আল-আনআম · 164/165
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-আনআম
قُلْ أَغَيْرَ اللَّهِ أَبْغِي رَبًّا وَهُوَ رَبُّ كُلِّ شَيْءٍ ۚ وَلَا تَكْسِبُ كُلُّ نَفْسٍ إِلَّا عَلَيْهَا ۚ وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ ۚ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّكُم مَّرْجِعُكُمْ فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ ۝١٦٤
Qul aghairal laahi abhee Rabbanw wa Huwa Rabbu kulli shai`; wa laa taksibu kullu nafsin illaa `alaihaa; wa laa taziru waaziratunw wizra ukhraa; summa ilaa Rabbikum marji`ukum fa yunabbi`ukum bimaa kuntum feehi takhtalifoon
📖 বাংলা অর্থ
আপনি বলুনঃ আমি কি আল্লাহ ব্যতীত অন্য প্রতিপালক খোঁজব, অথচ তিনিই সবকিছুর প্রতিপালক? যে ব্যক্তি কোন গোনাহ করে, তা তারই দায়িত্বে থাকে। কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। অতঃপর তোমাদেরকে সবাইকে প্রতিপালকের কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। অনন্তর তিনি তোমাদেরকে বলে দিবেন, যেসব বিষয়ে তোমরা বিরোধ করতে।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • আবগী (أَبْغِي): আমি চাই, অন্বেষণ করি।
  • রব্বান (رَبًّا): প্রতিপালক, ইলাহ।
  • তাকসিবু (تَكْسِبُ): অর্জন করে।
  • তাজিরু (تَزِرُ): বহন করে।
  • ওয়াযিরাতুন (وَازِرَةٌ): বোঝা বহনকারী (আত্মা)।
  • উইযরান (وِزْرًا): পাপের বোঝা, গুনাহের ভার।
  • মারজি'উ (مَرْجِعُ): প্রত্যাবর্তনের স্থান।
  • তুখতালিফুন (تَخْتَلِفُونَ): তোমরা মতবিরোধ করছ।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

হে নবী! আপনি মুশরিকদের বলুন, যারা আপনাকে তাদের দীনে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছে: “আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে রব হিসেবে চাইব? অথচ তিনিই প্রতিটি জিনিসের স্রষ্টা, মালিক এবং পরিচালক। তিনি ছাড়া আর সবকিছুই তাঁর অনুগত ও তাঁর অধীন। সুতরাং যে সত্তা নিজেই অন্যের অধীন, সে কীভাবে রব হতে পারে?”

এরপর আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করছেন যে, প্রতিটি মানুষের কর্মফল তার নিজের জন্য। কেউ ভালো কাজ করলে তার পুরস্কার সে-ই পাবে, আর মন্দ কাজ করলে তার শাস্তি সে-ই ভোগ করবে। কেউ অন্যের পাপের বোঝা বহন করবে না, এবং কেউ তার পাপের দায় অন্যের উপর চাপাতে পারবে না। এমনকি কেউ যদি অন্যকে পথভ্রষ্ট করে বা পাপ করতে উৎসাহিত করে, তবে সেই পাপের প্রাথমিক দায়িত্ব অপরাধীর উপরই বর্তাবে, যদিও পথভ্রষ্টকারীও তার নিজস্ব গুনাহের জন্য জবাবদিহি হবে।

অতঃপর আল্লাহ বলছেন: “তোমাদের সবার প্রত্যাবর্তন তোমাদের রবের দিকেই হবে কিয়ামতের দিন। তখন তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দেবেন সেসব বিষয়ে যা তোমরা দুনিয়ায় মতবিরোধ করতে — সত্য কী ছিল, মিথ্যা কী ছিল; কে সঠিক পথে ছিল, কে ভ্রান্ত পথে ছিল। তিনি ন্যায়বিচারের সাথে ফয়সালা করবেন এবং প্রত্যেককে তার প্রাপ্য প্রদান করবেন।”

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহই একমাত্র রব ও ইলাহ। তাঁর কোনো শরিক নেই। তাঁর সৃষ্টি জগতের কোনো কিছুই তাঁর সমকক্ষ হতে পারে না। তাই মুমিনের অন্তর সর্বদা আল্লাহর দিকেই ধাবিত হওয়া উচিত, অন্য কারো কাছে নয়।
  2. প্রতিটি মানুষ তার নিজের কাজের জন্য দায়ী। এই বিশ্বাস মুমিনকে দায়িত্বশীল করে তোলে এবং অপরের উপর দোষ চাপানোর প্রবণতা থেকে বিরত রাখে। কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে না — এটি ইসলামের ন্যায়বিচারের একটি সুন্দর দিক।
  3. কিয়ামতের দিন সবকিছুর চূড়ান্ত ফয়সালা হবে। দুনিয়ার যত মতবিরোধ, দ্বন্দ্ব ও বিভেদ — সবকিছুর সত্য-মিথ্যা তখন স্পষ্ট হয়ে যাবে। এই বিশ্বাস মুমিনকে ধৈর্য ধারণ করতে এবং সত্যের উপর অটল থাকতে শক্তি যোগায়।
  4. ইসলাম মানুষকে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সত্তা হিসেবে গড়ে তোলে। প্রত্যেকে নিজের কর্মের জন্য জবাবদিহি করবে — এই শিক্ষা সমাজে সুবিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।


📜 আয়াত 162-165 — সূরা আল-আনআম

162قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
আপনি বলুনঃ আমার নামায, আমার কোরবাণী এবং আমার জীবন ও মরন বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহরই জন্যে।
163لَا شَرِيكَ لَهُ ۖ وَبِذَٰلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ
তাঁর কোন অংশীদার নেই। আমি তাই আদিষ্ট হয়েছি এবং আমি প্রথম আনুগত্যশীল।
164قُلْ أَغَيْرَ اللَّهِ أَبْغِي رَبًّا وَهُوَ رَبُّ كُلِّ شَيْءٍ ۚ وَلَا تَكْسِبُ كُلُّ نَفْسٍ إِلَّا عَلَيْهَا ۚ وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ ۚ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّكُم مَّرْجِعُكُمْ فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ
আপনি বলুনঃ আমি কি আল্লাহ ব্যতীত অন্য প্রতিপালক খোঁজব, অথচ তিনিই সবকিছুর প্রতিপালক? যে ব্যক্তি কোন গোনাহ করে, তা তারই দায়িত্বে থাকে। কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। অতঃপর তোমাদেরকে সবাইকে প্রতিপালকের কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। অনন্তর তিনি তোমাদেরকে বলে দিবেন, যেসব বিষয়ে তোমরা বিরোধ করতে।
165وَهُوَ الَّذِي جَعَلَكُمْ خَلَائِفَ الْأَرْضِ وَرَفَعَ بَعْضَكُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ لِّيَبْلُوَكُمْ فِي مَا آتَاكُمْ ۗ إِنَّ رَبَّكَ سَرِيعُ الْعِقَابِ وَإِنَّهُ لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ
তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছেন এবং একে অন্যের উপর মর্যাদা সমুন্নত করেছেন, যাতে তোমাদের কে এ বিষয়ে পরীক্ষা করেন, যা তোমাদেরকে দিয়েছেন। আপনার প্রতিপালক দ্রুত শাস্তি দাতা এবং তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, দয়ালু।
আল-আনআমকুরআন সূচী
165আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
164আয়াত

অনুবাদ — আল-আনআম 164

সূরা আল-আনআম আয়াত 164 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আপনি বলুনঃ আমি কি আল্লাহ ব্যতীত অন্য প্রতিপালক খোঁজব, অথচ…

সূরা আয়াত 164/165 — সূরা আল-আনআম الأنعام (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-আনআম শুনুন, সূরা আল-আনআম অনুবাদ, সূরা আল-আনআম mp3, সূরা আল-আনআম pdf. আয়াত 162–165. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না