আন-নিসা · 48/176
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নিসা
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَاءُ ۚ وَمَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَىٰ إِثْمًا عَظِيمًا ۝٤٨
Innal laaha laa yaghfiru ai yushraka bihee wa yaghfiru maa doona zaalika limai yashaaa`; wa mai yushrik billaahi faqadif taraaa isman `azeemaa
📖 বাংলা অর্থ
নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন। আর যে লোক অংশীদার সাব্যস্ত করল আল্লাহর সাথে, সে যেন অপবাদ আরোপ করল।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • يُشْرَكَ بِهِ — আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা (শিরক করা)।
  • افْتَرَى — মিথ্যা রচনা করা, অপবাদ দেওয়া, মনগড়া কথা উদ্ভাবন করা।
  • إِثْمًا عَظِيمًا — মহাপাপ, গুরুতর অপরাধ।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই ব্যক্তির পাপ ক্ষমা করবেন না, যে তাঁর সাথে কাউকে শরিক করে (শিরক করে) এবং যে শিরক থেকে বিরত থাকে, তার অন্যান্য ছোট-বড় গুনাহগুলো তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন। অর্থাৎ, শিরক হলো এমন একটি মহাপাপ যা ক্ষমার অযোগ্য — যদি কেউ এই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। তবে শিরক ছাড়া অন্যান্য গুনাহ — যেমন মিথ্যা বলা, গীবত করা, অন্যায়ভাবে কাউকে কষ্ট দেওয়া ইত্যাদি — সেগুলো আল্লাহ তাঁর ইচ্ছানুযায়ী ক্ষমা করে দিতে পারেন অথবা তাঁর ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে শাস্তিও দিতে পারেন।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই আয়াতটি তাদের জন্য প্রযোজ্য যারা তওবা (নিষ্কলুষ মনে আল্লাহর কাছে ফিরে আসা) না করেই মৃত্যুবরণ করে। কারণ, যে ব্যক্তি শিরক করেও মৃত্যুর আগে আন্তরিকভাবে তওবা করে, আল্লাহ তার শিরকও ক্ষমা করে দেন। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি শিরক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তার জন্য ক্ষমার কোনো সুযোগ নেই। আর যারা শিরক করেনি কিন্তু অন্যান্য পাপ করেছে, তারা যদি তওবা না করেও মারা যায়, তবে আল্লাহ চাইলে তাদের ক্ষমা করবেন, আবার চাইলে তাদের পাপের অনুপাতে শাস্তি দেবেন — এটি সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।

এরপর আল্লাহ তাআলা শিরককারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করল, সে তো এক ভয়ংকর মিথ্যা অপবাদ রচনা করল।” অর্থাৎ, শিরক করা আল্লাহর পবিত্র সত্তার বিরুদ্ধে চরম মিথ্যা অপবাদ — কারণ আল্লাহ একক, অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো অংশীদার নেই; আর শিরককারী তাকে এমন কিছুর সাথে তুলনা করে বা শরিক করে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এটি এমন এক মহাপাপ যা আকাশসমূহ ও পৃথিবীকে ভারী করে দেয়।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. শিরক হলো সবচেয়ে বড় অন্যায় ও মহাপাপ — এটি আল্লাহর একত্ববাদের পরিপন্থী এবং ক্ষমার অযোগ্য, যদি তওবা না করা হয়। তাই আমাদের উচিত সর্বদা শিরক থেকে দূরে থাকা এবং তাওহিদের ওপর অটল থাকা।
  2. আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু ও ক্ষমাশীল — তিনি তাঁর বান্দাদের ছোট-বড় গুনাহ ক্ষমা করতে পারেন, যদি তারা শিরক না করে এবং তওবা করে। এটি আমাদের আল্লাহর রহমতের প্রতি আশাবাদী করে তোলে।
  3. তওবার গুরুত্ব অপরিসীম — শিরকসহ যেকোনো পাপ থেকে ফিরে আসার দরজা আল্লাহ খোলা রেখেছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তওবার সুযোগ আছে, কিন্তু মৃত্যুর পর আর কোনো সুযোগ নেই।
  4. আল্লাহর প্রতি ন্যায়বিচার ও রহমতের ভারসাম্য — আল্লাহ যেমন ক্ষমাশীল, তেমনি তিনি ন্যায়বিচারকও। তাই আমাদের উচিত তাঁর শাস্তির ভয় রাখা এবং তাঁর রহমতের আশা করা — এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা।
  5. শিরক যে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন — আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া কথা। এটি বুদ্ধিমানের কাজ নয়; বরং এটি চরম অজ্ঞতা ও পথভ্রষ্টতার পরিচয়।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 46-50 — আন-নিসা

46مِّنَ الَّذِينَ هَادُوا يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَن مَّوَاضِعِهِ وَيَقُولُونَ سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا وَاسْمَعْ غَيْرَ مُسْمَعٍ وَرَاعِنَا لَيًّا بِأَلْسِنَتِهِمْ وَطَعْنًا فِي الدِّينِ ۚ وَلَوْ أَنَّهُمْ قَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَاسْمَعْ وَانظُرْنَا لَكَانَ خَيْرًا لَّهُمْ وَأَقْوَمَ وَلَٰكِن لَّعَنَهُمُ اللَّهُ بِكُفْرِهِمْ فَلَا يُؤْمِنُونَ إِلَّا قَلِيلًا
কোন কোন ইহুদী তার লক্ষ্য থেকে কথার মোড় ঘুড়িয়ে নেয় এবং বলে, আমরা শুনেছি কিন্তু অমান্য করছি। তারা আরো বলে, শোন, না শোনার মত। মুখ বাঁকিয়ে দ্বীনের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রদর্শনের উদ্দেশে বলে, রায়েনা’ (আমাদের রাখাল)। অথচ যদি তারা বলত যে, আমরা শুনেছি ও মান্য করেছি এবং (যদি বলত, ) শোন এবং আমাদের প্রতি লক্ষ্য রাখ, তবে তাই ছিল তাদের জন্য উত্তম আর সেটাই ছিল যথার্থ ও সঠিক। কিন্তু আল্লাহ তাদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন তাদের কুফরীর দরুন। অতএব, তারা ঈমান আনছে না, কিন্তু অতি অল্পসংখ্যক।
47يَا أَيُّهَا الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ آمِنُوا بِمَا نَزَّلْنَا مُصَدِّقًا لِّمَا مَعَكُم مِّن قَبْلِ أَن نَّطْمِسَ وُجُوهًا فَنَرُدَّهَا عَلَىٰ أَدْبَارِهَا أَوْ نَلْعَنَهُمْ كَمَا لَعَنَّا أَصْحَابَ السَّبْتِ ۚ وَكَانَ أَمْرُ اللَّهِ مَفْعُولًا
হে আসমানী গ্রন্থের অধিকারীবৃন্দ! যা কিছু আমি অবতীর্ণ করেছি তার উপর বিশ্বাস স্থাপন কর, যা সে গ্রন্থের সত্যায়ন করে এবং যা তোমাদের নিকট রয়েছে পূর্ব থেকে। (বিশ্বাস স্থাপন কর) এমন হওয়ার আগেই যে, আমি মুছে দেব অনেক চেহারাকে এবং অতঃপর সেগুলোকে ঘুরিয়ে দেব পশ্চাৎ দিকে কিংবা অভিসম্পাত করব তাদের প্রতি যেমন করে অভিসম্পাত করেছি আছহাবে-সাবতের উপর। আর আল্লাহর নির্দেশ অবশ্যই কার্যকর হবে।
48إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَاءُ ۚ وَمَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَىٰ إِثْمًا عَظِيمًا
নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন। আর যে লোক অংশীদার সাব্যস্ত করল আল্লাহর সাথে, সে যেন অপবাদ আরোপ করল।
49أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يُزَكُّونَ أَنفُسَهُم ۚ بَلِ اللَّهُ يُزَكِّي مَن يَشَاءُ وَلَا يُظْلَمُونَ فَتِيلًا
তুমি কি তাদেকে দেখনি, যারা নিজেদেরকে পূত-পবিত্র বলে থাকে অথচ পবিত্র করেন আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকেই? বস্তুতঃ তাদের উপর সুতা পরিমাণ অন্যায়ও হবে না।
50انظُرْ كَيْفَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ ۖ وَكَفَىٰ بِهِ إِثْمًا مُّبِينًا
লক্ষ্য কর, কেমন করে তারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে, অথচ এই প্রকাশ্য পাপই যথেষ্ট।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীRevelation
48আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 48

সূরা আন-নিসা আয়াত 48 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে…

সূরা আয়াত 48/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 46–50. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না