Hunaaalika da`aa Zakariyyaa Rabbahoo qaala Rabbi hab lee mil ladunka zurriyyatan taiyibatan innaka samee`ud du`aaa
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
সেখানেই যাকারিয়া তাঁর পালনকর্তার নিকট প্রার্থনা করলেন। বললেন, হে, আমার পালনকর্তা! তোমার নিকট থেকে আমাকে পুত-পবিত্র সন্তান দান কর-নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(ये माजरा देखते ही) उसी वक्त ज़करिया ने अपने परवरदिगार से दुआ कि और अर्ज क़ी ऐ मेरे पालने वाले तू मुझको (भी) अपनी बारगाह से पाकीज़ा औलाद अता फ़रमा बेशक तू ही दुआ का सुनने वाला है
সেখানেই যাকারিয়া তাঁর পালনকর্তার নিকট প্রার্থনা করলেন। বললেন, হে, আমার পালনকর্তা! তোমার নিকট থেকে আমাকে পুত-পবিত্র সন্তান দান কর-নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
هُنَالِكَ — সেখানেই, সেই সময়ে/সেই অবস্থায়।
دَعَا — প্রার্থনা করলেন, ডাকলেন।
زَكَرِيَّا — নবী যাকারিয়া (আঃ)।
هَبْ لِي — আমাকে দান কর।
مِن لَّدُنكَ — তোমার নিকট থেকে, তোমার পক্ষ থেকে।
ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً — পবিত্র/সৎ সন্তান-সন্ততি।
سَمِيعُ الدُّعَاءِ — প্রার্থনা শ্রবণকারী, যিনি ডাক শোনেন।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
যখন নবী যাকারিয়া (আঃ) দেখলেন যে, আল্লাহ তা‘আলা মরিয়ম (আঃ)-কে অলৌকিকভাবে রিযিক দান করছেন — তার কাছে এমন ফল-ফলাদি পৌঁছাচ্ছেন যা কোনো সাধারণ নিয়মে সেখানে থাকার কথা নয়, তখন তাঁর অন্তরে আল্লাহর অসীম ক্ষমতার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস ও আশা জাগ্রত হলো। তিনি ভাবলেন, আল্লাহ যিনি বিনা কারণে মরিয়মকে রিযিক দিচ্ছেন, তিনি তো আমার বৃদ্ধ বয়স ও স্ত্রীর বন্ধ্যাত্ব সত্ত্বেও আমাকে সন্তান দিতে সক্ষম।
তাই তিনি সেই মুহূর্তেই তাঁর রবের কাছে হাত তুলে প্রার্থনা করলেন। তিনি বললেন: “হে আমার রব! তোমার পক্ষ থেকে আমাকে একটি পবিত্র, সৎ ও বরকতময় সন্তান দান কর।” তিনি শুধু সন্তান চাননি, বরং চেয়েছেন “পবিত্র সন্তান” — অর্থাৎ যে সন্তান হবে নেককার, আল্লাহভীরু, দ্বীনের খেদমতকারী। তিনি আরও বললেন: “নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী” — অর্থাৎ তুমি আমার ডাক শুনছ এবং তুমি তা কবুল করতে সক্ষম।
উল্লেখ্য, যাকারিয়া (আঃ) তখন খুবই বৃদ্ধ ছিলেন এবং তাঁর স্ত্রীও ছিলেন বন্ধ্যা। কিন্তু আল্লাহর কুদরতের নমুনা দেখে তিনি হতাশ না হয়ে বরং আশা পোষণ করলেন এবং তাঁর প্রার্থনা আল্লাহ কবুল করলেন — তাঁকে ইয়াহইয়া (আঃ)-এর মতো মহান নবী সন্তান দান করলেন।
শিক্ষা ও ফায়দা:
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার সময় তাঁর ক্ষমতা ও করুণার প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখা চাই। যাকারিয়া (আঃ) বৃদ্ধ বয়সেও আশা হারাননি, কারণ তিনি জানতেন আল্লাহর শক্তি কোনো সীমাবদ্ধতার অধীন নয়।
সন্তান প্রার্থনার সময় শুধু সন্তান নয়, বরং “পবিত্র ও সৎ সন্তান” চাওয়া উচিত — যে সন্তান হবে পরিবার ও সমাজের জন্য রহমত, না হয় পরীক্ষা।
নবীগণও আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন এবং আমাদেরকে প্রার্থনার শিক্ষা দিয়েছেন। প্রার্থনা মুমিনের অস্ত্র — এটি আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন পেশ করার সর্বোত্তম মাধ্যম।
ভালো কাজ ও আল্লাহর অলৌকিক নিদর্শন দেখলে আমাদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও আশা বেড়ে যায় — এটি ইমানের আলামত। যাকারিয়া (আঃ) মরিয়মের কাছে আল্লাহর রিযিক দেখে প্রার্থনায় উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন।
আল্লাহ তাঁর বান্দার প্রার্থনা শোনেন এবং সময়মতো তা কবুল করেন। তাই হতাশ না হয়ে ধৈর্য ও দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে প্রার্থনা চালিয়ে যাওয়া প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য।
অতঃপর যখন তাকে প্রসব করলো বলল, হে আমার পালনকর্তা! আমি একে কন্যা প্রসব করেছি। বস্তুতঃ কি সে প্রসব করেছে আল্লাহ তা ভালই জানেন। সেই কন্যার মত কোন পুত্রই যে নেই। আর আমি তার নাম রাখলাম মারইয়াম। আর আমি তাকে ও তার সন্তানদেরকে তোমার আশ্রয়ে সমর্পণ করছি। অভিশপ্ত শয়তানের কবল থেকে।
অতঃপর তাঁর পালনকর্তা তাঁকে উত্তম ভাবে গ্রহণ করে নিলেন এবং তাঁকে প্রবৃদ্ধি দান করলেন-অত্যন্ত সুন্দর প্রবৃদ্ধি। আর তাঁকে যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে সমর্পন করলেন। যখনই যাকারিয়া মেহরাবের মধ্যে তার কছে আসতেন তখনই কিছু খাবার দেখতে পেতেন। জিজ্ঞেস করতেন "মারইয়াম! কোথা থেকে এসব তোমার কাছে এলো?" তিনি বলতেন, "এসব আল্লাহর নিকট থেকে আসে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বেহিসাব রিযিক দান করেন।"
সেখানেই যাকারিয়া তাঁর পালনকর্তার নিকট প্রার্থনা করলেন। বললেন, হে, আমার পালনকর্তা! তোমার নিকট থেকে আমাকে পুত-পবিত্র সন্তান দান কর-নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী।
যখন তিনি কামরার ভেতরে নামাযে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন ফেরেশতারা তাঁকে ডেকে বললেন যে, আল্লাহ তোমাকে সুসংবাদ দিচ্ছেন ইয়াহইয়া সম্পর্কে, যিনি সাক্ষ্য দেবেন আল্লাহর নির্দেশের সত্যতা সম্পর্কে, যিনি নেতা হবেন এবং নারীদের সংস্পর্শে যাবেন না, তিনি অত্যন্ত সৎকর্মশীল নবী হবেন।
তিনি বললেন হে পালনকর্তা! কেমন করে আমার পুত্র সন্তান হবে, আমার যে বার্ধক্য এসে গেছে, আমার স্ত্রীও যে বন্ধ্যা। বললেন, আল্লাহ এমনি ভাবেই যা ইচ্ছা করে থাকেন।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।