Wallazaani yaatiyaanihaa minkum fa aazoohumaa fa in taabaa wa aslahaa fa a`ridoo `anhumaaa; innal laaha kaana Tawwaabar Raheema
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তোমাদের মধ্য থেকে যে দু’জন সেই কুকর্মে লিপ্ত হয়, তাদেরকে শাস্তি প্রদান কর। অতঃপর যদি উভয়ে তওবা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে, তবে তাদের থেকে হাত গুটিয়ে নাও। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, দয়ালু।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और तुम लोगों में से जिनसे बदकारी सरज़द हुई हो उनको मारो पीटो फिर अगर वह दोनों (अपनी हरकत से) तौबा करें और इस्लाह कर लें तो उनको छोड़ दो बेशक ख़ुदा बड़ा तौबा कुबूल करने वाला मेहरबान है
তোমাদের মধ্য থেকে যে দু’জন সেই কুকর্মে লিপ্ত হয়, তাদেরকে শাস্তি প্রদান কর। অতঃপর যদি উভয়ে তওবা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে, তবে তাদের থেকে হাত গুটিয়ে নাও। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, দয়ালু।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
اللَّذَانِ — যারা দু’জন (পুরুষ ও নারী)।
يَأْتِيَانِهَا — তা করে (অর্থাৎ অশ্লীল/ব্যভিচার কাজে লিপ্ত হয়)।
فَآذُوهُمَا — তাদের দু’জনকে কষ্ট দিন (শাস্তি দিন)।
تَابَا — তারা তওবা করে (অপরাধ থেকে ফিরে আসে)।
أَصْلَحَا — নিজেদের কাজ-কর্ম সংশোধন করে নেয়।
فَأَعْرِضُوا عَنْهُمَا — তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও (তাদের বিরক্ত করা বন্ধ করো)।
تَوَّابًا — তওবা কবুলকারী।
رَّحِيمًا — পরম দয়ালু।
তাফসীর:
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুসলিম সমাজের সেই দুই ব্যক্তির কথা বলেছেন—পুরুষ হোক বা নারী—যারা নারী-পুরুষের মধ্যে অশ্লীল ও ব্যভিচারমূলক কাজে লিপ্ত হয়। তাদের শাস্তি হিসেবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তাদেরকে কষ্ট দেওয়া হবে—অর্থাৎ মৌখিকভাবে তিরস্কার করা, ভর্ৎসনা করা, এবং প্রয়োজনে শারীরিকভাবে আঘাত করা বা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা, যাতে তারা লজ্জিত হয় এবং এই কাজ থেকে বিরত থাকে।
কিন্তু যদি তারা এই পাপ কাজ থেকে তওবা করে এবং নিজেদের আমল-আখলাক সংশোধন করে নেয়, তাহলে তাদেরকে আর কষ্ট দেওয়া যাবে না, তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে হবে, অর্থাৎ তাদের বিরক্ত করা বন্ধ করতে হবে এবং তাদেরকে সমাজে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে হবে। কারণ যে ব্যক্তি পাপ থেকে তওবা করে, সে যেন পাপ করেনি। আল্লাহ তাআলা তওবাকারীদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু এবং তাদের তওবা কবুল করেন।
এটি ছিল ইসলামের প্রাথমিক যুগের বিধান। পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলা পূর্ণাঙ্গ শাস্তি নির্ধারণ করেন—অবিবাহিত (কুমার/কুমারী) ব্যক্তির জন্য একশো বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন, আর বিবাহিত (মুহসান/মুহসানা) ব্যক্তির জন্য পাথর মেরে হত্যা (রজম)। এই বিধান কুরআন ও সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
শিক্ষা ও উপদেশ:
ইসলাম পাপকে ঘৃণা করে, কিন্তু পাপীকে চিরতরে বর্জন করে না। পাপী যদি তওবা করে, তবে তাকে সুযোগ দেওয়া হয় এবং সমাজে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এটি ইসলামের সহানুভূতিশীল দিক।
তওবার দরজা সবার জন্য খোলা। আল্লাহ তাআলা চান তাঁর বান্দারা তাঁর কাছে ফিরে আসুক, তিনি তাদেরকে ক্ষমা করবেন। এটি মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা।
সমাজে অন্যায় ও অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়লে তা প্রতিরোধ করা প্রত্যেক মুসলিমের দায়িত্ব। তবে শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে ইসলাম ধাপে ধাপে পদ্ধতি অবলম্বন করেছে এবং পরবর্তীতে স্পষ্ট বিধান দিয়েছে।
ইসলামের বিধান সময়ের সাথে সাথে পরিপূর্ণতা লাভ করেছে। প্রাথমিক যুগের নমনীয় শাস্তি পরে কঠোর ও সুনির্দিষ্ট হয়েছে, যা সমাজের কল্যাণ ও পবিত্রতা রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি—ভুল করা মানুষের স্বভাব, কিন্তু ভুলের উপর অটল থাকা উচিত নয়। তওবা ও সংশোধনই হলো প্রকৃত সফলতার পথ।
আর তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচারিণী তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য থেকে চার জন পুরুষকে সাক্ষী হিসেবে তলব কর। অতঃপর যদি তারা সাক্ষ্য প্রদান করে তবে সংশ্লিষ্টদেরকে গৃহে আবদ্ধ রাখ, যে পর্যন্ত মৃত্যু তাদেরকে তুলে না নেয় অথবা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোন পথ নির্দেশ না করেন।
তোমাদের মধ্য থেকে যে দু’জন সেই কুকর্মে লিপ্ত হয়, তাদেরকে শাস্তি প্রদান কর। অতঃপর যদি উভয়ে তওবা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে, তবে তাদের থেকে হাত গুটিয়ে নাও। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, দয়ালু।
অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন, যারা ভূলবশতঃ মন্দ কাজ করে, অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে; এরাই হল সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, রহস্যবিদ।
আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে, এমন কি যখন তাদের কারো মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলতে থাকেঃ আমি এখন তওবা করছি। আর তওবা নেই তাদের জন্য, যারা কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।