Yaaa aiyuhal lazeena aamanoo laa yahillu lakum an tarisun nisaaa`a karhan wa laa ta`duloohunna litazhaboo biba`di maaa aataitumoohunna illaaa ai yaateena bifaahishatim bubaiyinah; wa `aashiroo hunna bilma`roof; fa in karihtumoohunna fa`asaaa an takrahoo shai`anw wa yaj`alal laahu feehi khairan kaseeraa
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
হে ঈমাণদারগণ! বলপূর্বক নারীদেরকে উত্তরাধিকারে গ্রহন করা তোমাদের জন্যে হালাল নয় এবং তাদেরকে আটক রেখো না যাতে তোমরা তাদেরকে যা প্রদান করেছ তার কিয়দংশ নিয়ে নাও; কিন্তু তারা যদি কোন প্রকাশ্য অশ্লীলতা করে! নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবন-যাপন কর। অতঃপর যদি তাদেরকে অপছন্দ কর, তবে হয়ত তোমরা এমন এক জিনিসকে অপছন্দ করছ, যাতে আল্লাহ, অনেক কল্যাণ রেখেছেন।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
ऐ ईमानदारों तुमको ये जायज़ नहीं कि (अपने मुरिस की) औरतों से (निकाह कर) के (ख्वाह मा ख्वाह) ज़बरदस्ती वारिस बन जाओ और जो कुछ तुमने उन्हें (शौहर के तर्के से) दिया है उसमें से कुछ (आपस से कुछ वापस लेने की नीयत से) उन्हें दूसरे के साथ (निकाह करने से) न रोको हॉ जब वह खुल्लम खुल्ला कोई बदकारी करें तो अलबत्ता रोकने में (मज़ाएक़ा (हर्ज)नहीं) और बीवियों के साथ अच्छा सुलूक करते रहो और अगर तुम किसी वजह से उन्हें नापसन्द करो (तो भी सब्र करो क्योंकि) अजब नहीं कि किसी चीज़ को तुम नापसन्द करते हो और ख़ुदा तुम्हारे लिए उसमें बहुत बेहतरी कर दे
হে ঈমাণদারগণ! বলপূর্বক নারীদেরকে উত্তরাধিকারে গ্রহন করা তোমাদের জন্যে হালাল নয় এবং তাদেরকে আটক রেখো না যাতে তোমরা তাদেরকে যা প্রদান করেছ তার কিয়দংশ নিয়ে নাও; কিন্তু তারা যদি কোন প্রকাশ্য অশ্লীলতা করে! নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবন-যাপন কর। অতঃপর যদি তাদেরকে অপছন্দ কর, তবে হয়ত তোমরা এমন এক জিনিসকে অপছন্দ করছ, যাতে আল্লাহ, অনেক কল্যাণ রেখেছেন।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
تَرِثُوا النِّسَاءَ كَرْهًا – জোরপূর্বক নারীদের উত্তরাধিকারসূত্রে গ্রহণ করা (জাহিলী যুগের প্রথা)।
تَعْضُلُوهُنَّ – তাদের (স্ত্রীদের) উপর চাপ সৃষ্টি করা বা তাদের বিবাহে বাধা দেওয়া।
فَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ – স্পষ্ট অশ্লীল কাজ (যেমন: ব্যভিচার)।
عَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ – তাদের সাথে সৎ ও ন্যায়সংগতভাবে জীবনযাপন করা।
তাফসীর:
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য বৈধ নয় যে, তোমরা নারীদেরকে জোরপূর্বক উত্তরাধিকারসূত্রে গ্রহণ করবে। জাহিলী যুগের প্রথা ছিল—কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার আত্মীয়রা তার স্ত্রীকে সম্পদের মতো নিজেদের অধিকারে নিয়ে নিত; ইচ্ছা করলে তাকে বিয়ে করত, ইচ্ছা করলে অন্য কাউকে বিয়ে দিতে বাধা দিত, অথবা তাকে বিবাহ থেকে বিরত রাখত—সবই তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে। ইসলাম এই অন্যায় প্রথা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।
আরও নিষিদ্ধ করা হয়েছে যে, তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের উপর চাপ সৃষ্টি করবে—তাদের কষ্ট দেবে, তাদের প্রতি বিরূপ আচরণ করবে—যাতে তারা তোমাদের দেওয়া মোহর বা অন্যান্য সম্পদের কিছু অংশ ছেড়ে দেয়। তবে যদি তারা স্পষ্ট অশ্লীল কাজ করে (যেমন ব্যভিচার), তাহলে তোমরা তাদের কাছ থেকে তোমাদের দেওয়া সম্পদ ফেরত নিতে পারো এবং তাদের উপর কঠোরতা অবলম্বন করতে পারো।
তোমাদের কর্তব্য হলো স্ত্রীদের সাথে সদাচরণ করা, তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করা, তাদের অধিকার আদায় করা এবং তাদের সাথে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করা। যদি তোমরা তাদের কোনো কারণে অপছন্দ করো, তাহলে ধৈর্য ধারণ করো। কেননা আল্লাহ তাআলা এমন অনেক বিষয়ে কল্যাণ রাখেন যা মানুষ প্রথমে অপছন্দ করে; যেমন—অপছন্দের স্ত্রীর সাথে ধৈর্য ধারণের ফলে উত্তম সন্তান, পারিবারিক শান্তি বা দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণ অর্জিত হতে পারে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
ইসলাম নারীদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় অত্যন্ত যত্নবান; তাদেরকে সম্পদের মতো ব্যবহার করা বা জোরপূর্বক বিবাহের বস্তু বানানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে হওয়া উচিত; একে অপরের প্রতি জুলুম করা কিংবা সম্পদ আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করা ইসলামসম্মত নয়।
স্ত্রীদের সাথে সদাচরণ করা স্বামীর কর্তব্য; এমনকি স্ত্রীকে অপছন্দ হলেও ধৈর্য ও সহনশীলতা অবলম্বন করা উচিত, কারণ আল্লাহর ইচ্ছায় অপছন্দের মধ্যেও অনেক কল্যাণ লুকিয়ে থাকতে পারে।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, জীবনের যেকোনো পরিস্থিতিতে আল্লাহর উপর ভরসা রাখা এবং ধৈর্য ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; যা আমাদের চোখে খারাপ মনে হয়, তাতে আল্লাহ কল্যাণ দিতে পারেন।
অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন, যারা ভূলবশতঃ মন্দ কাজ করে, অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে; এরাই হল সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, রহস্যবিদ।
আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে, এমন কি যখন তাদের কারো মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলতে থাকেঃ আমি এখন তওবা করছি। আর তওবা নেই তাদের জন্য, যারা কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।
হে ঈমাণদারগণ! বলপূর্বক নারীদেরকে উত্তরাধিকারে গ্রহন করা তোমাদের জন্যে হালাল নয় এবং তাদেরকে আটক রেখো না যাতে তোমরা তাদেরকে যা প্রদান করেছ তার কিয়দংশ নিয়ে নাও; কিন্তু তারা যদি কোন প্রকাশ্য অশ্লীলতা করে! নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবন-যাপন কর। অতঃপর যদি তাদেরকে অপছন্দ কর, তবে হয়ত তোমরা এমন এক জিনিসকে অপছন্দ করছ, যাতে আল্লাহ, অনেক কল্যাণ রেখেছেন।
যদি তোমরা এক স্ত্রীর স্থলে অন্য স্ত্রী পরিবর্তন করতে ইচ্ছা কর এবং তাদের একজনকে প্রচুর ধন-সম্পদ প্রদান করে থাক, তবে তা থেকে কিছুই ফেরত গ্রহণ করো না। তোমরা কি তা অন্যায়ভাবে ও প্রকাশ্য গোনাহর মাধ্যমে গ্রহণ করবে?
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।