Mishary Rashid Alafasy
✓
Mahmoud Khalil Al-Husary
✓
Abdurrahman As-Sudais
✓
Mohamed Siddiq Al-Minshawi
✓
Abdul Basit Abdul Samad
✓
Ali Al-Hudhaify
✓
Ahmed ibn Ali al-Ajamy
✓
Abu Bakr Ash-Shaatree
✓
Muhammad Ayyoub
✓
Abdullah Basfar
✓
Abdullah Al-Juhani
✓
Maher Al Muaiqly
✓
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
- আমানী (أمانيّ): খালি খেয়াল-খুশি, মিথ্যা আশা-আকাঙ্ক্ষা, বা এমন প্রত্যাশা যা কোনো বাস্তব ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে নয়।
- সূ’আন (سوءًا): মন্দ কাজ, গুনাহ বা অন্যায়।
- ইউজা বিহী (يُجْزَ بِهِ): এর প্রতিফল দেওয়া হবে, শাস্তি বা ফল ভোগ করতে হবে।
- ওয়ালিয়্যুন (وَلِيًّا): বন্ধু, অভিভাবক, যে সাহায্য করে বা দায়িত্ব নেয়।
- নাসীরুন (نَصِيرًا): সাহায্যকারী, রক্ষাকারী।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর অনুগ্রহ, ক্ষমা ও জান্নাত লাভ করা যায় না শুধু মুখে মুখে দাবি করা বা মিথ্যা আশা-আকাঙ্ক্ষা পোষণ করার মাধ্যমে। মুসলিমরা যেমন মনে করে—‘আমরা মুসলিম, তাই জান্নাতে যাবই’, তেমনি আহলে কিতাব (ইয়াহুদী ও নাসারা)রাও দাবি করে—‘আমরা আল্লাহর প্রিয় উম্মত, আমাদের জন্যই জান্নাত’। আল্লাহ বলছেন, এই ধরনের খালি আশা-আকাঙ্ক্ষা বা অলীক কল্পনার কোনো মূল্য নেই। আসল কথা হলো ঈমান ও সৎকর্ম। যে ব্যক্তি ঈমান আনে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালো কাজ করে, সে-ই সফলকাম।
এরপর আল্লাহ ঘোষণা করছেন—‘যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে, সে তার প্রতিফল পাবে।’ এটি একটি সার্বজনীন ও ন্যায়সংগত বিধান। কেউ যদি গুনাহ করে, তবে তাকে তার ফল ভোগ করতেই হবে। দুনিয়ায় কেউ কষ্ট, রোগ-ব্যথা, দুঃখ-দুর্দশায় পড়লে তা তার গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়। আর আখিরাতে যে শাস্তি বাকি থাকে, তা থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নেই। কোনো বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন বা ক্ষমতাবান কেউই সেদিন কারো কোনো উপকার করতে পারবে না। প্রত্যেককে নিজের আমলের হিসাব নিজেকেই দিতে হবে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
- খালি আশায় না থেকে কাজ করতে হবে: শুধু মুখে ‘আমি মুসলিম’ বলা বা ‘আমি জান্নাতে যাব’ এই আশা পোষণ করা যথেষ্ট নয়। প্রকৃত সফলতা পেতে হলে ঈমানের সাথে সাথে সৎকর্ম করতে হবে। আল্লাহর আদেশ মানতে হবে এবং নিষেধ থেকে বাঁচতে হবে।
- ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা: এই আয়াত থেকে আমরা জানতে পারি যে, আল্লাহ সম্পূর্ণ ন্যায়বিচারক। কেউ খালি আশা-আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে পুরস্কার পাবে না, আবার কেউ অন্যায়ভাবে শাস্তিও পাবে না। প্রতিটি ভালো কাজের প্রতিদান এবং প্রতিটি মন্দ কাজের শাস্তি নিশ্চিত।
- দুনিয়ার কষ্ট গুনাহের কাফফারা: মুমিনের জন্য এটি বড় সান্ত্বনা যে, দুনিয়ায় যে কষ্ট, রোগ-ব্যথা বা বিপদ-আপদ আসে, তা তার গুনাহ মোচনের কারণ হয়। তাই মুমিন ধৈর্য ধারণ করলে তার জন্য তা কল্যাণকর।
- আখিরাতে একমাত্র আল্লাহই ভরসা: সেদিন কোনো মানুষ, কোনো শক্তি বা কোনো প্রতিষ্ঠান কারো কোনো উপকার করতে পারবে না। একমাত্র আল্লাহর রহমতই একমাত্র ভরসার জায়গা। তাই আমাদের উচিত সারা জীবন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা এবং তাঁর কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করা।
- সবাই সমান: এই আয়াত প্রমাণ করে যে, আল্লাহর কাছে জাতি, বর্ণ, গোত্র বা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কেউ বড় নয়। বড় সেই ব্যক্তি, যে তাকওয়া অর্জন করেছে এবং ভালো কাজ করেছে। তাই আমাদের উচিত অহংকার না করে বিনয়ের সাথে আল্লাহর ইবাদত করা।
📜 আয়াত 121-125 — সূরা আন-নিসা
অনুবাদ — আন-নিসা 123
সূরা আন-নিসা আয়াত 123 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তোমাদের আশার উপর ও ভিত্তি নয় এবং আহলে-কিতাবদের আশার উপরও…সূরা আয়াত 123/176 — সূরা আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আন-নিসা শুনুন, সূরা আন-নিসা অনুবাদ, সূরা আন-নিসা mp3, সূরা আন-নিসা pdf. আয়াত 121–125. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
সূরা আন-নিসা
পবিত্র কুরআন
Monday, September 28, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না


