Mishary Rashid Alafasy
✓
Mahmoud Khalil Al-Husary
✓
Abdurrahman As-Sudais
✓
Mohamed Siddiq Al-Minshawi
✓
Abdul Basit Abdul Samad
✓
Ali Al-Hudhaify
✓
Ahmed ibn Ali al-Ajamy
✓
Abu Bakr Ash-Shaatree
✓
Muhammad Ayyoub
✓
Abdullah Basfar
✓
Abdullah Al-Juhani
✓
Maher Al Muaiqly
✓
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
- يُشْرَكَ بِهِ — আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা (শিরক করা)।
- افْتَرَى — মিথ্যা রচনা করা, অপবাদ দেওয়া, মনগড়া কথা উদ্ভাবন করা।
- إِثْمًا عَظِيمًا — মহাপাপ, গুরুতর অপরাধ।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই ব্যক্তির পাপ ক্ষমা করবেন না, যে তাঁর সাথে কাউকে শরিক করে (শিরক করে) এবং যে শিরক থেকে বিরত থাকে, তার অন্যান্য ছোট-বড় গুনাহগুলো তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন। অর্থাৎ, শিরক হলো এমন একটি মহাপাপ যা ক্ষমার অযোগ্য — যদি কেউ এই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। তবে শিরক ছাড়া অন্যান্য গুনাহ — যেমন মিথ্যা বলা, গীবত করা, অন্যায়ভাবে কাউকে কষ্ট দেওয়া ইত্যাদি — সেগুলো আল্লাহ তাঁর ইচ্ছানুযায়ী ক্ষমা করে দিতে পারেন অথবা তাঁর ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে শাস্তিও দিতে পারেন।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই আয়াতটি তাদের জন্য প্রযোজ্য যারা তওবা (নিষ্কলুষ মনে আল্লাহর কাছে ফিরে আসা) না করেই মৃত্যুবরণ করে। কারণ, যে ব্যক্তি শিরক করেও মৃত্যুর আগে আন্তরিকভাবে তওবা করে, আল্লাহ তার শিরকও ক্ষমা করে দেন। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি শিরক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তার জন্য ক্ষমার কোনো সুযোগ নেই। আর যারা শিরক করেনি কিন্তু অন্যান্য পাপ করেছে, তারা যদি তওবা না করেও মারা যায়, তবে আল্লাহ চাইলে তাদের ক্ষমা করবেন, আবার চাইলে তাদের পাপের অনুপাতে শাস্তি দেবেন — এটি সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।
এরপর আল্লাহ তাআলা শিরককারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করল, সে তো এক ভয়ংকর মিথ্যা অপবাদ রচনা করল।” অর্থাৎ, শিরক করা আল্লাহর পবিত্র সত্তার বিরুদ্ধে চরম মিথ্যা অপবাদ — কারণ আল্লাহ একক, অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো অংশীদার নেই; আর শিরককারী তাকে এমন কিছুর সাথে তুলনা করে বা শরিক করে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এটি এমন এক মহাপাপ যা আকাশসমূহ ও পৃথিবীকে ভারী করে দেয়।
শিক্ষা ও উপদেশ:
- শিরক হলো সবচেয়ে বড় অন্যায় ও মহাপাপ — এটি আল্লাহর একত্ববাদের পরিপন্থী এবং ক্ষমার অযোগ্য, যদি তওবা না করা হয়। তাই আমাদের উচিত সর্বদা শিরক থেকে দূরে থাকা এবং তাওহিদের ওপর অটল থাকা।
- আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু ও ক্ষমাশীল — তিনি তাঁর বান্দাদের ছোট-বড় গুনাহ ক্ষমা করতে পারেন, যদি তারা শিরক না করে এবং তওবা করে। এটি আমাদের আল্লাহর রহমতের প্রতি আশাবাদী করে তোলে।
- তওবার গুরুত্ব অপরিসীম — শিরকসহ যেকোনো পাপ থেকে ফিরে আসার দরজা আল্লাহ খোলা রেখেছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তওবার সুযোগ আছে, কিন্তু মৃত্যুর পর আর কোনো সুযোগ নেই।
- আল্লাহর প্রতি ন্যায়বিচার ও রহমতের ভারসাম্য — আল্লাহ যেমন ক্ষমাশীল, তেমনি তিনি ন্যায়বিচারকও। তাই আমাদের উচিত তাঁর শাস্তির ভয় রাখা এবং তাঁর রহমতের আশা করা — এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা।
- শিরক যে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন — আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া কথা। এটি বুদ্ধিমানের কাজ নয়; বরং এটি চরম অজ্ঞতা ও পথভ্রষ্টতার পরিচয়।
📜 আয়াত 46-50 — সূরা আন-নিসা
অনুবাদ — আন-নিসা 48
সূরা আন-নিসা আয়াত 48 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে…সূরা আয়াত 48/176 — সূরা আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আন-নিসা শুনুন, সূরা আন-নিসা অনুবাদ, সূরা আন-নিসা mp3, সূরা আন-নিসা pdf. আয়াত 46–50. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
সূরা আন-নিসা
পবিত্র কুরআন
Tuesday, September 29, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না


