Laqad mannal laahu `alal mu`mineena iz ba`asa feehim Rasoolam min anfusihim yatloo `alaihim Aayaatihee wa yuzakkeehim wa yu`allimu humul Kitaaba wal Hikmata wa in kaanoo min qablu lafee dalaalim mubeen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আল্লাহ ঈমানদারদের উপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তাদের মাঝে তাদের নিজেদের মধ্য থেকে নবী পাঠিয়েছেন। তিনি তাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন। তাদেরকে পরিশোধন করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও কাজের কথা শিক্ষা দেন। বস্তুতঃ তারা ছিল পূর্ব থেকেই পথভ্রষ্ট।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
ख़ुदा ने तो ईमानदारों पर बड़ा एहसान किया कि उनके वास्ते उन्हीं की क़ौम का एक रसूल भेजा जो उन्हें खुदा की आयतें पढ़ पढ़ के सुनाता है और उनकी तबीयत को पाकीज़ा करता है और उन्हें किताबे (ख़ुदा) और अक्ल की बातें सिखाता है अगरचे वह पहले खुली हुई गुमराही में पडे थे
আল্লাহ ঈমানদারদের উপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তাদের মাঝে তাদের নিজেদের মধ্য থেকে নবী পাঠিয়েছেন। তিনি তাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন। তাদেরকে পরিশোধন করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও কাজের কথা শিক্ষা দেন। বস্তুতঃ তারা ছিল পূর্ব থেকেই পথভ্রষ্ট।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
مَنَّ = অনুগ্রহ করা, নেয়ামত দান করা।
بَعَثَ = প্রেরণ করা, পাঠানো।
مِنْ أَنفُسِهِمْ = তাদের নিজেদের মধ্য থেকেই।
يَتْلُو = পাঠ করে শোনানো, তিলাওয়াত করা।
يُزَكِّيهِمْ = তাদেরকে পবিত্র করা, শিরক ও মন্দ চরিত্র থেকে পরিশুদ্ধ করা।
الْحِكْمَةَ = সুন্নাহ (রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শিক্ষা ও আদর্শ)।
ضَلَالٍ مُّبِينٍ = স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতা।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
আল্লাহ তাআলা মুমিনদের প্রতি অপরিসীম অনুগ্রহ করেছেন—তিনি তাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদেরই একজন মানুষ, তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি বোঝেন, যাতে তারা সহজে তার কথা বুঝতে পারে এবং তার কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারে। এই রাসূলের দায়িত্ব ছিল চারটি প্রধান কাজ:
তিনি তাদের কাছে আল্লাহর আয়াতসমূহ (কুরআন) তিলাওয়াত করে শোনাতেন।
তিনি তাদেরকে পবিত্র করতেন—শিরক, মূর্তিপূজা, কুসংস্কার এবং নৈতিক অবক্ষয় থেকে পরিশুদ্ধ করতেন।
তিনি তাদেরকে কিতাব (কুরআন) শিক্ষা দিতেন।
তিনি তাদেরকে হিকমত (সুন্নাহ ও দ্বীনের সঠিক জ্ঞান) শেখাতেন।
এর আগে এই উম্মত স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত ছিল—তারা মূর্তিপূজা করত, কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দিত, সুদ খেত, অন্যায় ও অত্যাচার চরমে পৌঁছেছিল। জ্ঞান-বিজ্ঞান, নৈতিকতা ও সভ্যতার দিক থেকে তারা ছিল সম্পূর্ণ অন্ধকারে। আল্লাহর এই রাসূল প্রেরণের মাধ্যমেই তারা সেই ঘোর অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আলোর পথে আসে।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
আল্লাহর সবচেয়ে বড় নেয়ামত হলো হেদায়াতের পথ পাওয়া, আর তার সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম হলো রাসূল ﷺ-এর আগমন। তাই আমাদের উচিত এই নেয়ামতের জন্য সর্বদা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা।
রাসূল ﷺ-এর আগমন ছিল মানবজাতির জন্য রহমত—তিনি শুধু জ্ঞান দেননি, সাথে সাথে চরিত্র পরিশুদ্ধ করার ব্যবস্থাও করেছেন। এতে বোঝা যায়, প্রকৃত শিক্ষা মানে শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও নৈতিকতা অর্জনই আসল শিক্ষা।
কুরআন ও সুন্নাহ (হিকমত) উভয়ই অনুসরণ করা জরুরি—একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটি ধরা যায় না। কারণ রাসূল ﷺ-এর সুন্নাহই কুরআনের বাস্তব ব্যাখ্যা।
এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ইসলামের আগে মানুষ ছিল ঘোর অন্ধকারে, আর ইসলামই তাদের আলোর পথ দেখিয়েছে। তাই ইসলামকে ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতার সাথে তা মেনে চলা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য।
আল্লাহর অনুগ্রহ পাওয়ার জন্য শর্ত হলো ঈমান—যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ করেন। তাই ঈমানকে শক্তিশালী করা এবং তা রক্ষা করা আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত।
আল্লাহ ঈমানদারদের উপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তাদের মাঝে তাদের নিজেদের মধ্য থেকে নবী পাঠিয়েছেন। তিনি তাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন। তাদেরকে পরিশোধন করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও কাজের কথা শিক্ষা দেন। বস্তুতঃ তারা ছিল পূর্ব থেকেই পথভ্রষ্ট।
যখন তোমাদের উপর একটি মুসীবত এসে পৌছাল, অথচ তোমরা তার পূর্বেই দ্বিগুণ কষ্টে পৌছে গিয়েছ, তখন কি তোমরা বলবে, এটা কোথা থেকে এল? তাহলে বলে দাও, এ কষ্ট তোমাদের উপর পৌছেছে তোমারই পক্ষ থেকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ের উপর ক্ষমতাশীল।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।