Mishary Rashid Alafasy
✓
Mahmoud Khalil Al-Husary
✓
Abdurrahman As-Sudais
✓
Mohamed Siddiq Al-Minshawi
✓
Abdul Basit Abdul Samad
✓
Ali Al-Hudhaify
✓
Ahmed ibn Ali al-Ajamy
✓
Abu Bakr Ash-Shaatree
✓
Muhammad Ayyoub
✓
Abdullah Basfar
✓
Abdullah Al-Juhani
✓
Maher Al Muaiqly
✓
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
- السُّوءَ — মন্দ কাজ, গুনাহ বা পাপ।
- بِجَهَالَةٍ — অজ্ঞতাবশত, অর্থাৎ কাজের পরিণাম ও শাস্তি সম্পর্কে অজ্ঞ থেকে।
- مِن قَرِيبٍ — অল্প সময়ের মধ্যে, অর্থাৎ মৃত্যুর আগেই তওবা করা।
- يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ — আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করেন এবং তাদের প্রতি অনুগ্রহ করেন।
তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর পক্ষ থেকে তওবা কবুল করার প্রতিশ্রুতি কেবল তাদের জন্যই, যারা অজ্ঞতাবশত মন্দ কাজ বা গুনাহ করে ফেলে। এখানে "অজ্ঞতা" বলতে শুধু জ্ঞানের অভাব বোঝানো হয়নি; বরং যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে গুনাহ করে, সেও যদি গুনাহের পরিণাম, আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও শাস্তি সম্পর্কে চিন্তা না করে থাকে, তবে সে-ও এই অজ্ঞতার আওতাভুক্ত। কারণ প্রকৃত জ্ঞানী সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ সম্পর্কে সচেতন থেকে গুনাহ থেকে বিরত থাকে। অতএব, প্রত্যেক গুনাহগারই কোনো না কোনোভাবে অজ্ঞ — চাই সে জেনে-বুঝে গুনাহ করুক বা না জেনে।
এরপর বলা হয়েছে, তারা যেন "অল্প সময়ের মধ্যে" তওবা করে, অর্থাৎ মৃত্যুকে সামনে দেখার আগেই, মৃত্যুর রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগেই, যখন আর তওবার সুযোগ থাকে না। কারণ মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে তওবা আর কবুল হয় না। যে ব্যক্তি এই শর্তে তওবা করবে — অর্থাৎ গুনাহ ছেড়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসবে, অনুশোচনায় মন ভরিয়ে দেবে এবং ভবিষ্যতে গুনাহ না করার দৃঢ় সংকল্প করবে — আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন এবং তার পাপ মাফ করে দেবেন।
শেষে আল্লাহ নিজের দুটি গুণ বর্ণনা করেছেন: "আলিম" (সবকিছু জানেন) এবং "হাকিম" (প্রজ্ঞাময়)। অর্থাৎ, আল্লাহ প্রতিটি বান্দার অন্তরের অবস্থা, তওবার আন্তরিকতা ও সত্যতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। তিনি প্রজ্ঞার সাথে তওবা কবুলের নিয়ম নির্ধারণ করেছেন — যারা প্রকৃত অন্তর থেকে তওবা করে, তাদের তিনি ক্ষমা করেন; আর যারা মৃত্যুর সময় গিয়ে তওবা করে, তাদের তওবা কবুল করেন না, কারণ তা আর প্রকৃত তওবা থাকে না।
শিক্ষা ও উপদেশ:
- আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি তাঁর বান্দাদের গুনাহ মাফ করার জন্য তওবার দরজা খোলা রেখেছেন, যাতে কেউ আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়।
- গুনাহ করার সাথে সাথেই তওবা করা উচিত। তওবা দেরি না করে দ্রুত করা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য, কারণ মৃত্যু কখন আসবে তা কেউ জানে না।
- মৃত্যু আসার আগেই তওবা করতে হবে। মৃত্যুকে সামনে দেখে তওবা করা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়, তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে তওবার সুযোগ হিসেবে গণ্য করা উচিত।
- এই আয়াত মুমিনকে আশা ও ভয়ের মধ্যে রাখে — আশা এই যে, আল্লাহ যেকোনো গুনাহ মাফ করতে পারেন; আর ভয় এই যে, তওবা করতে দেরি করলে সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।
- আল্লাহর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা আমাদের মনে এই আস্থা জাগায় যে, তাঁর বিধান অত্যন্ত নিখুঁত ও ন্যায়সংগত। তিনি কারো প্রতি জুলুম করেন না, বরং প্রত্যেককে তার নিয়ত ও আমল অনুযায়ী প্রতিদান দেন।
📜 আয়াত 15-19 — সূরা আন-নিসা
অনুবাদ — আন-নিসা 17
সূরা আন-নিসা আয়াত 17 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন, যারা ভূলবশতঃ মন্দ কাজ…সূরা আয়াত 17/176 — সূরা আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আন-নিসা শুনুন, সূরা আন-নিসা অনুবাদ, সূরা আন-নিসা mp3, সূরা আন-নিসা pdf. আয়াত 15–19. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
সূরা আন-নিসা
পবিত্র কুরআন
Monday, September 28, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না


