অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
- আবগী (أَبْغِي): আমি চাই, অন্বেষণ করি।
- রব্বান (رَبًّا): প্রতিপালক, ইলাহ।
- তাকসিবু (تَكْسِبُ): অর্জন করে।
- তাজিরু (تَزِرُ): বহন করে।
- ওয়াযিরাতুন (وَازِرَةٌ): বোঝা বহনকারী (আত্মা)।
- উইযরান (وِزْرًا): পাপের বোঝা, গুনাহের ভার।
- মারজি'উ (مَرْجِعُ): প্রত্যাবর্তনের স্থান।
- তুখতালিফুন (تَخْتَلِفُونَ): তোমরা মতবিরোধ করছ।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
হে নবী! আপনি মুশরিকদের বলুন, যারা আপনাকে তাদের দীনে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছে: “আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে রব হিসেবে চাইব? অথচ তিনিই প্রতিটি জিনিসের স্রষ্টা, মালিক এবং পরিচালক। তিনি ছাড়া আর সবকিছুই তাঁর অনুগত ও তাঁর অধীন। সুতরাং যে সত্তা নিজেই অন্যের অধীন, সে কীভাবে রব হতে পারে?”
এরপর আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করছেন যে, প্রতিটি মানুষের কর্মফল তার নিজের জন্য। কেউ ভালো কাজ করলে তার পুরস্কার সে-ই পাবে, আর মন্দ কাজ করলে তার শাস্তি সে-ই ভোগ করবে। কেউ অন্যের পাপের বোঝা বহন করবে না, এবং কেউ তার পাপের দায় অন্যের উপর চাপাতে পারবে না। এমনকি কেউ যদি অন্যকে পথভ্রষ্ট করে বা পাপ করতে উৎসাহিত করে, তবে সেই পাপের প্রাথমিক দায়িত্ব অপরাধীর উপরই বর্তাবে, যদিও পথভ্রষ্টকারীও তার নিজস্ব গুনাহের জন্য জবাবদিহি হবে।
অতঃপর আল্লাহ বলছেন: “তোমাদের সবার প্রত্যাবর্তন তোমাদের রবের দিকেই হবে কিয়ামতের দিন। তখন তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দেবেন সেসব বিষয়ে যা তোমরা দুনিয়ায় মতবিরোধ করতে — সত্য কী ছিল, মিথ্যা কী ছিল; কে সঠিক পথে ছিল, কে ভ্রান্ত পথে ছিল। তিনি ন্যায়বিচারের সাথে ফয়সালা করবেন এবং প্রত্যেককে তার প্রাপ্য প্রদান করবেন।”
শিক্ষা ও উপদেশ:
- আল্লাহই একমাত্র রব ও ইলাহ। তাঁর কোনো শরিক নেই। তাঁর সৃষ্টি জগতের কোনো কিছুই তাঁর সমকক্ষ হতে পারে না। তাই মুমিনের অন্তর সর্বদা আল্লাহর দিকেই ধাবিত হওয়া উচিত, অন্য কারো কাছে নয়।
- প্রতিটি মানুষ তার নিজের কাজের জন্য দায়ী। এই বিশ্বাস মুমিনকে দায়িত্বশীল করে তোলে এবং অপরের উপর দোষ চাপানোর প্রবণতা থেকে বিরত রাখে। কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে না — এটি ইসলামের ন্যায়বিচারের একটি সুন্দর দিক।
- কিয়ামতের দিন সবকিছুর চূড়ান্ত ফয়সালা হবে। দুনিয়ার যত মতবিরোধ, দ্বন্দ্ব ও বিভেদ — সবকিছুর সত্য-মিথ্যা তখন স্পষ্ট হয়ে যাবে। এই বিশ্বাস মুমিনকে ধৈর্য ধারণ করতে এবং সত্যের উপর অটল থাকতে শক্তি যোগায়।
- ইসলাম মানুষকে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সত্তা হিসেবে গড়ে তোলে। প্রত্যেকে নিজের কর্মের জন্য জবাবদিহি করবে — এই শিক্ষা সমাজে সুবিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।
📜 আয়াত 162-165 — আল-আনআম
অনুবাদ — আল-আনআম 164
সূরা আল-আনআম আয়াত 164 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আপনি বলুনঃ আমি কি আল্লাহ ব্যতীত অন্য প্রতিপালক খোঁজব, অথচ…সূরা আয়াত 164/165 — আল-আনআম الأنعام (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-আনআম শুনুন, আল-আনআম অনুবাদ, আল-আনআম mp3, আল-আনআম pdf. আয়াত 162–165. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, August 18, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








