আল-মায়িদা · 69/120
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-মায়িদা
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالصَّابِئُونَ وَالنَّصَارَىٰ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ۝٦٩
Innal lazeena aamanoo wallazeena haadoo was saabi`oona wan Nasaaraa man aamana billaahi wal yawmil Aakhiri wa `amila saalihan falaa khawfun `alaihim wa laa hum yahzanoon
📖 বাংলা অর্থ
নিশ্চয় যারা মুসলমান, যারা ইহুদী, ছাবেয়ী বা খ্রীষ্টান, তাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে আল্লাহর প্রতি, কিয়ামতের প্রতি এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দের অর্থ:

  • الصَّابِئُونَ (সাবেয়ীগণ): তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা ফিতরাতের উপর ছিল, তাদের কোনো নির্ধারিত ধর্ম বা অনুসৃত ব্যবস্থা ছিল না। তারা নবীগণের কিছু অনুসারী ছিল বলে মত রয়েছে।
  • هَادُوا (ইয়াহুদী): যারা মূসা (আঃ)-এর অনুসারী ছিল এবং পরবর্তীতে ইয়াহুদী নামে পরিচিত হয়।
  • النَّصَارَى (নাসারা): যারা ঈসা (আঃ)-এর অনুসারী ছিল এবং খ্রিষ্টান নামে পরিচিত।

তাফসীর:

আয়াতটি ঘোষণা করছে যে, প্রকৃত মুমিন (মুসলিম), ইয়াহুদী, সাবেয়ী এবং খ্রিষ্টান—এই চার শ্রেণীর মধ্যে যারা সত্যিকার অর্থে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, শেষ দিনের (কিয়ামত, জান্নাত-জাহান্নাম, হিসাব-নিকাশ) প্রতি বিশ্বাস রাখে এবং সৎকর্ম করে, তাদের জন্য কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।

এখানে মূল কথা হলো—শুধু নাম বা গোত্রীয় পরিচয় নয়, বরং প্রকৃত ঈমান ও সৎকর্মই মুক্তির চাবিকাঠি। তবে মনে রাখতে হবে, মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের পর প্রকৃত ঈমান মানে তাকে সত্যায়ন করা এবং তার আনীত বিধান অনুসরণ করা। কারণ তিনি সর্বশেষ রাসূল এবং তার শরীয়তই এখন একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ। সুতরাং আয়াতের উদ্দেশ্য হলো, প্রতিটি সম্প্রদায়ের মধ্যে যারা নিষ্ঠার সাথে আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস করত এবং নেক আমল করত, তারা পূর্ববর্তী যুগে নিরাপদ ছিল। কিন্তু মুহাম্মদ (সা.)-এর পরে কেবল তার অনুসারীরাই এই প্রতিশ্রুতির অন্তর্ভুক্ত।

আয়াতের গঠনগত দিক থেকে বলা যায়, এখানে "الصَّابِئُونَ" শব্দটি ব্যাকরণগতভাবে কিছুটা ভিন্নভাবে এসেছে, যা কুরআনের শৈলীর অংশ। মূল বক্তব্য হলো, ঈমান ও আমল-ই মানুষের মুক্তির ভিত্তি, বংশ বা গোত্র নয়।


শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. ইসলাম ধর্মে কোনো গোত্রীয় বা বর্ণগত শ্রেষ্ঠত্ব নেই। আল্লাহর কাছে মানুষ সমান, শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তাকওয়া ও নেক আমলের ভিত্তিতে।
  2. ঈমান ও সৎকর্মই প্রকৃত শান্তির উৎস। যে ব্যক্তি আল্লাহকে চেনে এবং ভালো কাজ করে, তার অন্তর প্রশান্ত থাকে এবং পরকালেও সে নিরাপদ থাকবে।
  3. আল্লাহর রহমত অত্যন্ত প্রশস্ত। তিনি পূর্ববর্তী উম্মতদের মধ্যে যারা সৎপথে ছিল তাদের প্রতি সদয় ছিলেন, এবং যারা নবী (সা.)-এর পরে তার অনুসরণ করবে তাদের প্রতিও তাঁর রহমত বর্ষিত হবে।
  4. ভয় ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় ঈমান ও আমল। দুনিয়ার কোনো সম্পদ, পদ বা প্রতিপত্তি মানুষকে প্রকৃত নিরাপত্তা দিতে পারে না।
  5. ধর্মের নামে বিভেদ নয়, মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। প্রতিটি যুগে আল্লাহর পথ ছিল একটিই—তাঁর প্রতি ঈমান ও নেক আমল।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 67-71 — আল-মায়িদা

67۞ يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ ۖ وَإِن لَّمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ ۚ وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ
হে রসূল, পৌছে দিন আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে। আর যদি আপনি এরূপ না করেন, তবে আপনি তাঁর পয়গাম কিছুই পৌছালেন না। আল্লাহ আপনাকে মানুষের কাছ থেকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।
68قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَسْتُمْ عَلَىٰ شَيْءٍ حَتَّىٰ تُقِيمُوا التَّوْرَاةَ وَالْإِنجِيلَ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ ۗ وَلَيَزِيدَنَّ كَثِيرًا مِّنْهُم مَّا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ طُغْيَانًا وَكُفْرًا ۖ فَلَا تَأْسَ عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
বলে দিনঃ হে আহলে কিতাবগণ, তোমরা কোন পথেই নও, যে পর্যন্ত না তোমরা তওরাত, ইঞ্জিল এবং যে গ্রন্থ তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তাও পুরোপুরি পালন না কর। আপনার পালনকর্তার কাছ থেকে আপনার প্রতি যা অবর্তীণ হয়েছে, তার কারণে তাদের অনেকের অবাধ্যতা ও কুফর বৃদ্ধি পাবে। অতএব, এ কাফের সম্প্রদায়ের জন্যে দুঃখ করবেন না।
69إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالصَّابِئُونَ وَالنَّصَارَىٰ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
নিশ্চয় যারা মুসলমান, যারা ইহুদী, ছাবেয়ী বা খ্রীষ্টান, তাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে আল্লাহর প্রতি, কিয়ামতের প্রতি এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।
70لَقَدْ أَخَذْنَا مِيثَاقَ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَأَرْسَلْنَا إِلَيْهِمْ رُسُلًا ۖ كُلَّمَا جَاءَهُمْ رَسُولٌ بِمَا لَا تَهْوَىٰ أَنفُسُهُمْ فَرِيقًا كَذَّبُوا وَفَرِيقًا يَقْتُلُونَ
আমি বনী-ইসরাঈলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম এবং তাদের কাছে অনেক পয়গম্বর প্রেরণ করে ছিলাম। যখনই তাদের কাছে কোন পয়গম্বর এমন নির্দেশ নিয়ে আসত যা তাদের মনে চাইত না, তখন তাদের অনেকের প্রতি তারা মিথ্যারোপ করত এবংঅনেককে হত্যা করে ফেলত।
71وَحَسِبُوا أَلَّا تَكُونَ فِتْنَةٌ فَعَمُوا وَصَمُّوا ثُمَّ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ ثُمَّ عَمُوا وَصَمُّوا كَثِيرٌ مِّنْهُمْ ۚ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِمَا يَعْمَلُونَ
তারা ধারণা করেছে যে, কোন অনিষ্ট হবে না। ফলে তারা আরও অন্ধ ও বধির হয়ে গেল। অতঃপর আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করলেন। এরপরও তাদের অধিকাংশই অন্ধ ও বধির হয়ে রইল। আল্লাহ দেখেন তারা যা কিছু করে।
আল-মায়িদাকুরআন সূচী
120আয়াত
মাদানীRevelation
69আয়াত

অনুবাদ — আল-মায়িদা 69

সূরা আল-মায়িদা আয়াত 69 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : নিশ্চয় যারা মুসলমান, যারা ইহুদী, ছাবেয়ী বা খ্রীষ্টান, তাদের মধ্যে…

সূরা আয়াত 69/120 — আল-মায়িদা المائدة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-মায়িদা শুনুন, আল-মায়িদা অনুবাদ, আল-মায়িদা mp3, আল-মায়িদা pdf. আয়াত 67–71. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না