অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
- لَّن يَسْتَنكِفَ — কখনো অহংকার করবে না, অস্বীকার করবে না, বা ঘৃণা বোধ করবে না।
- الْمَسِيحُ — ঈসা (আঃ), যিনি মসীহ নামে পরিচিত।
- الْمَلَائِكَةُ الْمُقَرَّبُونَ — সেই ফেরেশতাগণ যারা আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত এবং তাঁর বিশেষ সম্মানের অধিকারী।
- يَسْتَنكِفْ — অহংকার করা, নিজেকে বড় মনে করা, দাসত্ব করতে লজ্জা বোধ করা।
- عِبَادَتِهِ — আল্লাহর ইবাদত ও দাসত্ব।
- يَسْتَكْبِرْ — অহংকার করা, বড়াই করা, আনুগত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া।
- فَسَيَحْشُرُهُمْ — তিনি তাদের সবাইকে একত্রিত করবেন (কিয়ামতের দিন)।
তাফসির:
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ঈসা (আঃ) কখনো আল্লাহর দাসত্ব করতে অহংকার বোধ করেননি, বরং তিনি গর্বের সাথে নিজেকে আল্লাহর বান্দা হিসেবে পেশ করেছেন। তিনি তো আল্লাহরই একজন সম্মানিত নবী ও রাসূল ছিলেন এবং তাঁর দাসত্বকেই নিজের জন্য সম্মানের বিষয় মনে করতেন। ঠিক তেমনই, আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ—যাঁরা আরশ বহনকারী ও অন্যান্য উচ্চ মর্যাদার অধিকারী—তারাও কখনো আল্লাহর দাসত্ব করতে অহংকার করেননি। তাঁরা সদা আনুগত্যের সাথে আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন।
এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে—যদি ঈসা (আঃ) নিজেই আল্লাহর বান্দা হতে অহংকার না করেন, এবং ফেরেশতারা পর্যন্ত তাঁর দাসত্বকে সম্মান মনে করেন, তাহলে কীভাবে কিছু মানুষ ঈসা (আঃ)-কে আল্লাহর পুত্র বা উপাস্য বলে দাবি করে? আর যারা মূর্তিপূজক, তারা কীভাবে ফেরেশতাদেরকে আল্লাহর কন্যা বা উপাস্য বলে কল্পনা করে? এ সবই সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন।
আয়াতের শেষাংশে আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে দিয়েছেন—যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত থেকে অহংকারবশত মুখ ফিরিয়ে নেবে এবং নিজেকে বড় মনে করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে অবশ্যই তাঁর সামনে হাজির করবেন। সেদিন সবাই—নবী, ফেরেশতা, মুমিন, কাফির, মুশরিক—সবাইকে একত্রিত করা হবে এবং প্রত্যেককে তার কর্ম অনুযায়ী ন্যায়বিচার প্রদান করা হবে। কেউই আল্লাহর হুকুম থেকে বাঁচতে পারবে না।
শিক্ষা ও উপদেশ:
- দাসত্বই প্রকৃত সম্মান: আল্লাহর বান্দা হওয়া কোনো লজ্জার বিষয় নয়, বরং এটি সর্বোচ্চ সম্মান। ঈসা (আঃ) এবং ফেরেশতারা এই দাসত্বকে গর্বের সাথে গ্রহণ করেছেন। আমাদের উচিত নিজেকে আল্লাহর বান্দা বলে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করা।
- অহংকার ধ্বংসের কারণ: যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদতে অহংকার করে, সে নিজের ধ্বংস নিজেই ডেকে আনে। অহংকার এমন একটি রোগ যা মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
- সবাই আল্লাহর সামনে সমান: কিয়ামতের দিন কোনো বড়ত্ব বা মর্যাদা কাজে আসবে না। নবী, ফেরেশতা, রাজা, প্রজা—সবাইকে একইভাবে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে এবং নিজ নিজ আমলের হিসাব দিতে হবে।
- সঠিক আকিদা: এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, ঈসা (আঃ) এবং ফেরেশতাদের সম্পর্কে আমাদের আকিদা সঠিক হতে হবে। তারা আল্লাহর সৃষ্টি ও সম্মানিত বান্দা; তাদের উপাস্য বা আল্লাহর অংশীদার মনে করা সম্পূর্ণ ভুল।
- আল্লাহর ন্যায়বিচার: আল্লাহ কখনো কারো প্রতি জুলুম করেন না। প্রত্যেককে তার কর্মের উপযুক্ত প্রতিদান দেওয়া হবে। এই বিশ্বাস আমাদের ন্যায়পরায়ণ ও সতর্ক জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করে।
📜 আয়াত 170-174 — আন-নিসা
অনুবাদ — আন-নিসা 172
সূরা আন-নিসা আয়াত 172 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : মসীহ আল্লাহর বান্দা হবেন, তাতে তার কোন লজ্জাবোধ নেই এবং…সূরা আয়াত 172/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 170–174. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, August 18, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








