আন-নিসা · 35/176
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আন-নিসা
وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِّنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِّنْ أَهْلِهَا إِن يُرِيدَا إِصْلَاحًا يُوَفِّقِ اللَّهُ بَيْنَهُمَا ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا خَبِيرًا ۝٣٥
Wa in khiftum shiqaaqa baini himaa fab`asoo haka mam min ahlihee wa hakamam min ahlihaa; iny-yureedaaa islaah ai-yuwaffiqil laahu bainahumaa; innal laaha kaana `Aleeman Khabeeraa
📖 বাংলা অর্থ
যদি তাদের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হওয়ার মত পরিস্থিতিরই আশঙ্কা কর, তবে স্বামীর পরিবার থেকে একজন এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিস নিযুক্ত করবে। তারা উভয়ের মীমাংসা চাইলে আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছু অবহিত।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • شِقَاق — স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য, বিরোধ ও বিচ্ছেদের আশঙ্কা।
  • حَكَمًا — মধ্যস্থতাকারী, বিচারক বা সালিশকারী।
  • مِّنْ أَهْلِهِ — স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে।
  • مِّنْ أَهْلِهَا — স্ত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে।
  • يُوَفِّقِ — মিলন ঘটানো, সম্প্রীতি স্থাপন করা।
  • عَلِيمًا خَبِيرًا — সর্বজ্ঞ, যিনি প্রকাশ্য-গোপন সব বিষয়ে অবগত।

তাফসীর:

হে মুসলিম সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিগণ! যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এমন বিরোধ ও কলহ সৃষ্টি হয়েছে যা তাদের সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, তাহলে তোমরা উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে দুজন ন্যায়পরায়ণ ও বিজ্ঞ ব্যক্তিকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করো—একজন স্বামীর পরিবার থেকে এবং另一位 স্ত্রীর পরিবার থেকে। এই দুইজন সালিশকারী যেন উভয় পক্ষের কথা শুনে ন্যায়সঙ্গতভাবে মীমাংসার চেষ্টা করে। তাদের কর্তব্য হবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সন্ধি স্থাপন করা, আর যদি সন্ধি সম্ভব না হয় তবে বিচ্ছেদের সুপারিশ করা। তবে সন্ধি ও মিলনই সর্বোত্তম এবং তা-ই কাম্য।

যদি এই দুইজন সালিশকারীর নিয়ত খাঁটি হয় এবং তারা সত্যিকার অর্থে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে চায়, তবে আল্লাহ তাআলা তাদের এই প্রচেষ্টায় বরকত দেবেন এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতি স্থাপন করে দেবেন। কারণ আল্লাহ তাআলা সবকিছু জানেন—তিনি জানেন কার অন্তরে কী আছে, কার নিয়ত কেমন। তিনি প্রকাশ্য ও গোপন সব বিষয়ে সম্পূর্ণ অবগত। তাই যদি সালিশকারীদের নিয়ত শুদ্ধ হয়, তবে আল্লাহ তাদের কাজে সাফল্য দান করেন।

এ আয়াত থেকে আমরা শিখি—দাম্পত্য কলহ সমাধানে পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম কখনোই সমস্যাকে উপেক্ষা করতে বলে না, বরং সমস্যা সমাধানের জন্য বাস্তবসম্মত ও ন্যায়সঙ্গত পথ দেখায়। পরিবারের বড়রা যখন ন্যায়পরায়ণতা ও আন্তরিকতার সাথে মধ্যস্থতা করে, তখন আল্লাহর সাহায্য তাদের সাথে থাকে। এই শিক্ষা আমাদের প্রতিটি মুসলিম পরিবারকে অনুসরণ করা উচিত, যাতে আমাদের সমাজে পারিবারিক বন্ধন আরও মজবুত হয় এবং ঘরে ঘরে শান্তি বিরাজ করে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে পারিবারিক শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।



📜 আয়াত 33-37 — সূরা আন-নিসা

33وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ ۚ وَالَّذِينَ عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ فَآتُوهُمْ نَصِيبَهُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدًا
পিতা-মাতা এবং নিকটাত্নীয়গণ যা ত্যাগ করে যান সেসবের জন্যই আমি উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করে দিয়েছি। আর যাদের সাথে তোমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছ তাদের প্রাপ্য দিয়ে দাও। আল্লাহ তা’আলা নিঃসন্দেহে সব কিছুই প্রত্যক্ষ করেন।
34الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ وَبِمَا أَنفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ ۚ فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِّلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ ۚ وَاللَّاتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ ۖ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيرًا
পুরুষেরা নারীদের উপর কৃর্তত্বশীল এ জন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে। সে মতে নেককার স্ত্রীলোকগণ হয় অনুগতা এবং আল্লাহ যা হেফাযতযোগ্য করে দিয়েছেন লোক চক্ষুর অন্তরালেও তার হেফাযত করে। আর যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং প্রহার কর। যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায়, তবে আর তাদের জন্য অন্য কোন পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সবার উপর শ্রেষ্ঠ।
35وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِّنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِّنْ أَهْلِهَا إِن يُرِيدَا إِصْلَاحًا يُوَفِّقِ اللَّهُ بَيْنَهُمَا ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا خَبِيرًا
যদি তাদের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হওয়ার মত পরিস্থিতিরই আশঙ্কা কর, তবে স্বামীর পরিবার থেকে একজন এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিস নিযুক্ত করবে। তারা উভয়ের মীমাংসা চাইলে আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছু অবহিত।
36۞ وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا ۖ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَىٰ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَىٰ وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَن كَانَ مُخْتَالًا فَخُورًا
আর উপাসনা কর আল্লাহর, শরীক করো না তাঁর সাথে অপর কাউকে। পিতা-মাতার সাথে সৎ ও সদয় ব্যবহার কর এবং নিকটাত্নীয়, এতীম-মিসকীন, প্রতিবেশী, অসহায় মুসাফির এবং নিজের দাস-দাসীর প্রতিও। নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না দাম্ভিক-গর্বিতজনকে।
37الَّذِينَ يَبْخَلُونَ وَيَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبُخْلِ وَيَكْتُمُونَ مَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ ۗ وَأَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ عَذَابًا مُّهِينًا
যারা নিজেরাও কার্পন্য করে এবং অন্যকেও কৃপণতা শিক্ষা দেয় আর গোপন করে সে সব বিষয় যা আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে দান করেছেন স্বীয় অনুগ্রহে-বস্তুতঃ তৈরী করে রেখেছি কাফেরদের জন্য অপমান জনক আযাব।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীRevelation
35আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 35

সূরা আন-নিসা আয়াত 35 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যদি তাদের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হওয়ার মত পরিস্থিতিরই আশঙ্কা কর, তবে…

সূরা আয়াত 35/176 — সূরা আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আন-নিসা শুনুন, সূরা আন-নিসা অনুবাদ, সূরা আন-নিসা mp3, সূরা আন-নিসা pdf. আয়াত 33–37. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Monday, September 7, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না