আল-ইমরান · 37/200
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-ইমরান
فَتَقَبَّلَهَا رَبُّهَا بِقَبُولٍ حَسَنٍ وَأَنبَتَهَا نَبَاتًا حَسَنًا وَكَفَّلَهَا زَكَرِيَّا ۖ كُلَّمَا دَخَلَ عَلَيْهَا زَكَرِيَّا الْمِحْرَابَ وَجَدَ عِندَهَا رِزْقًا ۖ قَالَ يَا مَرْيَمُ أَنَّىٰ لَكِ هَٰذَا ۖ قَالَتْ هُوَ مِنْ عِندِ اللَّهِ ۖ إِنَّ اللَّهَ يَرْزُقُ مَن يَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ ۝٣٧
Fataqabbalahaa Rabbuhaa biqaboolin hasaninw wa ambatahaa nabaatan hasananw wa kaffalahaa Zakariyyaa kullamaa dakhala `alaihaa Zakariyyal Mihraaba wajada `indahaa rizqan qaala yaa Maryamu annaa laki haazaa qaalat huwa min `indil laahi innal laaha yarzuqu mai yashaaa`u bighairi hisaab
📖 বাংলা অর্থ
অতঃপর তাঁর পালনকর্তা তাঁকে উত্তম ভাবে গ্রহণ করে নিলেন এবং তাঁকে প্রবৃদ্ধি দান করলেন-অত্যন্ত সুন্দর প্রবৃদ্ধি। আর তাঁকে যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে সমর্পন করলেন। যখনই যাকারিয়া মেহরাবের মধ্যে তার কছে আসতেন তখনই কিছু খাবার দেখতে পেতেন। জিজ্ঞেস করতেন "মারইয়াম! কোথা থেকে এসব তোমার কাছে এলো?" তিনি বলতেন, "এসব আল্লাহর নিকট থেকে আসে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বেহিসাব রিযিক দান করেন।"
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • تَقَبَّلَهَا – তাকে কবুল করে নিলেন।
  • بِقَبُولٍ حَسَنٍ – উত্তমভাবে গ্রহণ করা।
  • أَنبَتَهَا نَبَاتًا حَسَنًا – তাকে সুন্দরভাবে লালন-পালন করলেন (উত্তম বৃদ্ধির মতো করে গড়ে তুললেন)।
  • كَفَّلَهَا – তার দায়িত্বভার অর্পণ করলেন / তাকে কারও তত্ত্বাবধানে দিলেন।
  • الْمِحْرَابَ – ইবাদতের স্থান / বিশেষ কক্ষ (মসজিদের সম্মানিত স্থান)।
  • أَنَّى لَكِ هَذَا – এটা তোমার কাছে কোথা থেকে এলো?
  • بِغَيْرِ حِسَابٍ – কোনো হিসাব-নিকাশ ছাড়া / অগণিতভাবে।

তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা মারইয়াম (আঃ)-এর মা-এর মানত কবুল করলেন এবং তার কন্যা মারইয়ামকে উত্তমভাবে গ্রহণ করলেন। তিনি মারইয়ামকে অতি সুন্দরভাবে লালন-পালন করলেন, তাকে শারীরিক ও আধ্যাত্মিকভাবে পরিপূর্ণতা দান করলেন এবং তার প্রতি মানুষের অন্তরে ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিলেন। তার লালন-পালনের দায়িত্ব অর্পণ করা হলো নবী যাকারিয়্যা (আঃ)-এর ওপর, যিনি ছিলেন তার খালুর স্বামী এবং মসজিদের সেবক। যাকারিয়্যা (আঃ) তাকে মসজিদের একটি সম্মানিত কক্ষে (মিহরাবে) রাখলেন।

যখনই যাকারিয়্যা (আঃ) তার কাছে প্রবেশ করতেন, সেখানে দেখতে পেতেন উত্তম ও পবিত্র রিযিক — যেমন শীতকালে গ্রীষ্মের ফল এবং গ্রীষ্মকালে শীতের ফল, যা ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ মু'জিযা। তিনি বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন: "হে মারইয়াম! এ রিযিক তোমার কাছে কোথা থেকে আসছে?" তিনি উত্তরে বললেন: "এটা আল্লাহর কাছ থেকে আসে। নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অগণিত রিযিক দান করেন।" অর্থাৎ আল্লাহর দান কোনো হিসাব-নিকাশের অধীন নয়; তিনি নিজ অনুগ্রহে যাকে চান অপরিমেয় দান করেন।


শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. আল্লাহর কাছে পবিত্র উদ্দেশ্যে কিছু মানত করলে এবং তা আন্তরিকভাবে করলে আল্লাহ তা কবুল করেন এবং বরকত দান করেন।
  2. সন্তান লালন-পালনে শুধু মা-বাবার চেষ্টাই যথেষ্ট নয়, আল্লাহর সাহায্য ও রহমতই আসল। আল্লাহ যাকে চান উত্তমভাবে গড়ে তোলেন।
  3. নেককার ও আলেমদের তত্ত্বাবধানে সন্তানদের শিক্ষা-দীক্ষা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেমনটি মারইয়ামকে নবী যাকারিয়্যার তত্ত্বাবধানে দেওয়া হয়েছিল।
  4. আল্লাহর অনুগ্রহ ও রিযিক কোনো সীমাবদ্ধতার মধ্যে আবদ্ধ নয়। তিনি চাইলে অসম্ভবকে সম্ভব করেন এবং অগণিত নিয়ামত দান করেন।
  5. মারইয়াম (আঃ)-এর চরিত্র আমাদের জন্য আদর্শ — তিনি আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখেছিলেন এবং তাঁর কাছ থেকে আসা নিয়ামতকে কৃতজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করেছিলেন। আমাদেরও উচিত সব অবস্থায় আল্লাহর ওপর নির্ভর করা এবং তাঁর দানকে সাদরে গ্রহণ করা।
  6. এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তাঁর নেক বান্দাদের বিশেষভাবে সাহায্য করেন এবং তাদের জন্য অলৌকিক ব্যবস্থা করেন, যা আমাদের ঈমান ও আস্থা আরও দৃঢ় করে।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 35-39 — আল-ইমরান

35إِذْ قَالَتِ امْرَأَتُ عِمْرَانَ رَبِّ إِنِّي نَذَرْتُ لَكَ مَا فِي بَطْنِي مُحَرَّرًا فَتَقَبَّلْ مِنِّي ۖ إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
এমরানের স্ত্রী যখন বললো-হে আমার পালনকর্তা! আমার গর্ভে যা রয়েছে আমি তাকে তোমার নামে উৎসর্গ করলাম সবার কাছ থেকে মুক্ত রেখে। আমার পক্ষ থেকে তুমি তাকে কবুল করে নাও, নিশ্চয়ই তুমি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞাত।
36فَلَمَّا وَضَعَتْهَا قَالَتْ رَبِّ إِنِّي وَضَعْتُهَا أُنثَىٰ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا وَضَعَتْ وَلَيْسَ الذَّكَرُ كَالْأُنثَىٰ ۖ وَإِنِّي سَمَّيْتُهَا مَرْيَمَ وَإِنِّي أُعِيذُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
অতঃপর যখন তাকে প্রসব করলো বলল, হে আমার পালনকর্তা! আমি একে কন্যা প্রসব করেছি। বস্তুতঃ কি সে প্রসব করেছে আল্লাহ তা ভালই জানেন। সেই কন্যার মত কোন পুত্রই যে নেই। আর আমি তার নাম রাখলাম মারইয়াম। আর আমি তাকে ও তার সন্তানদেরকে তোমার আশ্রয়ে সমর্পণ করছি। অভিশপ্ত শয়তানের কবল থেকে।
37فَتَقَبَّلَهَا رَبُّهَا بِقَبُولٍ حَسَنٍ وَأَنبَتَهَا نَبَاتًا حَسَنًا وَكَفَّلَهَا زَكَرِيَّا ۖ كُلَّمَا دَخَلَ عَلَيْهَا زَكَرِيَّا الْمِحْرَابَ وَجَدَ عِندَهَا رِزْقًا ۖ قَالَ يَا مَرْيَمُ أَنَّىٰ لَكِ هَٰذَا ۖ قَالَتْ هُوَ مِنْ عِندِ اللَّهِ ۖ إِنَّ اللَّهَ يَرْزُقُ مَن يَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ
অতঃপর তাঁর পালনকর্তা তাঁকে উত্তম ভাবে গ্রহণ করে নিলেন এবং তাঁকে প্রবৃদ্ধি দান করলেন-অত্যন্ত সুন্দর প্রবৃদ্ধি। আর তাঁকে যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে সমর্পন করলেন। যখনই যাকারিয়া মেহরাবের মধ্যে তার কছে আসতেন তখনই কিছু খাবার দেখতে পেতেন। জিজ্ঞেস করতেন "মারইয়াম! কোথা থেকে এসব তোমার কাছে এলো?" তিনি বলতেন, "এসব আল্লাহর নিকট থেকে আসে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বেহিসাব রিযিক দান করেন।"
38هُنَالِكَ دَعَا زَكَرِيَّا رَبَّهُ ۖ قَالَ رَبِّ هَبْ لِي مِن لَّدُنكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً ۖ إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ
সেখানেই যাকারিয়া তাঁর পালনকর্তার নিকট প্রার্থনা করলেন। বললেন, হে, আমার পালনকর্তা! তোমার নিকট থেকে আমাকে পুত-পবিত্র সন্তান দান কর-নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী।
39فَنَادَتْهُ الْمَلَائِكَةُ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي فِي الْمِحْرَابِ أَنَّ اللَّهَ يُبَشِّرُكَ بِيَحْيَىٰ مُصَدِّقًا بِكَلِمَةٍ مِّنَ اللَّهِ وَسَيِّدًا وَحَصُورًا وَنَبِيًّا مِّنَ الصَّالِحِينَ
যখন তিনি কামরার ভেতরে নামাযে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন ফেরেশতারা তাঁকে ডেকে বললেন যে, আল্লাহ তোমাকে সুসংবাদ দিচ্ছেন ইয়াহইয়া সম্পর্কে, যিনি সাক্ষ্য দেবেন আল্লাহর নির্দেশের সত্যতা সম্পর্কে, যিনি নেতা হবেন এবং নারীদের সংস্পর্শে যাবেন না, তিনি অত্যন্ত সৎকর্মশীল নবী হবেন।
আল-ইমরানকুরআন সূচী
200আয়াত
মাদানীRevelation
37আয়াত

অনুবাদ — আল-ইমরান 37

সূরা আল-ইমরান আয়াত 37 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : অতঃপর তাঁর পালনকর্তা তাঁকে উত্তম ভাবে গ্রহণ করে নিলেন এবং…

সূরা আয়াত 37/200 — আল-ইমরান آل عمران (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-ইমরান শুনুন, আল-ইমরান অনুবাদ, আল-ইমরান mp3, আল-ইমরান pdf. আয়াত 35–39. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না