আল-মায়িদা · 47/120
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-মায়িদা
وَلْيَحْكُمْ أَهْلُ الْإِنجِيلِ بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فِيهِ ۚ وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ ۝٤٧
Walyahkum Ahlul Injeeli bimaaa anzalal laahu feeh; wa mal lam yahkum bimaaa anzalal laahu fa ulaaa`ika humul faasiqoon
📖 বাংলা অর্থ
ইঞ্জিলের অধিকারীদের উচিত, আল্লাহ তাতে যা অবতীর্ণ করেছেন। তদানুযায়ী ফয়সালা করা। যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করে না, তারাই পাপাচারী।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • أَهْلُ الْإِنجِيلِ – যারা ইনজিলের অনুসারী, অর্থাৎ নাসারা (খ্রিষ্টান) সম্প্রদায়।
  • بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فِيهِ – আল্লাহ তা‘আলা ইনজিলে যা নাযিল করেছেন তা দ্বারা।
  • الْفَاسِقُونَ – যারা আল্লাহর আদেশের বাইরে চলে যায়, অনুগত্য থেকে খারিজ হয়ে যায়।

তাফসির:

আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াতে নাসারা (খ্রিষ্টান) সম্প্রদায়কে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তারা যেন ইনজিলে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা দ্বারা বিচার করে। অর্থাৎ, তারা যেন ইনজিলের সেই বিধানসমূহ মেনে চলে এবং সে অনুযায়ী ফয়সালা করে। ইনজিলে যা ছিল তা ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত সত্য, এবং তাতে মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের সুসংবাদ ও তাঁর অনুসরণের নির্দেশও ছিল। তাই তাদের উচিত ছিল ইনজিলের প্রতি ঈমান আনা এবং তার বিধান অনুযায়ী চলা। কিন্তু যখন তারা তা করেনি এবং নিজেদের মনগড়া বিধান চালু করেছিল, তখন আল্লাহ ঘোষণা করেছেন—যে ব্যক্তি আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা দ্বারা বিচার করে না, সে-ই প্রকৃত ফাসিক (সত্যত্যাগী, আল্লাহর আদেশ থেকে খারিজ হয়ে যাওয়া)। এখানে ফাসিক বলতে বোঝানো হয়েছে সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর আদেশ অমান্য করে, সত্যকে পরিত্যাগ করে এবং বাতিলের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, ইনজিলে বিধি-বিধান ছিল এবং ‘ঈসা (আ.)-এর পরে আল্লাহর পক্ষ থেকে নতুন শরিয়ত (ইসলাম) আসার মাধ্যমে পূর্বের শরিয়ত রহিত হয়ে গেছে। তবে নাসারাদের জন্য ইনজিলের বিধান অনুযায়ী চলা তখন পর্যন্ত আবশ্যক ছিল, যতক্ষণ না মুহাম্মদ (সা.)-এর শরিয়ত এসে পৌঁছেছে। তাদের জন্য প্রকৃত কর্তব্য ছিল মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ঈমান আনা এবং তাঁর অনুসরণ করা।

ফায়দা (শিক্ষা):

  1. আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার করা প্রতিটি যুগের জন্য অপরিহার্য। যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধানের পরিবর্তে অন্য কোনো বিধান চালু করে, সে আল্লাহর অনুগত্য থেকে বেরিয়ে যায়।
  2. পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান রাখা এবং সেগুলোর সত্যায়ন করা মুসলিমদের ঈমানের অংশ। তবে বর্তমান যুগে কুরআন ও সুন্নাহই একমাত্র অনুসরণযোগ্য পথ।
  3. আল্লাহর বিধান থেকে বিমুখ হওয়া ব্যক্তিকে কুরআনে ‘ফাসিক’ বলা হয়েছে, যা একটি গুরুতর অবস্থা। তাই আমাদের উচিত সর্বদা আল্লাহর বিধানকে প্রাধান্য দেওয়া এবং নিজেদের জীবনকে কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী পরিচালনা করা।
  4. এ আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহর বিধানই সর্বশ্রেষ্ঠ ও ন্যায়পরায়ণ বিধান। মানুষের তৈরি আইন যতই উন্নত হোক না কেন, আল্লাহর বিধানের বিকল্প হতে পারে না। তাই ইসলামের প্রতি ভালোবাসা ও অনুগত্য আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হওয়া উচিত।


📜 আয়াত 45-49 — সূরা আল-মায়িদা

45وَكَتَبْنَا عَلَيْهِمْ فِيهَا أَنَّ النَّفْسَ بِالنَّفْسِ وَالْعَيْنَ بِالْعَيْنِ وَالْأَنفَ بِالْأَنفِ وَالْأُذُنَ بِالْأُذُنِ وَالسِّنَّ بِالسِّنِّ وَالْجُرُوحَ قِصَاصٌ ۚ فَمَن تَصَدَّقَ بِهِ فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَّهُ ۚ وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ
আমি এ গ্রন্থে তাদের প্রতি লিখে দিয়েছি যে, প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ, চক্ষুর বিনিময়ে চক্ষু, নাকের বিনিময়ে নাক, কানের বিনিময়ে কান, দাঁতের বিনিময়ে দাঁত এবং যখম সমূহের বিনিময়ে সমান যখম। অতঃপর যে ক্ষমা করে, সে গোনাহ থেকে পাক হয়ে যায়। যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করে না তারাই জালেম।
46وَقَفَّيْنَا عَلَىٰ آثَارِهِم بِعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ التَّوْرَاةِ ۖ وَآتَيْنَاهُ الْإِنجِيلَ فِيهِ هُدًى وَنُورٌ وَمُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ التَّوْرَاةِ وَهُدًى وَمَوْعِظَةً لِّلْمُتَّقِينَ
আমি তাদের পেছনে মরিয়ম তনয় ঈসাকে প্রেরণ করেছি। তিনি পূর্ববর্তী গ্রন্থ তওরাতের সত্যায়নকারী ছিলেন। আমি তাঁকে ইঞ্জিল প্রদান করেছি। এতে হেদায়াত ও আলো রয়েছে। এটি পূর্ববতী গ্রন্থ তওরাতের সত্যায়ন করে পথ প্রদর্শন করে এবং এটি খোদাভীরুদের জন্যে হেদায়েত উপদেশ বানী।
47وَلْيَحْكُمْ أَهْلُ الْإِنجِيلِ بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فِيهِ ۚ وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ
ইঞ্জিলের অধিকারীদের উচিত, আল্লাহ তাতে যা অবতীর্ণ করেছেন। তদানুযায়ী ফয়সালা করা। যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করে না, তারাই পাপাচারী।
48وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ ۖ فَاحْكُم بَيْنَهُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ ۖ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ عَمَّا جَاءَكَ مِنَ الْحَقِّ ۚ لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا ۚ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَجَعَلَكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَٰكِن لِّيَبْلُوَكُمْ فِي مَا آتَاكُمْ ۖ فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِ ۚ إِلَى اللَّهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعًا فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ
আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি সত্যগ্রন্থ, যা পূর্ববতী গ্রন্থ সমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর বিষয়বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। অতএব, আপনি তাদের পারস্পারিক ব্যাপারাদিতে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করুন এবং আপনার কাছে যে সৎপথ এসেছে, তা ছেড়ে তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না। আমি তোমাদের প্রত্যেককে একটি আইন ও পথ দিয়েছি। যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে তোমাদের সবাইকে এক উম্মত করে দিতেন, কিন্তু এরূপ করেননি-যাতে তোমাদেরকে যে ধর্ম দিয়েছেন, তাতে তোমাদের পরীক্ষা নেন। অতএব, দৌড়ে কল্যাণকর বিষয়াদি অর্জন কর। তোমাদের সবাইকে আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। অতঃপর তিনি অবহিত করবেন সে বিষয়, যাতে তোমরা মতবিরোধ করতে।
49وَأَنِ احْكُم بَيْنَهُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ وَاحْذَرْهُمْ أَن يَفْتِنُوكَ عَن بَعْضِ مَا أَنزَلَ اللَّهُ إِلَيْكَ ۖ فَإِن تَوَلَّوْا فَاعْلَمْ أَنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ أَن يُصِيبَهُم بِبَعْضِ ذُنُوبِهِمْ ۗ وَإِنَّ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ لَفَاسِقُونَ
আর আমি আদেশ করছি যে, আপনি তাদের পারস্পরিক ব্যাপারাদিতে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদনুযায়ী ফয়সালা করুন; তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না এবং তাদের থেকে সতর্ক থাকুন-যেন তারা আপনাকে এমন কোন নির্দেশ থেকে বিচ্যুত না করে, যা আল্লাহ আপনার প্রতি নাযিল করেছেন। অনন্তর যদি তার মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে নিন, আল্লাহ তাদেরকে তাদের গোনাহের কিছু শাস্তি দিতেই চেয়েছেন। মানুষের মধ্যে অনেকেই নাফরমান।
আল-মায়িদাকুরআন সূচী
120আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
47আয়াত

অনুবাদ — আল-মায়িদা 47

সূরা আল-মায়িদা আয়াত 47 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : ইঞ্জিলের অধিকারীদের উচিত, আল্লাহ তাতে যা অবতীর্ণ করেছেন। তদানুযায়ী ফয়সালা…

সূরা আয়াত 47/120 — সূরা আল-মায়িদা المائدة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-মায়িদা শুনুন, সূরা আল-মায়িদা অনুবাদ, সূরা আল-মায়িদা mp3, সূরা আল-মায়িদা pdf. আয়াত 45–49. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না