আন-নিসা · 47/176
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নিসা
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ آمِنُوا بِمَا نَزَّلْنَا مُصَدِّقًا لِّمَا مَعَكُم مِّن قَبْلِ أَن نَّطْمِسَ وُجُوهًا فَنَرُدَّهَا عَلَىٰ أَدْبَارِهَا أَوْ نَلْعَنَهُمْ كَمَا لَعَنَّا أَصْحَابَ السَّبْتِ ۚ وَكَانَ أَمْرُ اللَّهِ مَفْعُولًا ۝٤٧
yaaa aiyuha lazeena ootu Kitaaba aaminoo bimaa nazzalnaa musadiqallimaa ma`akum min qabli an natmisa wujoohan fanaruddahaa `alaaa adbaarihaaa aw nal`anahum kamaa la`annaaa Ashaabas Sabt; wa kaana amrul laahi maf`oolaa
📖 বাংলা অর্থ
হে আসমানী গ্রন্থের অধিকারীবৃন্দ! যা কিছু আমি অবতীর্ণ করেছি তার উপর বিশ্বাস স্থাপন কর, যা সে গ্রন্থের সত্যায়ন করে এবং যা তোমাদের নিকট রয়েছে পূর্ব থেকে। (বিশ্বাস স্থাপন কর) এমন হওয়ার আগেই যে, আমি মুছে দেব অনেক চেহারাকে এবং অতঃপর সেগুলোকে ঘুরিয়ে দেব পশ্চাৎ দিকে কিংবা অভিসম্পাত করব তাদের প্রতি যেমন করে অভিসম্পাত করেছি আছহাবে-সাবতের উপর। আর আল্লাহর নির্দেশ অবশ্যই কার্যকর হবে।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • طَمْس — মুছে ফেলা, নিশ্চিহ্ন করা, আকৃতি বিকৃত করা।
  • نَرُدَّهَا عَلَىٰ أَدْبَارِهَا — তাদের চেহারাগুলোকে পেছনের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া, অর্থাৎ মুখকে ঘাড়ের পেছনের দিকে করে দেওয়া।
  • نَلْعَنَهُمْ — তাদেরকে অভিশাপ দেওয়া, রহমত থেকে বিতাড়িত করা।
  • أَصْحَابَ السَّبْتِ — শনিবারের (সাব্বাত) অনুসারীরা, অর্থাৎ সেই ইহুদিরা যারা শনিবারে মাছ শিকার করে আল্লাহর আদেশ লঙ্ঘন করেছিল।

তাফসীর:

হে আহলে কিতাব! (ইহুদি ও খ্রিস্টানরা!) তোমরা সেই কিতাবের প্রতি ঈমান আনো যা আমরা আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর নাজিল করেছি—অর্থাৎ আল-কুরআন। এই কিতাব তোমাদের কাছে থাকা তাওরাত ও ইঞ্জিলকে সত্যায়ন করে, কারণ এটি তাদেরই মূল শিক্ষা ও ভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতা ও চূড়ান্ত রূপ। সুতরাং তোমাদের উচিত তা মেনে নেওয়া এবং অনুসরণ করা।

তবে সাবধান! এই ঈমান আনার জন্য তোমাদের সময় খুবই কম। কারণ এর আগেই আল্লাহর শাস্তি নেমে আসতে পারে। যদি তোমরা ঈমান না আনো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের চেহারাগুলোকে এমনভাবে মুছে দেবেন বা বিকৃত করে দেবেন যে সেগুলো ঘাড়ের পেছনের দিকে ঘুরে যাবে—চোখ, নাক, কান সবকিছু পেছনে চলে যাবে, ফলে তোমাদের চেনাই যাবে না। অথবা তিনি তোমাদেরকে অভিশাপ দেবেন এবং রহমত থেকে বিতাড়িত করবেন, যেমনটি তিনি শনিবারের লঙ্ঘনকারী ইহুদিদের করেছিলেন—তাদেরকে বানর ও শূকরে রূপান্তরিত করে দিয়েছিলেন।

আল্লাহর এই সতর্কবাণী কোনো খালি হুমকি নয়। আল্লাহর আদেশ ও ফয়সালা অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে, তা ঠেকানোর ক্ষমতা কারও নেই। সুতরাং তোমরা নিজেদেরকে এই ভয়াবহ পরিণতি থেকে বাঁচাতে এখনই ঈমান আনো এবং কুরআনকে মেনে নাও।


শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহর পক্ষ থেকে সতর্কবাণী কখনো মিথ্যা হয় না। তিনি যা বলেছেন, তা অবশ্যই ঘটবে। তাই প্রতিটি মুমিনের উচিত আল্লাহর আদেশ-নিষেধকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া।
  2. কুরআন পূর্ববর্তী সকল আসমানি কিতাবের সত্যায়নকারী ও চূড়ান্ত সংস্করণ। এটি কোনো নতুন ধর্ম নয়, বরং আদম (আ.) থেকে শুরু হওয়া একই সত্য দ্বীনের পূর্ণাঙ্গ রূপ। তাই সকল মানুষের উচিত কুরআনকে মেনে নেওয়া।
  3. আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো ঈমান আনা এবং সৎকর্ম করা। কোনো সম্প্রদায়, বংশ বা মর্যাদা আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারে না।
  4. আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়িত হওয়া সবচেয়ে বড় ক্ষতি। দুনিয়ার কোনো সম্পদ বা ক্ষমতা সেই ক্ষতি পূরণ করতে পারে না। তাই আমাদের সর্বদা আল্লাহর রহমত কামনা করা উচিত এবং সেই পথ থেকে দূরে থাকা উচিত যা তাঁর অভিশাপের কারণ হয়।
  5. এই আয়াত প্রমাণ করে যে, সত্য দ্বীন গ্রহণে বিলম্ব করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ মৃত্যু বা শাস্তি যেকোনো মুহূর্তে এসে যেতে পারে। তাই আজই, এখনই সত্যকে মেনে নেওয়া এবং তার উপর আমল করা প্রতিটি মানুষের কর্তব্য।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 45-49 — আন-নিসা

45وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِأَعْدَائِكُمْ ۚ وَكَفَىٰ بِاللَّهِ وَلِيًّا وَكَفَىٰ بِاللَّهِ نَصِيرًا
অথচ আল্লাহ তোমাদের শত্রুদেরকে যথার্থই জানেন। আর অভিভাবক হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট এবং সাহায্যকারী হিসাবেও আল্লাহই যথেষ্ট।
46مِّنَ الَّذِينَ هَادُوا يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَن مَّوَاضِعِهِ وَيَقُولُونَ سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا وَاسْمَعْ غَيْرَ مُسْمَعٍ وَرَاعِنَا لَيًّا بِأَلْسِنَتِهِمْ وَطَعْنًا فِي الدِّينِ ۚ وَلَوْ أَنَّهُمْ قَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَاسْمَعْ وَانظُرْنَا لَكَانَ خَيْرًا لَّهُمْ وَأَقْوَمَ وَلَٰكِن لَّعَنَهُمُ اللَّهُ بِكُفْرِهِمْ فَلَا يُؤْمِنُونَ إِلَّا قَلِيلًا
কোন কোন ইহুদী তার লক্ষ্য থেকে কথার মোড় ঘুড়িয়ে নেয় এবং বলে, আমরা শুনেছি কিন্তু অমান্য করছি। তারা আরো বলে, শোন, না শোনার মত। মুখ বাঁকিয়ে দ্বীনের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রদর্শনের উদ্দেশে বলে, রায়েনা’ (আমাদের রাখাল)। অথচ যদি তারা বলত যে, আমরা শুনেছি ও মান্য করেছি এবং (যদি বলত, ) শোন এবং আমাদের প্রতি লক্ষ্য রাখ, তবে তাই ছিল তাদের জন্য উত্তম আর সেটাই ছিল যথার্থ ও সঠিক। কিন্তু আল্লাহ তাদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন তাদের কুফরীর দরুন। অতএব, তারা ঈমান আনছে না, কিন্তু অতি অল্পসংখ্যক।
47يَا أَيُّهَا الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ آمِنُوا بِمَا نَزَّلْنَا مُصَدِّقًا لِّمَا مَعَكُم مِّن قَبْلِ أَن نَّطْمِسَ وُجُوهًا فَنَرُدَّهَا عَلَىٰ أَدْبَارِهَا أَوْ نَلْعَنَهُمْ كَمَا لَعَنَّا أَصْحَابَ السَّبْتِ ۚ وَكَانَ أَمْرُ اللَّهِ مَفْعُولًا
হে আসমানী গ্রন্থের অধিকারীবৃন্দ! যা কিছু আমি অবতীর্ণ করেছি তার উপর বিশ্বাস স্থাপন কর, যা সে গ্রন্থের সত্যায়ন করে এবং যা তোমাদের নিকট রয়েছে পূর্ব থেকে। (বিশ্বাস স্থাপন কর) এমন হওয়ার আগেই যে, আমি মুছে দেব অনেক চেহারাকে এবং অতঃপর সেগুলোকে ঘুরিয়ে দেব পশ্চাৎ দিকে কিংবা অভিসম্পাত করব তাদের প্রতি যেমন করে অভিসম্পাত করেছি আছহাবে-সাবতের উপর। আর আল্লাহর নির্দেশ অবশ্যই কার্যকর হবে।
48إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَاءُ ۚ وَمَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَىٰ إِثْمًا عَظِيمًا
নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন। আর যে লোক অংশীদার সাব্যস্ত করল আল্লাহর সাথে, সে যেন অপবাদ আরোপ করল।
49أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يُزَكُّونَ أَنفُسَهُم ۚ بَلِ اللَّهُ يُزَكِّي مَن يَشَاءُ وَلَا يُظْلَمُونَ فَتِيلًا
তুমি কি তাদেকে দেখনি, যারা নিজেদেরকে পূত-পবিত্র বলে থাকে অথচ পবিত্র করেন আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকেই? বস্তুতঃ তাদের উপর সুতা পরিমাণ অন্যায়ও হবে না।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীRevelation
47আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 47

সূরা আন-নিসা আয়াত 47 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : হে আসমানী গ্রন্থের অধিকারীবৃন্দ! যা কিছু আমি অবতীর্ণ করেছি তার…

সূরা আয়াত 47/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 45–49. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না