আন-নিসা · 36/176
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আন-নিসা
۞ وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا ۖ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَىٰ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَىٰ وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَن كَانَ مُخْتَالًا فَخُورًا ۝٣٦
Wa`budul laaha wa laa tushrikoo bihee shai`anw wa bilwaalidaini ihsaananw wa bizil qurbaa walyataamaa walmasaakeeni waljaari zilqurbaa waljaaril junubi wassaahibi biljambi wabnis sabeeli wa maa malakat aimaanukum; innal laaha laa yuhibbu man kaana mukhtaalan fakhooraa
📖 বাংলা অর্থ
আর উপাসনা কর আল্লাহর, শরীক করো না তাঁর সাথে অপর কাউকে। পিতা-মাতার সাথে সৎ ও সদয় ব্যবহার কর এবং নিকটাত্নীয়, এতীম-মিসকীন, প্রতিবেশী, অসহায় মুসাফির এবং নিজের দাস-দাসীর প্রতিও। নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না দাম্ভিক-গর্বিতজনকে।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • وَاعْبُدُوا اللهَ: আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁর একত্ববাদে বিশ্বাস স্থাপন করো এবং তাঁর আদেশের অনুগত হও।
  • لَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا: তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না—তা মূর্তি, মানুষ বা অন্য যেকোনো বস্তুই হোক।
  • إِحْسَانًا: সর্বোত্তম আচরণ, দয়া ও সদ্ব্যবহার করা।
  • ذِي الْقُرْبَى: আত্মীয়-স্বজন।
  • الْجَارِ ذِي الْقُرْبَى: সেই প্রতিবেশী যার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক আছে।
  • الْجَارِ الْجُنُبِ: সেই প্রতিবেশী যে আত্মীয় নয়, অথবা দূরের প্রতিবেশী।
  • الصَّاحِبِ بِالْجَنْبِ: স্ত্রী, অথবা সফরের সঙ্গী, অথবা সাথে থাকা বন্ধু।
  • ابْنِ السَّبِيلِ: মুসাফির যে পথে আটকে পড়েছে অথবা অতিথি।
  • مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ: দাস-দাসী বা অধীনস্থ কর্মচারীরা।
  • مُخْتَالًا: অহংকারী, যে নিজেকে বড় মনে করে এবং মানুষকে তুচ্ছ জ্ঞান করে।
  • فَخُورًا: নিজের প্রশংসা করে এবং মানুষকে নিচু দেখানোর জন্য নিজের গুণগান করে।

তাফসির:

আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে তাঁর বান্দাদেরকে সর্বপ্রথম তাওহিদের নির্দেশ দিয়েছেন—তাঁর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না। ইবাদত মানে শুধু নামাজ-রোজা নয়, বরং আল্লাহর আদেশের পূর্ণ অনুগত্য এবং তাঁর সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ লক্ষ্য বানানো। শিরক হলো সবচেয়ে বড় অন্যায়, যা আল্লাহ কখনো ক্ষমা করবেন না।

এরপর আল্লাহ তাআলা মানবীয় সম্পর্কের একটি সুন্দর চিত্র এঁকেছেন। প্রথমেই পিতা-মাতার কথা বলা হয়েছে—তাদের সাথে সর্বোত্তম আচরণ করতে হবে, তাদের সম্মান করতে হবে, তাদের সেবা করতে হবে এবং তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করতে হবে। পিতা-মাতার পর আত্মীয়-স্বজন, এতিম, অভাবী মানুষ—এদের প্রতিও ইহসান তথা ভালো ব্যবহার করতে হবে।

তারপর আল্লাহ তাআলা প্রতিবেশীদের কথা উল্লেখ করেছেন। নিকট আত্মীয় প্রতিবেশী এবং দূরের প্রতিবেশী—উভয়ের প্রতিই সদ্ব্যবহার করতে হবে। এমনকি যে প্রতিবেশী আত্মীয় নয়, তার প্রতিও দয়া দেখাতে হবে। এরপর স্ত্রী বা সফরের সঙ্গী, পথে আটকে পড়া মুসাফির এবং অধীনস্থ দাস-দাসী বা কর্মচারীদের প্রতিও ইহসান করতে বলা হয়েছে।

আয়াতের শেষে আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, তিনি অহংকারী ও আত্মপ্রশংসাকারী মানুষদের পছন্দ করেন না। যারা নিজেকে বড় মনে করে, মানুষের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে এবং নিজের গুণগান করে মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করে, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন না।


উপকারিতা ও শিক্ষা:

  1. তাওহিদই ইসলামের মূল ভিত্তি—আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর একত্ববাদ ছাড়া কোনো নেক আমল কবুল হয় না।
  2. পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার আল্লাহর ইবাদতের পরই সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ আমল।
  3. ইসলাম সামাজিক দায়বদ্ধতার শিক্ষা দেয়—আত্মীয়, প্রতিবেশী, এতিম, অভাবী, মুসাফির—সবার প্রতি দয়া ও ভালো ব্যবহার করা মুমিনের কর্তব্য।
  4. যাদের ওপর আমাদের কর্তৃত্ব আছে—কর্মচারী, অধীনস্থ—তাদের প্রতিও ন্যায় ও দয়া প্রদর্শন করতে হবে।
  5. অহংকার ও আত্মপ্রশংসা একটি মারাত্মক রোগ, যা মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। বিনয় ও নম্রতাই মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
  6. এই আয়াত প্রমাণ করে ইসলাম কত সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা—যেখানে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক এবং মানুষের সাথে সম্পর্ক—উভয়েরই ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছে।


📜 আয়াত 34-38 — সূরা আন-নিসা

34الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ وَبِمَا أَنفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ ۚ فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِّلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ ۚ وَاللَّاتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ ۖ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيرًا
পুরুষেরা নারীদের উপর কৃর্তত্বশীল এ জন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে। সে মতে নেককার স্ত্রীলোকগণ হয় অনুগতা এবং আল্লাহ যা হেফাযতযোগ্য করে দিয়েছেন লোক চক্ষুর অন্তরালেও তার হেফাযত করে। আর যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং প্রহার কর। যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায়, তবে আর তাদের জন্য অন্য কোন পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সবার উপর শ্রেষ্ঠ।
35وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِّنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِّنْ أَهْلِهَا إِن يُرِيدَا إِصْلَاحًا يُوَفِّقِ اللَّهُ بَيْنَهُمَا ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا خَبِيرًا
যদি তাদের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হওয়ার মত পরিস্থিতিরই আশঙ্কা কর, তবে স্বামীর পরিবার থেকে একজন এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিস নিযুক্ত করবে। তারা উভয়ের মীমাংসা চাইলে আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছু অবহিত।
36۞ وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا ۖ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَىٰ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَىٰ وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَن كَانَ مُخْتَالًا فَخُورًا
আর উপাসনা কর আল্লাহর, শরীক করো না তাঁর সাথে অপর কাউকে। পিতা-মাতার সাথে সৎ ও সদয় ব্যবহার কর এবং নিকটাত্নীয়, এতীম-মিসকীন, প্রতিবেশী, অসহায় মুসাফির এবং নিজের দাস-দাসীর প্রতিও। নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না দাম্ভিক-গর্বিতজনকে।
37الَّذِينَ يَبْخَلُونَ وَيَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبُخْلِ وَيَكْتُمُونَ مَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ ۗ وَأَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ عَذَابًا مُّهِينًا
যারা নিজেরাও কার্পন্য করে এবং অন্যকেও কৃপণতা শিক্ষা দেয় আর গোপন করে সে সব বিষয় যা আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে দান করেছেন স্বীয় অনুগ্রহে-বস্তুতঃ তৈরী করে রেখেছি কাফেরদের জন্য অপমান জনক আযাব।
38وَالَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ رِئَاءَ النَّاسِ وَلَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ ۗ وَمَن يَكُنِ الشَّيْطَانُ لَهُ قَرِينًا فَسَاءَ قَرِينًا
আর সে সমস্ত লোক যারা ব্যয় করে স্বীয় ধন-সম্পদ লোক-দেখানোর উদ্দেশে এবং যারা আল্লাহর উপর ঈমান আনে না, ঈমান আনে না কেয়ামত দিবসের প্রতি এবং শয়তান যার সাথী হয় সে হল নিকৃষ্টতর সাথী।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
36আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 36

সূরা আন-নিসা আয়াত 36 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আর উপাসনা কর আল্লাহর, শরীক করো না তাঁর সাথে অপর…

সূরা আয়াত 36/176 — সূরা আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আন-নিসা শুনুন, সূরা আন-নিসা অনুবাদ, সূরা আন-নিসা mp3, সূরা আন-নিসা pdf. আয়াত 34–38. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না