবারণের জন্যে।
আল-ফুরকানকুরআন সূচী
77আয়াত
মাক্কীRevelation
47আয়াত

অনুবাদ — আল-ফুরকান 47

সূরা আল-ফুরকান আয়াত 47 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তিনিই তো তোমাদের জন্যে রাত্রিকে করেছেন আবরণ, নিদ্রাকে বিশ্রাম এবং…

সূরা আয়াত 47/77 — আল-ফুরকান الفرقان (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-ফুরকান শুনুন, আল-ফুরকান অনুবাদ, আল-ফুরকান mp3, আল-ফুরকান pdf. আয়াত 45–49. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না