গাফির · 66/85
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা গাফির
۞ قُلْ إِنِّي نُهِيتُ أَنْ أَعْبُدَ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ لَمَّا جَاءَنِيَ الْبَيِّنَاتُ مِن رَّبِّي وَأُمِرْتُ أَنْ أُسْلِمَ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ ۝٦٦
Qul innee nuheetu an a`budal lazeena tad`oona min doonil laahi lammaa jaaa`a niyal biyinaatu mir Rabbee wa umirtu an uslima li Rabbil `aalameen
📖 বাংলা অর্থ
বলুন, যখন আমার কাছে আমার পালনকর্তার পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণাদি এসে গেছে, তখন আল্লাহ ব্যতীত তোমরা যার পূজা কর, তার এবাদত করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে। আমাকে আদেশ করা হয়েছে বিশ্ব পালনকর্তার অনুগত থাকতে।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • نُهِيتُ – আমাকে নিষেধ করা হয়েছে।
  • تَدْعُونَ – তোমরা যাদেরকে ডাকো / উপাসনা করো।
  • الْبَيِّنَاتُ – স্পষ্ট প্রমাণসমূহ, সুস্পষ্ট নিদর্শন।
  • أُسْلِمَ – আমি আত্মসমর্পণ করি, অনুগত হই।
  • رَبِّ الْعَالَمِينَ – সমগ্র জগতসমূহের প্রতিপালক।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

হে নবী! আপনি আপনার সম্প্রদায়ের মুশরিকদেরকে বলে দিন: “আমাকে নিষেধ করা হয়েছে সেই সব বস্তুর ইবাদত করতে যা তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে ডাকো বা উপাসনা করো। এই নিষেধাজ্ঞা আমার কাছে তখনই এসেছে, যখন আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণ ও সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ আমার কাছে পৌঁছেছে—যা প্রমাণ করে যে, এই সব মূর্তি বা উপাস্য কোনো উপকার বা অপকার করতে সক্ষম নয়, এবং তাদের ইবাদত সম্পূর্ণ ভুল ও বাতিল। আর আমাকে আদেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমি একমাত্র আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করি, তাঁর আদেশের কাছে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সমর্পণ করি এবং তাঁরই ইবাদত করি। কেননা তিনিই সমগ্র সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক, সকল সৃষ্টির রব; তাঁর কোনো শরীক নেই।”

অর্থাৎ, এই আয়াতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যে, তিনি যেন মুশরিকদের সামনে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, তাঁর জন্য শিরক সম্পূর্ণ হারাম এবং তিনি তাওহীদের উপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি যখন স্পষ্ট প্রমাণ পেয়ে গেছেন যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করা বাতিল, তখন তিনি কখনো সেই বাতিল পথে চলতে পারেন না। বরং তিনি সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর অনুগত ও আত্মসমর্পিত।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. একজন মুমিনের জীবনে স্পষ্ট প্রমাণ ও জ্ঞানের ভিত্তিতে ঈমান প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত, অন্ধভাবে নয়। যখন সত্য স্পষ্ট হয়ে যায়, তখন তাকে মেনে নেওয়াই কর্তব্য।
  2. আল্লাহর রাসূলগণ সর্বপ্রথম তাওহীদের ঘোষণা দিয়েছেন এবং শিরক থেকে সম্পূর্ণ বিমুখ থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। আমাদেরও উচিত তাদের অনুসরণ করা।
  3. ইসলামের মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করা। যে ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করে, সে প্রকৃত শান্তি ও সফলতা লাভ করে।
  4. দুনিয়ার কোনো শক্তি, বস্তু বা মানুষের কাছে মাথা নত করা উচিত নয়; বরং শুধুমাত্র আল্লাহর সামনে মাথা নত করা উচিত, যিনি সমগ্র বিশ্বজগতের প্রতিপালক।
  5. সত্যের পথে থাকা অবস্থায় কাফির-মুশরিকদের ভয় করা উচিত নয়; বরং দৃঢ়তার সাথে নিজের ঈমান ও বিশ্বাস প্রকাশ করা উচিত, যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) করেছেন।


📜 আয়াত 64-68 — সূরা গাফির

64اللَّهُ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ قَرَارًا وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَصَوَّرَكُمْ فَأَحْسَنَ صُوَرَكُمْ وَرَزَقَكُم مِّنَ الطَّيِّبَاتِ ۚ ذَٰلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ ۖ فَتَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ
আল্লাহ, পৃথিবীকে করেছেন তোমাদের জন্যে বাসস্থান, আকাশকে করেছেন ছাদ এবং তিনি তোমাদেরকে আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর তোমাদের আকৃতি সুন্দর করেছেন এবং তিনি তোমাদেরকে দান করেছেন পরিচ্ছন্ন রিযিক। তিনি আল্লাহ, তোমাদের পালনকর্তা। বিশ্বজগতের পালনকর্তা, আল্লাহ বরকতময়।
65هُوَ الْحَيُّ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ فَادْعُوهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ ۗ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব, তাঁকে ডাক তাঁর খাঁটি এবাদতের মাধ্যমে। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহর।
66۞ قُلْ إِنِّي نُهِيتُ أَنْ أَعْبُدَ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ لَمَّا جَاءَنِيَ الْبَيِّنَاتُ مِن رَّبِّي وَأُمِرْتُ أَنْ أُسْلِمَ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ
বলুন, যখন আমার কাছে আমার পালনকর্তার পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণাদি এসে গেছে, তখন আল্লাহ ব্যতীত তোমরা যার পূজা কর, তার এবাদত করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে। আমাকে আদেশ করা হয়েছে বিশ্ব পালনকর্তার অনুগত থাকতে।
67هُوَ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن تُرَابٍ ثُمَّ مِن نُّطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ يُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوا أَشُدَّكُمْ ثُمَّ لِتَكُونُوا شُيُوخًا ۚ وَمِنكُم مَّن يُتَوَفَّىٰ مِن قَبْلُ ۖ وَلِتَبْلُغُوا أَجَلًا مُّسَمًّى وَلَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ
তিনি তো তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা, অতঃপর শুক্রবিন্দু দ্বারা, অতঃপর জমাট রক্ত দ্বারা, অতঃপর তোমাদেরকে বের করেন শিশুরূপে, অতঃপর তোমরা যৌবনে পদর্পণ কর, অতঃপর বার্ধক্যে উপনীত হও। তোমাদের কারও কারও এর পূর্বেই মৃত্যু ঘটে এবং তোমরা নির্ধারিত কালে পৌঁছ এবং তোমরা যাতে অনুধাবন কর।
68هُوَ الَّذِي يُحْيِي وَيُمِيتُ ۖ فَإِذَا قَضَىٰ أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُن فَيَكُونُ
তিনিই জীবিত করেন এবং মৃত্যু দেন। যখন তিনি কোন কাজের আদেশ করেন, তখন একথাই বলেন, হয়ে যা’-তা হয়ে যায়।
গাফিরকুরআন সূচী
85আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
66আয়াত

অনুবাদ — গাফির 66

সূরা গাফির আয়াত 66 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : বলুন, যখন আমার কাছে আমার পালনকর্তার পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণাদি…

সূরা আয়াত 66/85 — সূরা গাফির غافر (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা গাফির শুনুন, সূরা গাফির অনুবাদ, সূরা গাফির mp3, সূরা গাফির pdf. আয়াত 64–68. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Wednesday, September 30, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না