Mishary Rashid Alafasy
✓
Mahmoud Khalil Al-Husary
✓
Abdurrahman As-Sudais
✓
Mohamed Siddiq Al-Minshawi
✓
Abdul Basit Abdul Samad
✓
Ali Al-Hudhaify
✓
Ahmed ibn Ali al-Ajamy
✓
Abu Bakr Ash-Shaatree
✓
Muhammad Ayyoub
✓
Abdullah Basfar
✓
Abdullah Al-Juhani
✓
Maher Al Muaiqly
✓
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
- السَّاحِرُ — এখানে ‘যাদুকর’ উদ্দেশ্য নয়; বরং কুরআনের ভাষ্যে ও আরবি প্রাচীন প্রয়োগে এর অর্থ ‘পূর্ণ জ্ঞানী’ বা ‘দক্ষ ব্যক্তি’। ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে মূসা (আঃ)-এর জ্ঞান ও দক্ষতা ছিল অসাধারণ, তাই তারা তাকে সম্বোধনের জন্য এই শব্দ ব্যবহার করেছিল।
- بِمَا عَهِدَ عِندَكَ — অর্থাৎ সেই অঙ্গীকারের বদৌলতে বা সেই মর্যাদার কারণে যা আল্লাহ তুমি সম্পর্কে রেখেছেন (যেমন: তুমি নবী, তোমার দোয়া কবুল হয়)।
- لَمُهْتَدُونَ — আমরা অবশ্যই সৎপথপ্রাপ্ত হবো / আমরা ঈমান আনবো।
তাফসীর:
ফিরআউন ও তার সর্দাররা যখন মূসা (আঃ)-এর মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত বিভিন্ন আযাব (মহামারি, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ, রক্ত ইত্যাদি) দেখতে পেল এবং তা তাদের ওপর নেমে এলো, তখন তারা কষ্টে পড়ে মূসা (আঃ)-এর কাছে এসে বলল: “হে পূর্ণ জ্ঞানী ও দক্ষ ব্যক্তি! তুমি তোমার রবের কাছে আমাদের জন্য দোয়া করো — সেই অঙ্গীকারের কারণে যা তিনি তোমার সাথে করেছেন (অর্থাৎ তোমার দোয়া কবুলের প্রতিশ্রুতি)। যদি তুমি আমাদের থেকে এই আযাব দূরীভূত করার জন্য দোয়া করো, তবে আমরা অবশ্যই সৎপথে আসবো এবং তোমার আনা বিষয়ের ওপর ঈমান আনবো।”
তারা এখানে ‘যাদুকর’ শব্দটি ব্যবহার করেছে তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে — কারণ তাদের সমাজে যাদুকররা ছিল সম্মানিত ও শক্তিশালী বলে গণ্য। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মূসা (আঃ) ছিলেন আল্লাহর নবী, যাদুকর নন। তাদের এই কথা ছিল শুধুই মুখের বুলি; তারা আযাব দূর হলে ঈমান আনার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিল, কিন্তু তাদের অন্তর ছিল মিথ্যাবাদী ও প্রতারক। কারণ পরে যখনই আযাব দূর হতো, তারা আবার আগের মতো কুফরি ও বিদ্রোহে ফিরে যেত। এটি তাদের চরম ধোঁকাবাজি ও কপটতার পরিচয় বহন করে।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
- বিপদে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা: মানুষ যখন বিপদে পড়ে, তখন স্বাভাবিকভাবে সে আল্লাহর দিকে ঝুঁকে পড়ে। ফিরআউনের মতো চরম কাফিরও আযাব দেখে আল্লাহর নবীর কাছে সাহায্য চেয়েছিল। এটি প্রমাণ করে যে, প্রকৃত বিপদে মানুষের অন্তর আল্লাহমুখী হয় — কিন্তু এই ফেরা যেন খাঁটি হয়, শুধু বিপদ কেটে গেলে ভুলে না যায়।
- দোয়ার গুরুত্ব ও নবীদের মর্যাদা: নবীদের দোয়া আল্লাহর কাছে কবুল হয়। ফিরআউনও জানত যে, মূসা (আঃ)-এর দোয়া আল্লাহর কাছে গৃহীত হয়। এটি আমাদের শেখায় যে, নবী-রাসূলদের ওসিলায় বা তাদের শিক্ষা অনুযায়ী আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং তাদের সুন্নত অনুসরণ করা বরকতময়।
- কপটতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পরিণাম: ফিরআউন ও তার সম্প্রদায় বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা ভঙ্গ করেছিল। আল্লাহ তাদের এই মিথ্যা প্রতিশ্রুতির কারণে আরও কঠিন শাস্তির দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন। আমাদের উচিত আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার (যেমন: তাওবা, ঈমান, সৎকর্ম) পূরণ করা, নতুবা এর পরিণাম ভয়াবহ।
- বিপদকে আত্মশুদ্ধির সুযোগ হিসেবে নেওয়া: বিপদ-আপদ আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি সতর্কবার্তা ও সুযোগ — যেন মানুষ নিজের ভুল বুঝতে পারে এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। ফিরআউন এই সুযোগ কাজে লাগায়নি, তাই তার পরিণতি ছিল ধ্বংস। আমরা যেন বিপদে পড়ে সত্যিকারের তাওবা করি এবং আল্লাহর পথে অবিচল থাকি।
📜 আয়াত 47-51 — সূরা আজ-জুখরুফ
অনুবাদ — আজ-জুখরুফ 49
সূরা আজ-জুখরুফ আয়াত 49 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তারা বলল, হে যাদুকর, তুমি আমাদের জন্যে তোমার পালনকর্তার কাছে…সূরা আয়াত 49/89 — সূরা আজ-জুখরুফ الزخرف (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আজ-জুখরুফ শুনুন, সূরা আজ-জুখরুফ অনুবাদ, সূরা আজ-জুখরুফ mp3, সূরা আজ-জুখরুফ pdf. আয়াত 47–51. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
সূরা আজ-জুখরুফ
পবিত্র কুরআন
Tuesday, September 29, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না


