আন-নিসা · 1/176
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নিসা
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا ۝١
Yaaa aiyuhan naasut taqoo Rabbakumul lazee khalaqakum min nafsinw waahidatinw wa khalaqa minhaa zawjahaa wa bas sa minhumaa rijaalan kaseeranw wa nisaaa`aa; wattaqul laahallazee tasaaa `aloona bihee wal arhaam; innal laaha kaana `alaikum Raqeeba
📖 বাংলা অর্থ
হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞ্ঝা করে থাক এবং আত্নীয় জ্ঞাতিদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দের অর্থ:

  • اتَّقُوا — তাকওয়া অবলম্বন করো, আল্লাহর ভয় রেখে তাঁর আদেশ পালন করো এবং নিষেধ থেকে বিরত থাকো।
  • نَفْسٍ وَاحِدَةٍ — একই সত্তা বা এক ব্যক্তি, অর্থাৎ আদম (আঃ)।
  • زَوْجَهَا — তার সঙ্গী/স্ত্রী, অর্থাৎ হাওয়া (আঃ)।
  • بَثَّ — ছড়িয়ে দিয়েছেন, বিস্তার করেছেন।
  • تَسَاءَلُونَ بِهِ — যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে চাওয়া-পাওয়া বা দাবি করে থাকো (যেমন: "আমি তোমাকে আল্লাহর নামে বলছি...")।
  • الْأَرْحَامَ — জ্ঞাতি-আত্মীয়তার সম্পর্ক, রক্তসম্পর্কের বন্ধন।
  • رَقِيبًا — তত্ত্বাবধানকারী, পর্যবেক্ষক, যিনি সবকিছু দেখছেন ও হিসাব রাখছেন।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

হে মানবজাতি! তোমরা সবাই তোমাদের প্রতিপালকের তাকওয়া অবলম্বন করো—অর্থাৎ তাঁর আদেশ মেনে চলো এবং তাঁর নিষেধ থেকে দূরে থাকো। তিনি সেই সত্তা যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন একই ব্যক্তি থেকে—তিনি আদম (আঃ)। তারপর সেই একই ব্যক্তি থেকে তার সঙ্গীকে সৃষ্টি করেছেন, অর্থাৎ হাওয়া (আঃ)-কে। এরপর তিনি এই দুইজন থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দিয়েছেন অসংখ্য নর-নারী। সুতরাং তোমাদের সবার উৎস এক—তোমরা সবাই এক পিতা-মাতার সন্তান। তাই তোমাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য বা শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করা উচিত নয় বংশ বা গোত্রের ভিত্তিতে।

আরও তাকওয়া অবলম্বন করো সেই আল্লাহর—যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে কিছু চেয়ে থাকো বা দাবি করে থাকো। যেমন কেউ বলে: "আমি তোমাকে আল্লাহর নামে বলছি, এই কাজটি করো।" অর্থাৎ আল্লাহকে ভয় করো এবং তাঁর নামের মর্যাদা রক্ষা করো। আরও ভয় করো আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার ব্যাপারে—অর্থাৎ জ্ঞাতি-আত্মীয়দের সাথে সদ্ব্যবহার করো এবং তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা থেকে বিরত থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর সর্বদা তত্ত্বাবধানকারী—তিনি তোমাদের প্রতিটি কাজ, কথা ও অবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত এবং সবকিছুর হিসাব তিনি গ্রহণ করবেন।


শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. এই আয়াত প্রমাণ করে যে, সমস্ত মানবজাতি একই বংশধারা থেকে এসেছে—আদম (আঃ) ও হাওয়া (আঃ) থেকে। তাই বর্ণ, ভাষা, দেশ বা গোত্রের ভিত্তিতে কাউকে ছোট বা বড় মনে করার কোনো সুযোগ নেই। ইসলামে শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মাপকাঠি হলো তাকওয়া।
  2. তাকওয়া বা আল্লাহভীতি হলো জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতার চাবিকাঠি। এটি মানুষকে অন্যায়, অত্যাচার ও পাপ থেকে বিরত রাখে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করে।
  3. আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ আদেশ। আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, তাদের খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনে সাহায্য করা প্রতিটি মুসলিমের কর্তব্য। সম্পর্ক ছিন্ন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
  4. আল্লাহ সর্বদা আমাদের ওপর নজর রাখছেন—তিনি আমাদের গোপন ও প্রকাশ্য সবকিছু জানেন। এই উপলব্ধি মানুষকে সৎকর্মে উদ্বুদ্ধ করে এবং পাপ থেকে দূরে রাখে। যখন আমরা জানি যে, আল্লাহ আমাদের প্রতিটি কাজ দেখছেন, তখন আমরা তাঁর অবাধ্য হওয়ার সাহস পাই না।
  5. এই আয়াত মানবজাতির ঐক্যের একটি সুন্দর বার্তা বহন করে। যেহেতু সবাই একই পিতা-মাতার সন্তান, তাই আমাদের উচিত পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা, সহানুভূতি ও ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক বজায় রাখা এবং পৃথিবীতে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 1-3 — আন-নিসা

1يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا
হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞ্ঝা করে থাক এবং আত্নীয় জ্ঞাতিদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন।
2وَآتُوا الْيَتَامَىٰ أَمْوَالَهُمْ ۖ وَلَا تَتَبَدَّلُوا الْخَبِيثَ بِالطَّيِّبِ ۖ وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَهُمْ إِلَىٰ أَمْوَالِكُمْ ۚ إِنَّهُ كَانَ حُوبًا كَبِيرًا
এতীমদেরকে তাদের সম্পদ বুঝিয়ে দাও। খারাপ মালামালের সাথে ভালো মালামালের অদল-বদল করো না। আর তাদের ধন-সম্পদ নিজেদের ধন-সম্পদের সাথে সংমিশ্রিত করে তা গ্রাস করো না। নিশ্চয় এটা বড়ই মন্দ কাজ।
3وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَىٰ فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاءِ مَثْنَىٰ وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ ۖ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَدْنَىٰ أَلَّا تَعُولُوا
আর যদি তোমরা ভয় কর যে, এতীম মেয়েদের হক যথাথভাবে পুরণ করতে পারবে না, তবে সেসব মেয়েদের মধ্যে থেকে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায় সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে, একটিই অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদেরকে; এতেই পক্ষপাতিত্বে জড়িত না হওয়ার অধিকতর সম্ভাবনা।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীRevelation
1আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 1

সূরা আন-নিসা আয়াত 1 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে…

সূরা আয়াত 1/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 1–3. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না