আন-নিসা · 18/176
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নিসা
وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّىٰ إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْآنَ وَلَا الَّذِينَ يَمُوتُونَ وَهُمْ كُفَّارٌ ۚ أُولَٰئِكَ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا ۝١٨
Wa laisatit tawbatu lillazeena ya`maloonas saiyiaati hattaaa izaa hadara ahadahumul mawtu qaala innee tubtul `aana wa lallazeena yamootoona wa hum kuffaar; ulaaa`ika a`tadnaa lahum `azaaban aleemaa
📖 বাংলা অর্থ
আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে, এমন কি যখন তাদের কারো মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলতে থাকেঃ আমি এখন তওবা করছি। আর তওবা নেই তাদের জন্য, যারা কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।
📜

অনুবাদ — Tafsir

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:

  • আস-সাইয়্যিআত (السَّيِّئَات): মন্দ কাজ, গুনাহ, পাপাচার।
  • হাত্তা (حَتَّى): যে পর্যন্ত, এমনকি।
  • হাদারা (حَضَرَ): উপস্থিত হওয়া, নিকটবর্তী হওয়া।
  • আ‘তাদনা (أَعْتَدْنَا): আমরা প্রস্তুত করে রেখেছি।
  • আলিম (أَلِيم): বেদনাদায়ক, যন্ত্রণাদায়ক।

আয়াতের ব্যাখ্যা:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাওবার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ও সীমা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, যারা সারা জীবন মন্দ কাজ করতেই থাকে এবং গুনাহের উপর অটল থাকে, আর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে তখন বলে, “আমি এখন তাওবা করলাম” — এমন তাওবা কবুল হয় না। কারণ, তাওবা কবুল হওয়ার সময় হলো জীবনের এমন একটি পর্যায়, যখন মানুষ ইচ্ছা ও স্বাধীনতা সহকারে নিজের ভুল বুঝতে পেরে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। কিন্তু যখন মৃত্যুর ফেরেশতা দেখা দেয় এবং রূহ কণ্ঠনালীতে এসে পৌঁছে, তখন তাওবা করার আর কোনো মূল্য থাকে না। কেননা তখন তো আর দুনিয়ায় ফিরে ভালো কাজ করার সুযোগ নেই; এটি বাধ্য হয়ে ঘোষণা করা, যা অন্তর থেকে নয়।

একইভাবে, যারা কুফরি অবস্থায় (আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অস্বীকার করে) মৃত্যুবরণ করে, তাদের তাওবা বা ঈমানও কবুল হবে না। কারণ, মৃত্যুর পর তো আর ঈমান আনা বা তাওবা করার সময় থাকে না। এই দুই শ্রেণির মানুষের জন্যই আল্লাহ তাআলা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন — যারা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত গুনাহের উপর অটল থাকে এবং মৃত্যুর সময় তাওবা করে, আর যারা কুফরি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে, জীবদ্দশায় গুনাহ করলে তাওবা কবুল হবে না। বরং আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলেছেন, তিনি তাওবাকারীদের তাওবা কবুল করেন, যতক্ষণ না মৃত্যু আসে। সুতরাং প্রতিটি মানুষের উচিত মৃত্যুর আগেই, সুস্থ অবস্থায় আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং গুনাহ ছেড়ে দেওয়া।


আয়াত থেকে প্রাপ্ত শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ:

  1. তাওবার সময় সীমিত: তাওবার জন্য আল্লাহ তাআলা নির্দিষ্ট সময় দিয়েছেন — জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত। মৃত্যুর লক্ষণ দেখা দিলে তাওবা আর কবুল হয় না। তাই আমাদের উচিত প্রতিটি মুহূর্তকে তাওবার জন্য কাজে লাগানো।
  2. গুনাহের উপর অটল থাকা ধ্বংসের কারণ: যে ব্যক্তি গুনাহ করেই যাচ্ছে এবং মনে করছে “পরে তাওবা করে নেব”, সে নিজেকে ধোঁকা দিচ্ছে। কারণ, কখন মৃত্যু আসবে তা কেউ জানে না।
  3. আল্লাহর রহমতের দরজা সর্বদা খোলা: এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বোঝাচ্ছেন যে, তিনি তাওবার দরজা খোলা রেখেছেন, কিন্তু সেই দরজা চিরকাল খোলা থাকবে না। তাই সুস্থ অবস্থায়, সময় থাকতেই আল্লাহর দিকে ফিরে আসা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য।
  4. কুফরি অবস্থায় মৃত্যু ভয়াবহ: ইসলামের দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো ঈমানহীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা। তাই আমাদের উচিত ঈমান রক্ষা করার জন্য সর্বদা দোয়া করা এবং এমন কাজ থেকে বিরত থাকা যা ঈমানকে দুর্বল করে।
  5. আল্লাহর শাস্তি ন্যায়সংগত: যারা সতর্ক করার পরও গুনাহ ও কুফরির উপর অটল থাকে, তাদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। এটি আল্লাহর ন্যায়বিচারেরই অংশ।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 16-20 — আন-নিসা

16وَاللَّذَانِ يَأْتِيَانِهَا مِنكُمْ فَآذُوهُمَا ۖ فَإِن تَابَا وَأَصْلَحَا فَأَعْرِضُوا عَنْهُمَا ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ تَوَّابًا رَّحِيمًا
তোমাদের মধ্য থেকে যে দু’জন সেই কুকর্মে লিপ্ত হয়, তাদেরকে শাস্তি প্রদান কর। অতঃপর যদি উভয়ে তওবা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে, তবে তাদের থেকে হাত গুটিয়ে নাও। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, দয়ালু।
17إِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَى اللَّهِ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِن قَرِيبٍ فَأُولَٰئِكَ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ ۗ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا
অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন, যারা ভূলবশতঃ মন্দ কাজ করে, অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে; এরাই হল সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, রহস্যবিদ।
18وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّىٰ إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْآنَ وَلَا الَّذِينَ يَمُوتُونَ وَهُمْ كُفَّارٌ ۚ أُولَٰئِكَ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا
আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে, এমন কি যখন তাদের কারো মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলতে থাকেঃ আমি এখন তওবা করছি। আর তওবা নেই তাদের জন্য, যারা কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।
19يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَحِلُّ لَكُمْ أَن تَرِثُوا النِّسَاءَ كَرْهًا ۖ وَلَا تَعْضُلُوهُنَّ لِتَذْهَبُوا بِبَعْضِ مَا آتَيْتُمُوهُنَّ إِلَّا أَن يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُّبَيِّنَةٍ ۚ وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ ۚ فَإِن كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَىٰ أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَيَجْعَلَ اللَّهُ فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا
হে ঈমাণদারগণ! বলপূর্বক নারীদেরকে উত্তরাধিকারে গ্রহন করা তোমাদের জন্যে হালাল নয় এবং তাদেরকে আটক রেখো না যাতে তোমরা তাদেরকে যা প্রদান করেছ তার কিয়দংশ নিয়ে নাও; কিন্তু তারা যদি কোন প্রকাশ্য অশ্লীলতা করে! নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবন-যাপন কর। অতঃপর যদি তাদেরকে অপছন্দ কর, তবে হয়ত তোমরা এমন এক জিনিসকে অপছন্দ করছ, যাতে আল্লাহ, অনেক কল্যাণ রেখেছেন।
20وَإِنْ أَرَدتُّمُ اسْتِبْدَالَ زَوْجٍ مَّكَانَ زَوْجٍ وَآتَيْتُمْ إِحْدَاهُنَّ قِنطَارًا فَلَا تَأْخُذُوا مِنْهُ شَيْئًا ۚ أَتَأْخُذُونَهُ بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُّبِينًا
যদি তোমরা এক স্ত্রীর স্থলে অন্য স্ত্রী পরিবর্তন করতে ইচ্ছা কর এবং তাদের একজনকে প্রচুর ধন-সম্পদ প্রদান করে থাক, তবে তা থেকে কিছুই ফেরত গ্রহণ করো না। তোমরা কি তা অন্যায়ভাবে ও প্রকাশ্য গোনাহর মাধ্যমে গ্রহণ করবে?
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীRevelation
18আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 18

সূরা আন-নিসা আয়াত 18 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ…

সূরা আয়াত 18/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 16–20. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না