আন-নিসা · 17/176
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নিসা
إِنَّمَا ٱلتَّوۡبَةُ عَلَى ٱللَّهِ لِلَّذِينَ يَعۡمَلُونَ ٱلسُّوٓءَ بِجَهَٰلَةٍ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِن قَرِيبٍ فَأُوْلَٰٓئِكَ يَتُوبُ ٱللَّهُ عَلَيۡهِمۡۗ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا  ۝١٧
Innamat tawbatu `alallaahi lillazeena ya`maloonas sooo`a bijahaalatin summa yatooboona min qareebin faulaaika yatoobul laahu `alaihim; wa kaanal laahu `Aleeman Hakeemaa
📖 বাংলা অর্থ
অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন, যারা ভূলবশতঃ মন্দ কাজ করে, অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে; এরাই হল সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, রহস্যবিদ।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • السُّوءَ — মন্দ কাজ, গুনাহ বা পাপ।
  • بِجَهَالَةٍ — অজ্ঞতাবশত, অর্থাৎ কাজের পরিণাম ও শাস্তি সম্পর্কে অজ্ঞ থেকে।
  • مِن قَرِيبٍ — অল্প সময়ের মধ্যে, অর্থাৎ মৃত্যুর আগেই তওবা করা।
  • يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ — আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করেন এবং তাদের প্রতি অনুগ্রহ করেন।

তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর পক্ষ থেকে তওবা কবুল করার প্রতিশ্রুতি কেবল তাদের জন্যই, যারা অজ্ঞতাবশত মন্দ কাজ বা গুনাহ করে ফেলে। এখানে "অজ্ঞতা" বলতে শুধু জ্ঞানের অভাব বোঝানো হয়নি; বরং যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে গুনাহ করে, সেও যদি গুনাহের পরিণাম, আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও শাস্তি সম্পর্কে চিন্তা না করে থাকে, তবে সে-ও এই অজ্ঞতার আওতাভুক্ত। কারণ প্রকৃত জ্ঞানী সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ সম্পর্কে সচেতন থেকে গুনাহ থেকে বিরত থাকে। অতএব, প্রত্যেক গুনাহগারই কোনো না কোনোভাবে অজ্ঞ — চাই সে জেনে-বুঝে গুনাহ করুক বা না জেনে।

এরপর বলা হয়েছে, তারা যেন "অল্প সময়ের মধ্যে" তওবা করে, অর্থাৎ মৃত্যুকে সামনে দেখার আগেই, মৃত্যুর রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগেই, যখন আর তওবার সুযোগ থাকে না। কারণ মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে তওবা আর কবুল হয় না। যে ব্যক্তি এই শর্তে তওবা করবে — অর্থাৎ গুনাহ ছেড়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসবে, অনুশোচনায় মন ভরিয়ে দেবে এবং ভবিষ্যতে গুনাহ না করার দৃঢ় সংকল্প করবে — আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন এবং তার পাপ মাফ করে দেবেন।

শেষে আল্লাহ নিজের দুটি গুণ বর্ণনা করেছেন: "আলিম" (সবকিছু জানেন) এবং "হাকিম" (প্রজ্ঞাময়)। অর্থাৎ, আল্লাহ প্রতিটি বান্দার অন্তরের অবস্থা, তওবার আন্তরিকতা ও সত্যতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। তিনি প্রজ্ঞার সাথে তওবা কবুলের নিয়ম নির্ধারণ করেছেন — যারা প্রকৃত অন্তর থেকে তওবা করে, তাদের তিনি ক্ষমা করেন; আর যারা মৃত্যুর সময় গিয়ে তওবা করে, তাদের তওবা কবুল করেন না, কারণ তা আর প্রকৃত তওবা থাকে না।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি তাঁর বান্দাদের গুনাহ মাফ করার জন্য তওবার দরজা খোলা রেখেছেন, যাতে কেউ আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়।
  2. গুনাহ করার সাথে সাথেই তওবা করা উচিত। তওবা দেরি না করে দ্রুত করা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য, কারণ মৃত্যু কখন আসবে তা কেউ জানে না।
  3. মৃত্যু আসার আগেই তওবা করতে হবে। মৃত্যুকে সামনে দেখে তওবা করা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়, তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে তওবার সুযোগ হিসেবে গণ্য করা উচিত।
  4. এই আয়াত মুমিনকে আশা ও ভয়ের মধ্যে রাখে — আশা এই যে, আল্লাহ যেকোনো গুনাহ মাফ করতে পারেন; আর ভয় এই যে, তওবা করতে দেরি করলে সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।
  5. আল্লাহর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা আমাদের মনে এই আস্থা জাগায় যে, তাঁর বিধান অত্যন্ত নিখুঁত ও ন্যায়সংগত। তিনি কারো প্রতি জুলুম করেন না, বরং প্রত্যেককে তার নিয়ত ও আমল অনুযায়ী প্রতিদান দেন।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 15-19 — আন-নিসা

15وَٱلَّٰتِي يَأۡتِينَ ٱلۡفَٰحِشَةَ مِن نِّسَآئِكُمۡ فَٱسۡتَشۡهِدُواْ عَلَيۡهِنَّ أَرۡبَعَةً مِّنكُمۡۖ فَإِن شَهِدُواْ فَأَمۡسِكُوهُنَّ فِي ٱلۡبُيُوتِ حَتَّىٰ يَتَوَفَّىٰهُنَّ ٱلۡمَوۡتُ أَوۡ يَجۡعَلَ ٱللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلًا 
আর তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচারিণী তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য থেকে চার জন পুরুষকে সাক্ষী হিসেবে তলব কর। অতঃপর যদি তারা সাক্ষ্য প্রদান করে তবে সংশ্লিষ্টদেরকে গৃহে আবদ্ধ রাখ, যে পর্যন্ত মৃত্যু তাদেরকে তুলে না নেয় অথবা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোন পথ নির্দেশ না করেন।
16وَٱلَّذَانِ يَأۡتِيَٰنِهَا مِنكُمۡ فَـَٔاذُوهُمَاۖ فَإِن تَابَا وَأَصۡلَحَا فَأَعۡرِضُواْ عَنۡهُمَآۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ تَوَّابًا رَّحِيمًا 
তোমাদের মধ্য থেকে যে দু’জন সেই কুকর্মে লিপ্ত হয়, তাদেরকে শাস্তি প্রদান কর। অতঃপর যদি উভয়ে তওবা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে, তবে তাদের থেকে হাত গুটিয়ে নাও। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, দয়ালু।
17إِنَّمَا ٱلتَّوۡبَةُ عَلَى ٱللَّهِ لِلَّذِينَ يَعۡمَلُونَ ٱلسُّوٓءَ بِجَهَٰلَةٍ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِن قَرِيبٍ فَأُوْلَٰٓئِكَ يَتُوبُ ٱللَّهُ عَلَيۡهِمۡۗ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا 
অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন, যারা ভূলবশতঃ মন্দ কাজ করে, অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে; এরাই হল সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, রহস্যবিদ।
18وَلَيۡسَتِ ٱلتَّوۡبَةُ لِلَّذِينَ يَعۡمَلُونَ ٱلسَّيِّـَٔاتِ حَتَّىٰٓ إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ ٱلۡمَوۡتُ قَالَ إِنِّي تُبۡتُ ٱلۡـَٰٔنَ وَلَا ٱلَّذِينَ يَمُوتُونَ وَهُمۡ كُفَّارٌۚ أُوْلَٰٓئِكَ أَعۡتَدۡنَا لَهُمۡ عَذَابًا أَلِيمًا 
আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে, এমন কি যখন তাদের কারো মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলতে থাকেঃ আমি এখন তওবা করছি। আর তওবা নেই তাদের জন্য, যারা কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।
19يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا يَحِلُّ لَكُمۡ أَن تَرِثُواْ ٱلنِّسَآءَ كَرۡهًاۖ وَلَا تَعۡضُلُوهُنَّ لِتَذۡهَبُواْ بِبَعۡضِ مَآ ءَاتَيۡتُمُوهُنَّ إِلَّآ أَن يَأۡتِينَ بِفَٰحِشَةٍ مُّبَيِّنَةٍۚ وَعَاشِرُوهُنَّ بِٱلۡمَعۡرُوفِۚ فَإِن كَرِهۡتُمُوهُنَّ فَعَسَىٰٓ أَن تَكۡرَهُواْ شَيۡـًٔا وَيَجۡعَلَ ٱللَّهُ فِيهِ خَيۡرًا كَثِيرًا 
হে ঈমাণদারগণ! বলপূর্বক নারীদেরকে উত্তরাধিকারে গ্রহন করা তোমাদের জন্যে হালাল নয় এবং তাদেরকে আটক রেখো না যাতে তোমরা তাদেরকে যা প্রদান করেছ তার কিয়দংশ নিয়ে নাও; কিন্তু তারা যদি কোন প্রকাশ্য অশ্লীলতা করে! নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবন-যাপন কর। অতঃপর যদি তাদেরকে অপছন্দ কর, তবে হয়ত তোমরা এমন এক জিনিসকে অপছন্দ করছ, যাতে আল্লাহ, অনেক কল্যাণ রেখেছেন।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীRevelation
17আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 17

সূরা আয়াত 17/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 15–19. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না