আন-নিসা · 171/176
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নিসা
يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ وَلَا تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ ۚ إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَىٰ مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِّنْهُ ۖ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ ۖ وَلَا تَقُولُوا ثَلَاثَةٌ ۚ انتَهُوا خَيْرًا لَّكُمْ ۚ إِنَّمَا اللَّهُ إِلَٰهٌ وَاحِدٌ ۖ سُبْحَانَهُ أَن يَكُونَ لَهُ وَلَدٌ ۘ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ وَكَفَىٰ بِاللَّهِ وَكِيلًا ۝١٧١
Yaaa Ahlal Kitaabi laa taghloo fee deenikum wa laa taqooloo `alal laahi illalhaqq; innamal Maseehu `Eesab-nu-Maryamma Rasoolul laahi wa Kalimatuhooo alqaahaaa ilaa Maryamma wa roohum minhum fa aaminoo billaahi wa Rusulihee wa laa taqooloo salaasah; intahoo khairallakum; innamal laahu Ilaahunw Waahid, Subhaanahooo ani yakoona lahoo walad; lahoo maa fissamaawaati wa maa fil ard; wa kafaa billaahi Wakeelaa
📖 বাংলা অর্থ
হে আহলে-কিতাবগণ! তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর শানে নিতান্ত সঙ্গত বিষয় ছাড়া কোন কথা বলো না। নিঃসন্দেহে মরিয়ম পুত্র মসীহ ঈসা আল্লাহর রসূল এবং তাঁর বাণী যা তিনি প্রেরণ করেছেন মরিয়মের নিকট এবং রূহ-তাঁরই কাছ থেকে আগত। অতএব, তোমরা আল্লাহকে এবং তার রসূলগণকে মান্য কর। আর একথা বলো না যে, আল্লাহ তিনের এক, একথা পরিহার কর; তোমাদের মঙ্গল হবে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ একক উপাস্য। সন্তান-সন্ততি হওয়াটা তাঁর যোগ্য বিষয় নয়। যা কিছু আসমান সমূহ ও যমীনে রয়েছে সবই তার। আর কর্মবিধানে আল্লাহই যথেষ্ট।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • لَا تَغْلُوا = সীমা অতিক্রম করো না, বাড়াবাড়ি করো না।
  • وَكَلِمَتُهُ = তাঁর কালাম (বাক্য), অর্থাৎ আল্লাহর নির্দেশ "হও" দ্বারা সৃষ্ট।
  • أَلْقَاهَا = তিনি তা পৌঁছে দিয়েছেন (মরিয়মের কাছে)।
  • وَرُوحٌ مِّنْهُ = তাঁর পক্ষ থেকে একটি রূহ (আত্মা), যা সম্মানসূচকভাবে আল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত।
  • لَا تَقُولُوا ثَلَاثَةٌ = "তিন" বলো না, অর্থাৎ ত্রিত্ববাদ (পিতা, পুত্র, পবিত্র আত্মা) বিশ্বাস করো না।
  • سُبْحَانَهُ = তিনি পবিত্র, সকল ত্রুটি-অসম্পূর্ণতা থেকে মুক্ত।
  • وَكِيلًا = অভিভাবক, তত্ত্বাবধায়ক, যিনি সব কিছুর দায়িত্ব নেন।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

হে আহলে কিতাব! (বিশেষ করে খ্রিস্টানরা) তোমরা নিজেদের ধর্মে সীমা অতিক্রম করো না এবং বাড়াবাড়ি করো না। আল্লাহ সম্পর্কে সত্য ছাড়া কিছু বলো না। অর্থাৎ তাঁকে স্ত্রী-সন্তান থেকে পবিত্র ঘোষণা করো, কারণ এটাই সত্য। নিশ্চয়ই মসীহ ঈসা ইবনে মারইয়াম আল্লাহর একজন রাসূল মাত্র। তিনি আল্লাহর কালেমা (বাক্য) দ্বারা সৃষ্ট — আল্লাহ যখন বললেন "হও", তখন তিনি হয়ে গেলেন। এই কালেমাটি আল্লাহ জিবরাঈল (আঃ)-এর মাধ্যমে মারইয়ামের কাছে পৌঁছে দেন। আর তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি রূহ (সম্মানিত সৃষ্টি), কিন্তু তিনি আল্লাহর অংশ বা পুত্র নন।

তোমরা আল্লাহ ও তাঁর সকল রাসূলের প্রতি ঈমান আনো, এবং তাদের মধ্যে পার্থক্য করো না। আর বলো না যে, "আল্লাহ তিনজন" (পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মা)। এই মিথ্যা ও ভ্রান্ত বিশ্বাস থেকে বিরত থাকো — এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর। নিশ্চয়ই আল্লাহ একক উপাস্য, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। তিনি পবিত্র — তাঁর সন্তান হওয়া অসম্ভব। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই তাঁর মালিকানাধীন ও সৃষ্টি। তিনি কোনো কিছুর সমকক্ষ নন, তাই তাঁর সন্তান কীভাবে হতে পারে? আল্লাহই যথেষ্ট অভিভাবক — তাঁর ওপর ভরসা করো, তিনিই তোমাদের সব বিষয়ে তত্ত্বাবধান করবেন।


শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. ধর্মে বাড়াবাড়ি নিষিদ্ধ: ইসলাম শিক্ষা দেয়, ধর্মে চরমপন্থা ও বাড়াবাড়ি থেকে দূরে থাকতে হবে। মধ্যম পথই ইসলামের পথ — এতে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ নিহিত।
  2. আল্লাহ সম্পর্কে সঠিক ধারণা: আল্লাহ একক, অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তিনি সন্তান-সন্ততি থেকে পবিত্র। এই তাওহিদ বিশ্বাসই মুক্তির চাবিকাঠি।
  3. ঈসা (আঃ)-এর মর্যাদা: ঈসা (আঃ) আল্লাহর শ্রেষ্ঠ রাসূলদের একজন, কিন্তু তিনি আল্লাহ নন, তাঁর পুত্রও নন। তাঁকে ভালোবাসা মানে তাঁকে সঠিক মর্যাদায় বিশ্বাস করা — অতিরঞ্জন নয়।
  4. সকল রাসূলের প্রতি ঈমান: ইসলাম সকল নবী-রাসূলকে সমানভাবে মান্য করে। তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা ঈমানের পরিপন্থী।
  5. ভ্রান্ত বিশ্বাস ত্যাগই কল্যাণ: সত্যকে গ্রহণ করে ভুল পথ পরিত্যাগ করা মানুষের জন্য সর্বদা মঙ্গলজনক। আল্লাহ আমাদের সত্য পথ দেখানোর জন্যই রাসূল পাঠিয়েছেন।
  6. আল্লাহর ওপর ভরসা: আল্লাহই যথেষ্ট অভিভাবক। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর ওপর ভরসা রাখা মুমিনের বৈশিষ্ট্য — তিনি কখনো তাঁর বান্দাদের হতাশ করেন না।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 169-173 — আন-নিসা

169إِلَّا طَرِيقَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ۚ وَكَانَ ذَٰلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرًا
তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের পথ। সেখানে তারা বাস করবে অনন্তকাল। আর এমন করাটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।
170يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَكُمُ الرَّسُولُ بِالْحَقِّ مِن رَّبِّكُمْ فَآمِنُوا خَيْرًا لَّكُمْ ۚ وَإِن تَكْفُرُوا فَإِنَّ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا
হে মানবজাতি! তোমাদের পালনকর্তার যথার্থ বাণী নিয়ে তোমাদের নিকট রসূল এসেছেন, তোমরা তা মেনে নাও যাতে তোমাদের কল্যাণ হতে পারে। আর যদি তোমরা তা না মান, জেনে রাখ আসমানসমূহে ও যমীনে যা কিছু রয়েছে সে সবকিছুই আল্লাহর। আর আল্লাহ হচ্ছেন সর্বজ্ঞ, প্রাজ্ঞ।
171يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ وَلَا تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ ۚ إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَىٰ مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِّنْهُ ۖ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ ۖ وَلَا تَقُولُوا ثَلَاثَةٌ ۚ انتَهُوا خَيْرًا لَّكُمْ ۚ إِنَّمَا اللَّهُ إِلَٰهٌ وَاحِدٌ ۖ سُبْحَانَهُ أَن يَكُونَ لَهُ وَلَدٌ ۘ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ وَكَفَىٰ بِاللَّهِ وَكِيلًا
হে আহলে-কিতাবগণ! তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর শানে নিতান্ত সঙ্গত বিষয় ছাড়া কোন কথা বলো না। নিঃসন্দেহে মরিয়ম পুত্র মসীহ ঈসা আল্লাহর রসূল এবং তাঁর বাণী যা তিনি প্রেরণ করেছেন মরিয়মের নিকট এবং রূহ-তাঁরই কাছ থেকে আগত। অতএব, তোমরা আল্লাহকে এবং তার রসূলগণকে মান্য কর। আর একথা বলো না যে, আল্লাহ তিনের এক, একথা পরিহার কর; তোমাদের মঙ্গল হবে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ একক উপাস্য। সন্তান-সন্ততি হওয়াটা তাঁর যোগ্য বিষয় নয়। যা কিছু আসমান সমূহ ও যমীনে রয়েছে সবই তার। আর কর্মবিধানে আল্লাহই যথেষ্ট।
172لَّن يَسْتَنكِفَ الْمَسِيحُ أَن يَكُونَ عَبْدًا لِّلَّهِ وَلَا الْمَلَائِكَةُ الْمُقَرَّبُونَ ۚ وَمَن يَسْتَنكِفْ عَنْ عِبَادَتِهِ وَيَسْتَكْبِرْ فَسَيَحْشُرُهُمْ إِلَيْهِ جَمِيعًا
মসীহ আল্লাহর বান্দা হবেন, তাতে তার কোন লজ্জাবোধ নেই এবং ঘনিষ্ঠ ফেরেশতাদেরও না। বস্তুতঃ যারা আল্লাহর দাসত্বে লজ্জাবোধ করবে এবং অহংকার করবে, তিনি তাদের সবাইকে নিজের কাছে সমবেত করবেন।
173فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فَيُوَفِّيهِمْ أُجُورَهُمْ وَيَزِيدُهُم مِّن فَضْلِهِ ۖ وَأَمَّا الَّذِينَ اسْتَنكَفُوا وَاسْتَكْبَرُوا فَيُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَلَا يَجِدُونَ لَهُم مِّن دُونِ اللَّهِ وَلِيًّا وَلَا نَصِيرًا
অতঃপর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তিনি তাদেরকে পরিপূর্ণ সওয়াব দান করবেন, বরং স্বীয় অনুগ্রহে আরো বেশী দেবেন। পক্ষান্তরে যারা লজ্জাবোধ করেছে এবং অহঙ্কার করেছে তিনি তাদেরকে দেবেন বেদনাদায়ক আযাব। আল্লাহকে ছাড়া তারা কোন সাহায্যকারী ও সমর্থক পাবে না।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীRevelation
171আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 171

সূরা আন-নিসা আয়াত 171 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : হে আহলে-কিতাবগণ! তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর…

সূরা আয়াত 171/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 169–173. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না