আল-কালাম · 49/52
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-কালাম
لَّوْلَا أَن تَدَارَكَهُ نِعْمَةٌ مِّن رَّبِّهِ لَنُبِذَ بِالْعَرَاءِ وَهُوَ مَذْمُومٌ ۝٤٩
Law laaa an tadaara kahoo ni`matum mir rabbihee lanubiza bil`araaa`i wa huwa mazmoom
📖 বাংলা অর্থ
যদি তার পালনকর্তার অনুগ্রহ তাকে সামাল না দিত, তবে সে নিন্দিত অবস্থায় জনশুন্য প্রান্তরে নিক্ষিপ্ত হত।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • تَدَارَكَهُ – তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল, তাকে পেয়ে গিয়েছিল।
  • نِعْمَةٌ – রহমত, অনুগ্রহ।
  • لَنُبِذَ – নিক্ষেপ করা হতো, ছুঁড়ে ফেলা হতো।
  • بِالْعَرَاءِ – খোলা প্রান্তরে, উন্মুক্ত ভূমিতে (যেখানে কোনো আশ্রয় বা গাছপালা নেই)।
  • مَذْمُومٌ – নিন্দিত, তিরস্কৃত, দোষারোপযোগ্য অবস্থায়।

তাফসীর:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং একটি শিক্ষণীয় ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। ঘটনাটি হলো নবী ইউনুস (আলাইহিস সালাম)-এর। তিনি নিজ সম্প্রদায়ের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে ও ধৈর্যের সীমা অতিক্রম করে গভীর দুশ্চিন্তা ও পেরেশানির মধ্যে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন। এরপর তিনি সাগরে নিক্ষিপ্ত হন এবং একটি বিশাল মাছ তাকে গিলে ফেলে। মাছের পেটের অন্ধকারে তিনি তাঁর ভুল বুঝতে পেরে তাওবাহ করেন।

আল্লাহ তাআলা এখানে বলছেন: যদি তাঁর রবের পক্ষ থেকে রহমত ও অনুগ্রহ তাকে আচ্ছন্ন না করত—অর্থাৎ, আল্লাহর বিশেষ করুণা তাকে ক্ষমা করে তাওবাহ কবুল করার তাওফিক না দিত—তাহলে তাকে মাছের পেট থেকে এমন এক খোলা প্রান্তরে নিক্ষেপ করা হতো, যেখানে কোনো গাছ, পাথর বা আশ্রয়ের ব্যবস্থা নেই, এবং তিনি সেখানে নিন্দিত ও তিরস্কৃত অবস্থায় পড়ে থাকতেন। কিন্তু আল্লাহর রহমত তাকে আগেই পেয়ে গিয়েছিল, তাই তাকে মাছটি এমন এক জায়গায় উগরে দিয়েছিল যেখানে আল্লাহর বিশেষ ব্যবস্থায় একটি লতাবিশিষ্ট গাছ তার উপর ছায়া দিয়েছিল এবং তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। তাকে নিন্দিত করা হয়নি; বরং তিনি আল্লাহর পছন্দনীয় বান্দা হিসেবে সম্মানিত হয়েছেন।

এই ঘটনা থেকে শিক্ষা হলো, ধৈর্য ও আল্লাহর উপর ভরসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অধৈর্য হয়ে নিজের পছন্দমতো কিছু তাড়াহুড়া করা উচিত নয়। আল্লাহর রহমতই সবকিছুর চাবিকাঠি।


শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. ধৈর্যের গুরুত্ব: এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, জীবনের যেকোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তের উপর সন্তুষ্ট থাকা অত্যন্ত জরুরি। তাড়াহুড়া বা অধৈর্য মানুষকে ভুল পথে নিয়ে যেতে পারে।
  2. আল্লাহর রহমতের অসীমতা: আল্লাহর রহমত এতই ব্যাপক যে, বান্দা ভুল করলেও যদি সে আন্তরিকভাবে তাওবাহ করে, তবে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন এবং তার অবস্থার উন্নতি ঘটান। ইউনুস (আ.)-এর প্রতি এই রহমতই আমাদের জন্য আশার বাণী।
  3. তাওবাহর সুফল: গুনাহ বা ভুলের পর আন্তরিক তাওবাহ করলে আল্লাহ বান্দার লজ্জা ও নিন্দা দূর করে দেন এবং তাকে সম্মানিত করেন। তাই ভুল করলে হতাশ না হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা উচিত।
  4. নবীগণের মানবিক দিক: এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, নবীগণও মানুষ ছিলেন এবং তাদের থেকে ছোটখাটো ভুল হতে পারে, তবে আল্লাহ তাদেরকে সংশোধন করে নেন এবং তাদের মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দেন। এটি আমাদেরকে নবীগণের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা আরও বৃদ্ধি করে।
  5. আল্লাহর উপর ভরসা: বিপদে পড়লে আল্লাহর উপর ভরসা করা এবং তাঁর কাছেই সাহায্য চাওয়া উচিত। আল্লাহই একমাত্র উদ্ধারকারী, যিনি অসম্ভবকে সম্ভব করেন।


📜 আয়াত 47-51 — সূরা আল-কালাম

47أَمْ عِندَهُمُ الْغَيْبُ فَهُمْ يَكْتُبُونَ
না তাদের কাছে গায়বের খবর আছে? অতঃপর তারা তা লিপিবদ্ধ করে।
48فَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ وَلَا تَكُن كَصَاحِبِ الْحُوتِ إِذْ نَادَىٰ وَهُوَ مَكْظُومٌ
আপনি আপনার পালনকর্তার আদেশের অপেক্ষায় সবর করুন এবং মাছওয়ালা ইউনুসের মত হবেন না, যখন সে দুঃখাকুল মনে প্রার্থনা করেছিল।
49لَّوْلَا أَن تَدَارَكَهُ نِعْمَةٌ مِّن رَّبِّهِ لَنُبِذَ بِالْعَرَاءِ وَهُوَ مَذْمُومٌ
যদি তার পালনকর্তার অনুগ্রহ তাকে সামাল না দিত, তবে সে নিন্দিত অবস্থায় জনশুন্য প্রান্তরে নিক্ষিপ্ত হত।
50فَاجْتَبَاهُ رَبُّهُ فَجَعَلَهُ مِنَ الصَّالِحِينَ
অতঃপর তার পালনকর্তা তাকে মনোনীত করলেন এবং তাকে সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করে নিলেন।
51وَإِن يَكَادُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَيُزْلِقُونَكَ بِأَبْصَارِهِمْ لَمَّا سَمِعُوا الذِّكْرَ وَيَقُولُونَ إِنَّهُ لَمَجْنُونٌ
কাফেররা যখন কোরআন শুনে, তখন তারা তাদের দৃষ্টি দ্বারা যেন আপনাকে আছাড় দিয়ে ফেলে দিবে এবং তারা বলেঃ সে তো একজন পাগল।
আল-কালামকুরআন সূচী
52আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
49আয়াত

অনুবাদ — আল-কালাম 49

সূরা আল-কালাম আয়াত 49 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যদি তার পালনকর্তার অনুগ্রহ তাকে সামাল না দিত, তবে সে…

সূরা আয়াত 49/52 — সূরা আল-কালাম القلم (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-কালাম শুনুন, সূরা আল-কালাম অনুবাদ, সূরা আল-কালাম mp3, সূরা আল-কালাম pdf. আয়াত 47–51. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Tuesday, September 29, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না