وَلَا تَنكِحُوا مَا نَكَحَ آبَاؤُكُم مِّنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ ۚ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَمَقْتًا وَسَاءَ سَبِيلًا ٢٢
🔤 Transliteration
Wa laa tankihoo maa nakaha aabaaa`ukum minan nisaaa`i illaa maa qad salaf; inahoo kaana faahishatanw wa maqtanw wa saaa`a sabeelaa
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
যে নারীকে তোমাদের পিতা-পিতামহ বিবাহ করেছে তোমরা তাদের বিবাহ করো না। কিন্তু যা বিগত হয়ে গেছে। এটা অশ্লীল, গযবের কাজ এবং নিকৃষ্ট আচরণ।
🌐 Additional reference in हिन्दी
শব্দার্থ:
- تَنكِحُوا = তোমরা বিবাহ করো না।
- مَا نَكَحَ آبَاؤُكُم = যা তোমাদের পিতৃপুরুষরা বিবাহ করেছে (অর্থাৎ যাদেরকে তারা বিবাহ করেছে)।
- إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ = তবে যা আগে হয়ে গেছে (জাহিলিয়াতের যুগে) তা ক্ষমা করা হলো।
- فَاحِشَةً = অশ্লীল ও জঘন্য কাজ।
- مَقْتًا = চরম ঘৃণা ও ক্রোধের কারণ (আল্লাহর পক্ষ থেকে)।
- وَسَاءَ سَبِيلًا = কতই না নিকৃষ্ট পথ!
তাফসির:
আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে মুসলিমদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা সেই নারীদের বিবাহ করো না যাদেরকে তোমাদের পিতা বা পিতামহ বিবাহ করেছেন। অর্থাৎ পিতার স্ত্রী বা সৎমাকে বিবাহ করা সম্পূর্ণ হারাম। তবে জাহিলিয়াতের যুগে (ইসলামের আগে) যা হয়ে গেছে, তা ক্ষমা করা হয়েছে; ইসলাম গ্রহণের পর সেসবের জন্য কোনো শাস্তি বা তিরস্কার নেই। কিন্তু ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এই কাজ চিরতরে নিষিদ্ধ।
এরপর আল্লাহ এই কাজের ভয়াবহতা বর্ণনা করেছেন যে, এটি অত্যন্ত জঘন্য ও অশ্লীল কাজ, যা আল্লাহর কাছে চরম ঘৃণিত। কারণ এটি পারিবারিক সম্পর্ককে ধ্বংস করে, পিতা-পুত্রের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করে এবং সমাজে অশ্লীলতা ছড়ায়। এটি এমন একটি নিকৃষ্ট পথ, যা মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং গজবে (ক্রোধে) নিপতিত করে। তাই এই কাজ থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অপরিহার্য।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
- ইসলাম পারিবারিক সম্পর্ককে অত্যন্ত পবিত্র ও সুরক্ষিত রাখে। পিতার স্ত্রীকে মায়ের মর্যাদা দেওয়া এবং তাকে বিবাহ করা নিষিদ্ধ করে ইসলাম সমাজে শালীনতা ও পবিত্রতা প্রতিষ্ঠা করে।
- ইসলাম অতীতের ভুলগুলো ক্ষমা করে দেয়, যদি মানুষ সত্যিকার অর্থে তাওবা করে। এটি ইসলামের সহনশীলতা ও রহমতের পরিচয়।
- এই আয়াত প্রমাণ করে যে, ইসলাম কেবল ইবাদতের নয়, বরং সামাজিক জীবন, পারিবারিক সম্পর্ক এবং নৈতিকতাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা।
- আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা মানা মানে তাঁর ভালোবাসা ও সন্তুষ্টি অর্জন করা। যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলে, সে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলকাম হয়।
- এই শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ইসলামের প্রতিটি বিধান মানুষের কল্যাণের জন্যই। আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন, তা মানুষের জন্য ক্ষতিকর; আর যা অনুমতি দিয়েছেন, তা মানুষের জন্য উপকারী।
📜 আয়াত 20-24 — আন-নিসা
20وَإِنْ أَرَدتُّمُ اسْتِبْدَالَ زَوْجٍ مَّكَانَ زَوْجٍ وَآتَيْتُمْ إِحْدَاهُنَّ قِنطَارًا فَلَا تَأْخُذُوا مِنْهُ شَيْئًا ۚ أَتَأْخُذُونَهُ بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُّبِينًا
যদি তোমরা এক স্ত্রীর স্থলে অন্য স্ত্রী পরিবর্তন করতে ইচ্ছা কর এবং তাদের একজনকে প্রচুর ধন-সম্পদ প্রদান করে থাক, তবে তা থেকে কিছুই ফেরত গ্রহণ করো না। তোমরা কি তা অন্যায়ভাবে ও প্রকাশ্য গোনাহর মাধ্যমে গ্রহণ করবে?
21وَكَيْفَ تَأْخُذُونَهُ وَقَدْ أَفْضَىٰ بَعْضُكُمْ إِلَىٰ بَعْضٍ وَأَخَذْنَ مِنكُم مِّيثَاقًا غَلِيظًا
তোমরা কিরূপে তা গ্রহণ করতে পার, অথচ তোমাদের একজন অন্য জনের কাছে গমন এবং নারীরা তোমাদের কাছে থেকে সুদৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করেছে।
22وَلَا تَنكِحُوا مَا نَكَحَ آبَاؤُكُم مِّنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ ۚ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَمَقْتًا وَسَاءَ سَبِيلًا
যে নারীকে তোমাদের পিতা-পিতামহ বিবাহ করেছে তোমরা তাদের বিবাহ করো না। কিন্তু যা বিগত হয়ে গেছে। এটা অশ্লীল, গযবের কাজ এবং নিকৃষ্ট আচরণ।
23حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ وَبَنَاتُكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ وَعَمَّاتُكُمْ وَخَالَاتُكُمْ وَبَنَاتُ الْأَخِ وَبَنَاتُ الْأُخْتِ وَأُمَّهَاتُكُمُ اللَّاتِي أَرْضَعْنَكُمْ وَأَخَوَاتُكُم مِّنَ الرَّضَاعَةِ وَأُمَّهَاتُ نِسَائِكُمْ وَرَبَائِبُكُمُ اللَّاتِي فِي حُجُورِكُم مِّن نِّسَائِكُمُ اللَّاتِي دَخَلْتُم بِهِنَّ فَإِن لَّمْ تَكُونُوا دَخَلْتُم بِهِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ وَحَلَائِلُ أَبْنَائِكُمُ الَّذِينَ مِنْ أَصْلَابِكُمْ وَأَن تَجْمَعُوا بَيْنَ الْأُخْتَيْنِ إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا
তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা, তোমাদের কন্যা, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভ্রাতৃকণ্যা; ভগিনীকণ্যা তোমাদের সে মাতা, যারা তোমাদেরকে স্তন্যপান করিয়েছে, তোমাদের দুধ-বোন, তোমাদের স্ত্রীদের মাতা, তোমরা যাদের সাথে সহবাস করেছ সে স্ত্রীদের কন্যা যারা তোমাদের লালন-পালনে আছে। যদি তাদের সাথে সহবাস না করে থাক, তবে এ বিবাহে তোমাদের কোন গোনাহ নেই। তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রী এবং দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা; কিন্তু যা অতীত হয়ে গেছে। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকরী, দয়ালু।
24۞ وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ۖ كِتَابَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ ۚ وَأُحِلَّ لَكُم مَّا وَرَاءَ ذَٰلِكُمْ أَن تَبْتَغُوا بِأَمْوَالِكُم مُّحْصِنِينَ غَيْرَ مُسَافِحِينَ ۚ فَمَا اسْتَمْتَعْتُم بِهِ مِنْهُنَّ فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ فَرِيضَةً ۚ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا تَرَاضَيْتُم بِهِ مِن بَعْدِ الْفَرِيضَةِ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا
এবং নারীদের মধ্যে তাদের ছাড়া সকল সধবা স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে নিষিদ্ধ; তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়ে যায়-এটা তোমাদের জন্য আল্লাহর হুকুম। এদেরকে ছাড়া তোমাদের জন্যে সব নারী হালাল করা হয়েছে, শর্ত এই যে, তোমরা তাদেরকে স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তলব করবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য-ব্যভিচারের জন্য নয়। অনন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা ভোগ করবে, তাকে তার নির্ধারিত হক দান কর। তোমাদের কোন গোনাহ হবে না যদি নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরে সম্মত হও। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিজ্ঞ, রহস্যবিদ।
অনুবাদ — আন-নিসা 22
সূরা আন-নিসা আয়াত 22 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যে নারীকে তোমাদের পিতা-পিতামহ বিবাহ করেছে তোমরা তাদের বিবাহ করো…
সূরা আয়াত 22/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 20–24. বাংলা অর্থ: हिन्दी.