আন-নিসা · 21/176
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আন-নিসা
وَكَيْفَ تَأْخُذُونَهُ وَقَدْ أَفْضَىٰ بَعْضُكُمْ إِلَىٰ بَعْضٍ وَأَخَذْنَ مِنكُم مِّيثَاقًا غَلِيظًا ۝٢١
Wa kaifa taakhuzoonahoo wa qad afdaa ba`dukum ilaa ba`dinw wa akhazna minkum meesaaqan ghaleezaa
📖 বাংলা অর্থ
তোমরা কিরূপে তা গ্রহণ করতে পার, অথচ তোমাদের একজন অন্য জনের কাছে গমন এবং নারীরা তোমাদের কাছে থেকে সুদৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করেছে।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • أَفْضَى بَعْضُكُمْ إِلَى بَعْضٍ: এখানে ‘إفضاء’ শব্দটি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও দাম্পত্য মিলনের প্রতি ইঙ্গিতকারী একটি মার্জিত ও পবিত্র অভিব্যক্তি। অর্থাৎ তোমাদের একে অপরের কাছে পৌঁছে যাওয়া, পরস্পরের গোপনীয়তা ও ঘনিষ্ঠতা লাভ করা।
  • مِيثَاقًا غَلِيظًا: অত্যন্ত শক্তিশালী, দৃঢ় ও মজবুত অঙ্গীকার বা চুক্তি।

তাফসীর:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা স্বামীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্নবোধক স্বরে জিজ্ঞেস করছেন—তোমরা কীভাবে স্ত্রীদেরকে দেওয়া মোহর বা উপঢৌকন ফেরত নিতে পারো, অথচ তোমাদের মধ্যে ইতোমধ্যে গভীর দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপিত হয়ে গেছে? তোমরা একে অপরের কাছে পৌঁছে গেছ, পরস্পরের ঘনিষ্ঠতা ও মিলন ঘটেছে। এই সম্পর্কের পর কি করে তোমাদের বিবেক সায় দেয় যে, তোমরা তাদের কাছ থেকে ফেরত নেবে?

এরপর আল্লাহ তাআলা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, স্ত্রীরা তোমাদের কাছ থেকে একটি অত্যন্ত দৃঢ় ও মজবুত অঙ্গীকার নিয়েছে। এই অঙ্গীকার হলো—তাদেরকে সম্মানের সাথে রাখা অথবা সদয়ভাবে বিদায় দেওয়া। বিবাহের বন্ধনটি আল্লাহর নামে এবং তাঁর কিতাব ও রাসূলের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়, যা একটি পবিত্র ও শক্তিশালী চুক্তি। এই চুক্তির প্রতি সম্মান রেখে এবং দাম্পত্য জীবনের পবিত্রতা বজায় রাখতে স্ত্রীদেরকে দেওয়া মোহর ফেরত নেওয়া সম্পূর্ণ অন্যায়, জঘন্য ও ঘৃণিত কাজ।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. বিবাহ কোনো সাধারণ চুক্তি নয়; বরং এটি আল্লাহর নামে সম্পাদিত একটি পবিত্র ও দৃঢ় অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকারের মর্যাদা রক্ষা করা প্রতিটি মুসলিমের কর্তব্য।
  2. দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক ভালোবাসা, মমতা ও ঘনিষ্ঠতা স্থাপিত হওয়ার পর স্ত্রীর অধিকার হরণ করা বা তাকে কষ্ট দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও ঘৃণিত কাজ।
  3. স্ত্রীর মোহর তার সম্পূর্ণ অধিকার; তা ফেরত নেওয়ার কোনো বৈধ পথ নেই, যতক্ষণ না শরিয়তসম্মত কোনো বিশেষ কারণ থাকে।
  4. ইসলাম নারীদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় অত্যন্ত যত্নবান; এই আয়াতটি নারীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়।
  5. বিবাহের বন্ধনকে কখনো তুচ্ছ বা হেয় দৃষ্টিতে দেখা উচিত নয়; বরং এটিকে আল্লাহর নেয়ামত ও পবিত্র সম্পর্ক হিসেবে লালন করা উচিত, যা পরিবারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনে।


📜 আয়াত 19-23 — সূরা আন-নিসা

19يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَحِلُّ لَكُمْ أَن تَرِثُوا النِّسَاءَ كَرْهًا ۖ وَلَا تَعْضُلُوهُنَّ لِتَذْهَبُوا بِبَعْضِ مَا آتَيْتُمُوهُنَّ إِلَّا أَن يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُّبَيِّنَةٍ ۚ وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ ۚ فَإِن كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَىٰ أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَيَجْعَلَ اللَّهُ فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا
হে ঈমাণদারগণ! বলপূর্বক নারীদেরকে উত্তরাধিকারে গ্রহন করা তোমাদের জন্যে হালাল নয় এবং তাদেরকে আটক রেখো না যাতে তোমরা তাদেরকে যা প্রদান করেছ তার কিয়দংশ নিয়ে নাও; কিন্তু তারা যদি কোন প্রকাশ্য অশ্লীলতা করে! নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবন-যাপন কর। অতঃপর যদি তাদেরকে অপছন্দ কর, তবে হয়ত তোমরা এমন এক জিনিসকে অপছন্দ করছ, যাতে আল্লাহ, অনেক কল্যাণ রেখেছেন।
20وَإِنْ أَرَدتُّمُ اسْتِبْدَالَ زَوْجٍ مَّكَانَ زَوْجٍ وَآتَيْتُمْ إِحْدَاهُنَّ قِنطَارًا فَلَا تَأْخُذُوا مِنْهُ شَيْئًا ۚ أَتَأْخُذُونَهُ بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُّبِينًا
যদি তোমরা এক স্ত্রীর স্থলে অন্য স্ত্রী পরিবর্তন করতে ইচ্ছা কর এবং তাদের একজনকে প্রচুর ধন-সম্পদ প্রদান করে থাক, তবে তা থেকে কিছুই ফেরত গ্রহণ করো না। তোমরা কি তা অন্যায়ভাবে ও প্রকাশ্য গোনাহর মাধ্যমে গ্রহণ করবে?
21وَكَيْفَ تَأْخُذُونَهُ وَقَدْ أَفْضَىٰ بَعْضُكُمْ إِلَىٰ بَعْضٍ وَأَخَذْنَ مِنكُم مِّيثَاقًا غَلِيظًا
তোমরা কিরূপে তা গ্রহণ করতে পার, অথচ তোমাদের একজন অন্য জনের কাছে গমন এবং নারীরা তোমাদের কাছে থেকে সুদৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করেছে।
22وَلَا تَنكِحُوا مَا نَكَحَ آبَاؤُكُم مِّنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ ۚ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَمَقْتًا وَسَاءَ سَبِيلًا
যে নারীকে তোমাদের পিতা-পিতামহ বিবাহ করেছে তোমরা তাদের বিবাহ করো না। কিন্তু যা বিগত হয়ে গেছে। এটা অশ্লীল, গযবের কাজ এবং নিকৃষ্ট আচরণ।
23حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ وَبَنَاتُكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ وَعَمَّاتُكُمْ وَخَالَاتُكُمْ وَبَنَاتُ الْأَخِ وَبَنَاتُ الْأُخْتِ وَأُمَّهَاتُكُمُ اللَّاتِي أَرْضَعْنَكُمْ وَأَخَوَاتُكُم مِّنَ الرَّضَاعَةِ وَأُمَّهَاتُ نِسَائِكُمْ وَرَبَائِبُكُمُ اللَّاتِي فِي حُجُورِكُم مِّن نِّسَائِكُمُ اللَّاتِي دَخَلْتُم بِهِنَّ فَإِن لَّمْ تَكُونُوا دَخَلْتُم بِهِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ وَحَلَائِلُ أَبْنَائِكُمُ الَّذِينَ مِنْ أَصْلَابِكُمْ وَأَن تَجْمَعُوا بَيْنَ الْأُخْتَيْنِ إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا
তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা, তোমাদের কন্যা, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভ্রাতৃকণ্যা; ভগিনীকণ্যা তোমাদের সে মাতা, যারা তোমাদেরকে স্তন্যপান করিয়েছে, তোমাদের দুধ-বোন, তোমাদের স্ত্রীদের মাতা, তোমরা যাদের সাথে সহবাস করেছ সে স্ত্রীদের কন্যা যারা তোমাদের লালন-পালনে আছে। যদি তাদের সাথে সহবাস না করে থাক, তবে এ বিবাহে তোমাদের কোন গোনাহ নেই। তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রী এবং দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা; কিন্তু যা অতীত হয়ে গেছে। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকরী, দয়ালু।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
21আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 21

সূরা আন-নিসা আয়াত 21 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তোমরা কিরূপে তা গ্রহণ করতে পার, অথচ তোমাদের একজন অন্য…

সূরা আয়াত 21/176 — সূরা আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আন-নিসা শুনুন, সূরা আন-নিসা অনুবাদ, সূরা আন-নিসা mp3, সূরা আন-নিসা pdf. আয়াত 19–23. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না