আল-মায়িদা · 68/120
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-মায়িদা
قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَسْتُمْ عَلَىٰ شَيْءٍ حَتَّىٰ تُقِيمُوا التَّوْرَاةَ وَالْإِنجِيلَ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ ۗ وَلَيَزِيدَنَّ كَثِيرًا مِّنْهُم مَّا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ طُغْيَانًا وَكُفْرًا ۖ فَلَا تَأْسَ عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ ۝٦٨
Qul yaaa Ahlal Kitaabi lastum `alaa shai`in hattaa tuqeemut Tawraata wal Injeela wa maaa unzila ilaikum mir Rabbikum; wa layazeedanna kaseeram minhum maa unzila ilaika mir Rabbika tugh yaananw wa kufran falaa taasa `alal qawmil kaafireen
📖 বাংলা অর্থ
বলে দিনঃ হে আহলে কিতাবগণ, তোমরা কোন পথেই নও, যে পর্যন্ত না তোমরা তওরাত, ইঞ্জিল এবং যে গ্রন্থ তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তাও পুরোপুরি পালন না কর। আপনার পালনকর্তার কাছ থেকে আপনার প্রতি যা অবর্তীণ হয়েছে, তার কারণে তাদের অনেকের অবাধ্যতা ও কুফর বৃদ্ধি পাবে। অতএব, এ কাফের সম্প্রদায়ের জন্যে দুঃখ করবেন না।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • تُقِيمُوا – প্রতিষ্ঠা করা, যথাযথভাবে পালন করা, আমল করা।
  • التَّوْرَاةَ وَالْإِنجِيلَ – তাওরাত ও ইঞ্জিল (যে কিতাবসমূহ আল্লাহ তা‘আলা মূসা ও ঈসা আলাইহিমাস সালামের উপর নাযিল করেছিলেন)।
  • مَا أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ – তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে (অর্থাৎ কুরআন)।
  • طُغْيَانًا وَكُفْرًا – সীমালঙ্ঘন ও অস্বীকার/অবিশ্বাস।
  • فَلَا تَأْسَ – দুঃখ করো না, আফসোস করো না।

তাফসীর:

হে নবী! আপনি আহলে কিতাব (ইয়াহুদী ও খ্রিস্টান)দেরকে বলুন: “তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো সঠিক ও গ্রহণযোগ্য ধর্মীয় অবস্থানের উপর নেই, যতক্ষণ না তোমরা তাওরাত ও ইঞ্জিলকে যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠা করবে এবং আমল করবে। আর তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে (অর্থাৎ কুরআন) তাও প্রতিষ্ঠা করবে।” কারণ তাওরাত ও ইঞ্জিলেই তোমাদের প্রতি নির্দেশ রয়েছে যে, সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ঈমান আনতে হবে এবং তাঁর আনীত বিধানের অনুসরণ করতে হবে। সুতরাং যতক্ষণ না তোমরা এই কিতাবসমূহের প্রকৃত শিক্ষা অনুযায়ী আমল করবে এবং মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ঈমান আনবে, ততক্ষণ তোমাদের কোনো ধর্মীয় মূল্যই নেই।

আর হে নবী! আপনার প্রতি আপনার রবের পক্ষ থেকে যে কুরআন নাযিল হয়েছে, তা আহলে কিতাবদের অনেকের মধ্যে শুধু সীমালঙ্ঘন ও কুফরীই বৃদ্ধি করবে। কারণ তারা হিংসা ও অহংকারবশত সত্যকে মেনে নেবে না, বরং তাদের বিদ্বেষ আরও বেড়ে যাবে। সুতরাং আপনি এই কাফির সম্প্রদায়ের জন্য দুঃখ করবেন না। কারণ মুমিনদের মধ্যে আপনার জন্য যথেষ্ট সম্মান ও সাহচর্য রয়েছে, আর আল্লাহই আপনার জন্য যথেষ্ট।


উপকারিতা ও শিক্ষা:

  1. আহলে কিতাবদের প্রতি স্পষ্ট বার্তা যে, শুধু নামধারী হওয়া যথেষ্ট নয়; বরং আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাবসমূহের উপর প্রকৃত ঈমান ও আমলই প্রয়োজন। আর সকল কিতাবের সারকথা হলো শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ঈমান আনা।
  2. কুরআন মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত, কিন্তু যারা সত্য প্রত্যাখ্যান করে, তাদের জন্য তা কেবল তাদের অবাধ্যতা ও কুফরীই বৃদ্ধি করে। এটি কুরআনেরই একটি বৈশিষ্ট্য—মুমিনের ঈমান দৃঢ় করে এবং কাফিরের জন্য প্রমাণ স্থাপন করে।
  3. নবী (সা.)-কে সান্ত্বনা দিয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, সত্য প্রচারের পর মানুষের প্রতিক্রিয়া নিয়ে দুঃখ করা উচিত নয়। কারণ হিদায়াত দেওয়া আল্লাহর ইচ্ছাধীন, আর নবীর দায়িত্ব শুধু পৌঁছে দেওয়া।
  4. ইসলামের প্রতি আহ্বান জানানোর সময় ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং যারা সত্য গ্রহণ করে না তাদের জন্য আক্ষেপ না করে মুমিনদের সাথে থাকার আনন্দ ও আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে হবে। এটি আমাদের শেখায়—সত্যের পথে অবিচল থাকলে আল্লাহর সাহায্য ও মুমিনদের সঙ্গই যথেষ্ট।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 66-70 — আল-মায়িদা

66وَلَوْ أَنَّهُمْ أَقَامُوا التَّوْرَاةَ وَالْإِنجِيلَ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْهِم مِّن رَّبِّهِمْ لَأَكَلُوا مِن فَوْقِهِمْ وَمِن تَحْتِ أَرْجُلِهِم ۚ مِّنْهُمْ أُمَّةٌ مُّقْتَصِدَةٌ ۖ وَكَثِيرٌ مِّنْهُمْ سَاءَ مَا يَعْمَلُونَ
যদি তারা তওরাত, ইঞ্জিল এবং যা প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, পুরোপুরি পালন করত, তবে তারা উপর থেকে এবং পায়ের নীচ থেকে ভক্ষণ করত। তাদের কিছুসংখ্যক লোক সৎপথের অনুগামী এবং অনেকেই মন্দ কাজ করে যাচ্ছে।
67۞ يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ ۖ وَإِن لَّمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ ۚ وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ
হে রসূল, পৌছে দিন আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে। আর যদি আপনি এরূপ না করেন, তবে আপনি তাঁর পয়গাম কিছুই পৌছালেন না। আল্লাহ আপনাকে মানুষের কাছ থেকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।
68قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَسْتُمْ عَلَىٰ شَيْءٍ حَتَّىٰ تُقِيمُوا التَّوْرَاةَ وَالْإِنجِيلَ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ ۗ وَلَيَزِيدَنَّ كَثِيرًا مِّنْهُم مَّا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ طُغْيَانًا وَكُفْرًا ۖ فَلَا تَأْسَ عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
বলে দিনঃ হে আহলে কিতাবগণ, তোমরা কোন পথেই নও, যে পর্যন্ত না তোমরা তওরাত, ইঞ্জিল এবং যে গ্রন্থ তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তাও পুরোপুরি পালন না কর। আপনার পালনকর্তার কাছ থেকে আপনার প্রতি যা অবর্তীণ হয়েছে, তার কারণে তাদের অনেকের অবাধ্যতা ও কুফর বৃদ্ধি পাবে। অতএব, এ কাফের সম্প্রদায়ের জন্যে দুঃখ করবেন না।
69إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالصَّابِئُونَ وَالنَّصَارَىٰ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
নিশ্চয় যারা মুসলমান, যারা ইহুদী, ছাবেয়ী বা খ্রীষ্টান, তাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে আল্লাহর প্রতি, কিয়ামতের প্রতি এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।
70لَقَدْ أَخَذْنَا مِيثَاقَ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَأَرْسَلْنَا إِلَيْهِمْ رُسُلًا ۖ كُلَّمَا جَاءَهُمْ رَسُولٌ بِمَا لَا تَهْوَىٰ أَنفُسُهُمْ فَرِيقًا كَذَّبُوا وَفَرِيقًا يَقْتُلُونَ
আমি বনী-ইসরাঈলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম এবং তাদের কাছে অনেক পয়গম্বর প্রেরণ করে ছিলাম। যখনই তাদের কাছে কোন পয়গম্বর এমন নির্দেশ নিয়ে আসত যা তাদের মনে চাইত না, তখন তাদের অনেকের প্রতি তারা মিথ্যারোপ করত এবংঅনেককে হত্যা করে ফেলত।
আল-মায়িদাকুরআন সূচী
120আয়াত
মাদানীRevelation
68আয়াত

অনুবাদ — আল-মায়িদা 68

সূরা আল-মায়িদা আয়াত 68 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : বলে দিনঃ হে আহলে কিতাবগণ, তোমরা কোন পথেই নও, যে…

সূরা আয়াত 68/120 — আল-মায়িদা المائدة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-মায়িদা শুনুন, আল-মায়িদা অনুবাদ, আল-মায়িদা mp3, আল-মায়িদা pdf. আয়াত 66–70. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না