অতঃপর যে তওবা করে স্বীয় অত্যাচারের পর এবং সংশোধিত হয়, নিশ্চয় আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
تَابَ: তওবা করা, গুনাহ থেকে ফিরে আসা।
ظُلْمِهِ: তার অন্যায়/অপরাধ (এখানে চুরি বোঝানো হয়েছে)।
أَصْلَحَ: নিজের আমল ও কাজকে সংশোধন করা, ভালো কাজ করা।
يَتُوبُ عَلَيْهِ: তার তওবা কবুল করেন, তার প্রতি ক্ষমার দৃষ্টি দেন।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করছেন যে, কেউ যদি চুরি বা অন্য কোনো অন্যায় করার পর সত্যিকার অর্থে তওবা করে, নিজের আমল ও চরিত্র সংশোধন করে নেয়, এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, তাহলে আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন। অর্থাৎ, আল্লাহ তার ওপর রহমতের দৃষ্টি দেবেন এবং তার গুনাহ মাফ করে দেবেন। তবে এটি স্পষ্ট যে, তওবা কবুল হওয়ার অর্থ এই নয় যে, দুনিয়ার আদালতে অপরাধের শাস্তি মাফ হয়ে যাবে; বরং যদি বিষয়টি আদালত বা শাসকের কাছে পৌঁছে যায়, তাহলে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী শাস্তি কার্যকর হবে। কিন্তু আখিরাতে আল্লাহ তার প্রতি দয়াশীল হবেন এবং তাকে শাস্তি দেবেন না। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে, তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু — যারা তওবা করে এবং নিজেকে সংশোধন করে, তাদের প্রতি তার ক্ষমা ও রহমত অবশ্যই বর্ষিত হয়।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
আল্লাহর দরজা সবসময় তওবাকারীদের জন্য খোলা — মানুষ যত বড় গুনাহই করুক না কেন, আন্তরিক তওবা করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। এটি ইসলামের অন্যতম সুন্দর শিক্ষা, যা মানুষকে হতাশা থেকে রক্ষা করে।
তওবা শুধু মুখে বলা নয়, বরং আমল সংশোধন করা এবং ভালো কাজে ফিরে আসা এর অপরিহার্য শর্ত। এটি মানুষকে প্রকৃত পরিবর্তনের পথ দেখায়।
এই আয়াত প্রমাণ করে যে, ইসলাম ধর্ম অপরাধীকে সুযোগ দেয় নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার — সমাজে ফিরে আসার এবং ভালো মানুষ হওয়ার। এতে সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমে এবং মানুষকে দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়া হয়।
আল্লাহর গুনাহ মাফের প্রতিশ্রুতি মুমিনের মনে আশা ও শান্তি সৃষ্টি করে, যা তাকে আল্লাহর পথে অটল থাকতে সাহায্য করে। এটি ইসলামের রহমত ও দয়ার পরিচয় বহন করে।
হে রসূল, তাদের জন্যে দুঃখ করবেন না, যারা দৌড়ে গিয়ে কুফরে পতিত হয়; যারা মুখে বলেঃ আমরা মুসলমান, অথচ তাদের অন্তর মুসলমান নয় এবং যারা ইহুদী; মিথ্যাবলার জন্যে তারা গুপ্তচর বৃত্তি করে। তারা অন্যদলের গুপ্তচর, যারা আপনার কাছে আসেনি। তারা বাক্যকে স্বস্থান থেকে পরিবর্তন করে। তারা বলেঃ যদি তোমরা এ নির্দেশ পাও, তবে কবুল করে নিও এবং যদি এ নির্দেশ না পাও, তবে বিরত থেকো। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করতে চান, তার জন্যে আল্লাহর কাছে আপনি কিছু করতে পারবেন না। এরা এমনিই যে, আল্লাহ এদের অন্তরকে পবিত্র করতে চান না। তাদের জন্যে রয়েছে দুনিয়াতে লাঞ্ছনা এবং পরকালে বিরাট শাস্তি।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।