Qul innamaa harrama Rabbiyal fawaahisha maa zahara minhaa wa maa bataa wal isma walbaghya bighairil haqqi wa an tushrikoo billaahi maa lam yunazzil bihee sultaananw wa an taqooloo `alal laahi maa laa ta`lamoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আপনি বলে দিনঃ আমার পালনকর্তা কেবলমাত্র অশ্লীল বিষয়সমূহ হারাম করেছেন যা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য এবং হারাম করেছেন গোনাহ, অন্যায়-অত্যাচার আল্লাহর সাথে এমন বস্তুকে অংশীদার করা, তিনি যার কোন, সনদ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহর প্রতি এমন কথা আরোপ করা, যা তোমরা জান না।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(ऐ रसूल) तुम साफ कह दो कि हमारे परवरदिगार ने तो तमाम बदकारियों को ख्वाह (चाहे) ज़ाहिरी हो या बातिनी और गुनाह और नाहक़ ज्यादती करने को हराम किया है और इस बात को कि तुम किसी को ख़ुदा का शरीक बनाओ जिनकी उनसे कोई दलील न ही नाज़िल फरमाई और ये भी कि बे समझे बूझे ख़ुदा पर बोहतान बॉधों
আপনি বলে দিনঃ আমার পালনকর্তা কেবলমাত্র অশ্লীল বিষয়সমূহ হারাম করেছেন যা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য এবং হারাম করেছেন গোনাহ, অন্যায়-অত্যাচার আল্লাহর সাথে এমন বস্তুকে অংশীদার করা, তিনি যার কোন, সনদ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহর প্রতি এমন কথা আরোপ করা, যা তোমরা জান না।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
الْفَوَاحِشَ (ফাওয়াহিশ): জঘন্য ও লজ্জাজনক পাপসমূহ, যেমন—যিনা, ব্যভিচার, সমকামিতা ইত্যাদি।
مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ: এর মধ্যে যা প্রকাশ্য এবং যা গোপন।
الْإِثْمَ (ইছম): সকল প্রকার পাপ ও গুনাহ।
الْبَغْيَ (বাগয়): সীমালঙ্ঘন, অত্যাচার, অন্যায়ভাবে মানুষের ওপর জুলুম করা।
سُلْطَانًا (সুলতান): দলিল-প্রমাণ, যুক্তি-প্রমাণ।
أَن تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ: আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলা যা কেউ জানে না বা আল্লাহ নিজে যা বলেননি।
তাফসীর:
হে নবী! আপনি এই মুশরিকদের বলুন—যারা আল্লাহর হালাল করা জিনিসকে হারাম করে এবং নিজেদের মনগড়া নিয়ম-কানুন চালু করেছে—আমার রব শুধু সেসব জিনিসই হারাম করেছেন যা সত্যিই হারাম এবং মানুষের জন্য ক্ষতিকর। তিনি হারাম করেছেন সব ধরনের অশ্লীল ও জঘন্য কাজ, সেগুলো প্রকাশ্যে করা হোক বা গোপনে। যেমন—ব্যভিচার, অশ্লীলতা, পাপাচার ইত্যাদি। তিনি হারাম করেছেন সকল প্রকার পাপ ও গুনাহ। তিনি হারাম করেছেন অন্যায়ভাবে মানুষের ওপর জুলুম-অত্যাচার করা, তাদের জান-মাল-ইজ্জতের ওপর সীমালঙ্ঘন করা। আরও হারাম করেছেন আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা—যদিও তার কোনো দলিল-প্রমাণ না থাকে। আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ইবাদতের যোগ্য মনে করা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সবশেষে তিনি হারাম করেছেন আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলা যা কেউ জানে না—যেমন আল্লাহর নাম, গুণাবলি, কাজ বা শরিয়ত সম্পর্কে মনগড়া কথা বলা, নিজের পছন্দমতো কিছু হালাল-হারাম ঘোষণা করা, অথবা আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ দেওয়া।
শিক্ষা ও উপদেশ:
ইসলাম শুধু নিষেধের ধর্ম নয়; বরং এটি মানুষের জন্য কল্যাণকর বিধান দিয়েছে। যা হারাম, তা মানুষের দুনিয়া-আখিরাতের জন্য ক্ষতিকর বলেই হারাম।
গোপন পাপও আল্লাহর কাছে অপরাধ। তাই প্রকাশ্যে পাপ না করলেও গোপনে পাপ করা থেকে বিরত থাকা জরুরি।
অন্যায়ভাবে মানুষের ওপর জুলুম করা, তাদের অধিকার খর্ব করা—এটি গুরুতর গুনাহ। ইসলাম ন্যায়বিচার ও ইনসাফের ওপর জোর দেয়।
আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা সবচেয়ে বড় অন্যায়। আল্লাহ ছাড়া কারও ইবাদত করা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক।
আল্লাহ সম্পর্কে অজ্ঞতা ও মনগড়া কথা বলা হারাম। আমাদের উচিত আল্লাহ ও তাঁর দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা এবং কুরআন-সুন্নাহর আলোকে চলা। নিজের পছন্দমতো ধর্ম তৈরি করা বা অন্যদেরকে বিভ্রান্ত করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, ইসলামের বিধানসমূহ যুক্তি ও প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহর পক্ষ থেকে দলিল ছাড়া কোনো বিষয়কে হালাল-হারাম বলার অধিকার কারও নেই।
আপনি বলুনঃ আল্লাহর সাজ-সজ্জাকে, যা তিনি বান্দাদের জন্যে সৃষ্টি করেছেন এবং পবিত্র খাদ্রবস্তুসমূহকে কে হারাম করেছে? আপনি বলুনঃ এসব নেয়ামত আসলে পার্থিব জীবনে মুমিনদের জন্যে এবং কিয়ামতের দিন খাঁটিভাবে তাদেরই জন্যে। এমনিভাবে আমি আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি তাদের জন্যে যারা বুঝে।
আপনি বলে দিনঃ আমার পালনকর্তা কেবলমাত্র অশ্লীল বিষয়সমূহ হারাম করেছেন যা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য এবং হারাম করেছেন গোনাহ, অন্যায়-অত্যাচার আল্লাহর সাথে এমন বস্তুকে অংশীদার করা, তিনি যার কোন, সনদ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহর প্রতি এমন কথা আরোপ করা, যা তোমরা জান না।
হে বনী-আদম, যদি তোমাদের কাছে তোমাদেরই মধ্য থেকে পয়গম্বর আগমন করে তোমাদেরকে আমার আয়াত সমূহ শুনায়, তবে যে ব্যক্তি সংযত হয় এবং সৎকাজ অবলম্বন করে, তাদের কোন আশঙ্কা নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।