Wa aatul yataamaaa amwaalahum wa laa tatabad dalul khabeesa bittaiyibi wa laa taakulooo amwaalahum ilaaa amwaalikum; innahoo kaana hooban kabeeraa
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
এতীমদেরকে তাদের সম্পদ বুঝিয়ে দাও। খারাপ মালামালের সাথে ভালো মালামালের অদল-বদল করো না। আর তাদের ধন-সম্পদ নিজেদের ধন-সম্পদের সাথে সংমিশ্রিত করে তা গ্রাস করো না। নিশ্চয় এটা বড়ই মন্দ কাজ।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और यतीमों को उनके माल दे दो और बुरी चीज़ (माले हराम) को भली चीज़ (माले हलाल) के बदले में न लो और उनके माल अपने मालों में मिलाकर न चख जाओ क्योंकि ये बहुत बड़ा गुनाह है
এতীমদেরকে তাদের সম্পদ বুঝিয়ে দাও। খারাপ মালামালের সাথে ভালো মালামালের অদল-বদল করো না। আর তাদের ধন-সম্পদ নিজেদের ধন-সম্পদের সাথে সংমিশ্রিত করে তা গ্রাস করো না। নিশ্চয় এটা বড়ই মন্দ কাজ।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
يَتَامَىٰ (ইয়াতামা) — এখানে উদ্দেশ্য সেই সকল শিশু-কিশোর যাদের পিতা মারা গেছেন এবং যারা এখনো বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) হয়নি।
الْخَبِيثَ (আল-খাবীস) — নিকৃষ্ট, হারাম বা অপবিত্র বস্তু।
الطَّيِّبَ (আত-তাইয়্যিব) — উত্তম, হালাল বা পবিত্র বস্তু।
حُوبًا (হূবান) — মহাপাপ, গুরুতর গুনাহ।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
হে অভিভাবকগণ! যাদের পিতা মারা গেছেন এবং যারা এখনো প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি, সেই ইয়াতীমদের সম্পদ তাদের কাছে হস্তান্তর করো যখন তারা বালেগ হবে এবং তাদের সম্পদ রক্ষা করার সামর্থ্য ও বুদ্ধি-বিবেচনার পরিচয় দেবে। তাদের সম্পদ আত্মসাৎ করো না।
তোমরা নিজেদের নিকৃষ্ট ও হারাম বস্তু দিয়ে ইয়াতীমদের উত্তম ও পবিত্র সম্পদ বদল করো না। অর্থাৎ, তাদের ভালো জিনিস নিজেরা নিয়ে সেটার বদলে নিজেদের খারাপ জিনিস তাদের দিয়ো না। এটা ছিল জাহেলী যুগের একটি খারাপ অভ্যাস, যা ইসলাম সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করেছে।
আর তোমরা ইয়াতীমদের সম্পদ নিজেদের সম্পদের সাথে মিশিয়ে ফেলো না, যাতে করে সেই অজুহাতে তাদের সম্পদ গ্রাস করতে পারো। তাদের সম্পদকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখো এবং তাদের স্বার্থ রক্ষা করো। নিশ্চয়ই ইয়াতীমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে খাওয়া আল্লাহর নিকট একটি মহাপাপ। যারা এমন করে তারা নিজেদের জন্য ভয়ানক শাস্তি ডেকে আনে।
শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ:
ইয়াতীমদের সম্পদ রক্ষা করা এবং তা তাদের কাছে সঠিক সময়ে হস্তান্তর করা মুসলিমদের উপর ফরজ দায়িত্ব। এটি তাদের প্রতি দয়া ও ইনসাফের প্রতীক।
অন্যায়ভাবে কারো সম্পদ আত্মসাৎ করা, বিশেষ করে অসহায় ইয়াতীমের সম্পদ, ইসলামে কবিরা গুনাহ (মহাপাপ) হিসেবে গণ্য। এর পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ।
উত্তম বস্তু নিজে রেখে নিকৃষ্ট বস্তু অপরকে দেওয়া প্রতারণা ও জুলুমের শামিল। ইসলাম সব ধরনের প্রতারণা ও শোষণ থেকে বিরত থাকতে শিক্ষা দেয়।
ইসলাম সমাজের দুর্বল ও অসহায় শ্রেণির অধিকার রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। ইয়াতীমদের প্রতি সদয় ব্যবহার এবং তাদের সম্পদের হেফাজত করা মুমিনের ঈমানের পরিচয় বহন করে।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, দুনিয়ার সম্পদ আল্লাহর আমানত। আমাদের উপর অর্পিত এই আমানত যথাযথভাবে আদায় করা আমাদের দায়িত্ব। যে ব্যক্তি আমানতে খিয়ানত করে, সে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে।
হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞ্ঝা করে থাক এবং আত্নীয় জ্ঞাতিদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন।
এতীমদেরকে তাদের সম্পদ বুঝিয়ে দাও। খারাপ মালামালের সাথে ভালো মালামালের অদল-বদল করো না। আর তাদের ধন-সম্পদ নিজেদের ধন-সম্পদের সাথে সংমিশ্রিত করে তা গ্রাস করো না। নিশ্চয় এটা বড়ই মন্দ কাজ।
আর যদি তোমরা ভয় কর যে, এতীম মেয়েদের হক যথাথভাবে পুরণ করতে পারবে না, তবে সেসব মেয়েদের মধ্যে থেকে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায় সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে, একটিই অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদেরকে; এতেই পক্ষপাতিত্বে জড়িত না হওয়ার অধিকতর সম্ভাবনা।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।