আল-আনফাল · 39/75
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-আনফাল
وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ ۚ فَإِنِ انتَهَوْا فَإِنَّ اللَّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ۝٣٩
Wa qaatiloohum hattaa laa takoona fitnatunw wa yakoonaddeenu kulluhoo lillaah; fainin tahaw fa innallaaha bimaa ya`maloona Baseer
📖 বাংলা অর্থ
আর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাক যতক্ষণ না ভ্রান্তি শেষ হয়ে যায়; এবং আল্লাহর সমস্ত হুকুম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। তারপর যদি তারা বিরত হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করেন।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • ফিতনা – এখানে শিরক, কুফর এবং আল্লাহর পথ থেকে বাধা দেওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
  • দ্বীন – আনুগত্য, ইবাদত ও দীন (ধর্ম)।
  • খালিস – বিশুদ্ধ, নিষ্কলুষ।

তাফসির:

হে মুমিনগণ! তোমরা মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকো, যতক্ষণ না পৃথিবী থেকে ফিতনা (শিরক ও আল্লাহর পথে বাধা) দূর না হয় এবং সমগ্র দীন তথা ইবাদত-আনুগত্য সম্পূর্ণরূপে একমাত্র আল্লাহর জন্যই না হয়ে যায়। অর্থাৎ, এমন অবস্থা সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাও, যেখানে কেবল আল্লাহই ইবাদতের একমাত্র উপাস্য হবেন এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করা হবে না। আর মানুষ যেন আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো কারণ না পায়।

কিন্তু যদি তারা শিরক ও কুফর থেকে ফিরে আসে এবং ইসলামের দিকে ধাবিত হয়, তাহলে তাদের সাথে যুদ্ধ বন্ধ করো এবং তাদেরকে ছেড়ে দাও। কেননা তারা যা কিছু করে, আল্লাহ তা সম্পূর্ণরূপে দেখেন এবং তিনি প্রত্যেককে তার কাজের যথাযথ প্রতিদান দেবেন। তাদের ঈমান আনা বা কুফরে থাকা — সবই তাঁর জ্ঞাত।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. ইসলামে যুদ্ধের মূল লক্ষ্য হলো শান্তি প্রতিষ্ঠা, মানুষের হেদায়াতের পথ উন্মুক্ত করা এবং আল্লাহর একত্ব প্রতিষ্ঠা করা — কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা জমি দখল নয়।
  2. ফিতনা তথা শিরক ও অন্যায়ের মূলোৎপাটন না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া মুমিনের দায়িত্ব।
  3. শত্রুরা যদি সত্য পথে ফিরে আসে, তবে তাদেরকে ক্ষমা করে দেওয়া এবং যুদ্ধ বন্ধ করা ইসলামের মহান শিক্ষা — এতে ইসলামের শান্তিপ্রিয়তা ও সহনশীলতা ফুটে ওঠে।
  4. আল্লাহ সবকিছু দেখেন এবং প্রত্যেকের কাজের হিসাব নেবেন — এই বিশ্বাস মুমিনকে সৎকর্মে অটল রাখে এবং অন্যায় থেকে বিরত রাখে।
  5. ইসলামের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা, যেখানে মানুষ শুধু আল্লাহর ইবাদত করবে এবং কোনো প্রকার শিরক বা অন্যায় থাকবে না — এটি মানবজাতির জন্য সর্বোচ্চ কল্যাণের পথ।


📜 আয়াত 37-41 — সূরা আল-আনফাল

37لِيَمِيزَ اللَّهُ الْخَبِيثَ مِنَ الطَّيِّبِ وَيَجْعَلَ الْخَبِيثَ بَعْضَهُ عَلَىٰ بَعْضٍ فَيَرْكُمَهُ جَمِيعًا فَيَجْعَلَهُ فِي جَهَنَّمَ ۚ أُولَٰئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ
যাতে পৃথক করে দেন আল্লাহ অপবিত্র ও না-পাককে পবিত্র ও পাক থেকে। আর যাতে একটির পর একটিকে স্থাপন করে সমবেত স্তুপে পরিণত করেন এবং পরে দোযখে নিক্ষেপ করেন। এরাই হল ক্ষতিগ্রস্ত।
38قُل لِّلَّذِينَ كَفَرُوا إِن يَنتَهُوا يُغْفَرْ لَهُم مَّا قَدْ سَلَفَ وَإِن يَعُودُوا فَقَدْ مَضَتْ سُنَّتُ الْأَوَّلِينَ
তুমি বলে দাও, কাফেরদেরকে যে, তারা যদি বিরত হয়ে যায়, তবে যা কিছু ঘটে গেছে ক্ষমা হবে যাবে। পক্ষান্তরে আবারও যদি তাই করে, তবে পুর্ববর্তীদের পথ নির্ধারিত হয়ে গেছে।
39وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ ۚ فَإِنِ انتَهَوْا فَإِنَّ اللَّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ بَصِيرٌ
আর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাক যতক্ষণ না ভ্রান্তি শেষ হয়ে যায়; এবং আল্লাহর সমস্ত হুকুম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। তারপর যদি তারা বিরত হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করেন।
40وَإِن تَوَلَّوْا فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَوْلَاكُمْ ۚ نِعْمَ الْمَوْلَىٰ وَنِعْمَ النَّصِيرُ
আর তারা যদি না মানে, তবে জেনে রাখ, আল্লাহ তোমাদের সমর্থক; এবং কতই না চমৎকার সাহায্যকারী।
41۞ وَاعْلَمُوا أَنَّمَا غَنِمْتُم مِّن شَيْءٍ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَىٰ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ إِن كُنتُمْ آمَنتُم بِاللَّهِ وَمَا أَنزَلْنَا عَلَىٰ عَبْدِنَا يَوْمَ الْفُرْقَانِ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعَانِ ۗ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
আর এ কথাও জেনে রাখ যে, কোন বস্তু-সামগ্রীর মধ্য থেকে যা কিছু তোমরা গনীমত হিসাবে পাবে, তার এক পঞ্চমাংশ হল আল্লাহর জন্য, রসূলের জন্য, তাঁর নিকটাত্নীয়-স্বজনের জন্য এবং এতীম-অসহায় ও মুসাফিরদের জন্য; যদি তোমাদের বিশ্বাস থাকে আল্লাহর উপর এবং সে বিষয়ের উপর যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি ফয়সালার দিনে, যেদিন সম্মুখীন হয়ে যায় উভয় সেনাদল। আর আল্লাহ সব কিছুর উপরই ক্ষমতাশীল।
আল-আনফালকুরআন সূচী
75আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
39আয়াত

অনুবাদ — আল-আনফাল 39

সূরা আল-আনফাল আয়াত 39 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাক যতক্ষণ না ভ্রান্তি শেষ…

সূরা আয়াত 39/75 — সূরা আল-আনফাল الأنفال (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-আনফাল শুনুন, সূরা আল-আনফাল অনুবাদ, সূরা আল-আনফাল mp3, সূরা আল-আনফাল pdf. আয়াত 37–41. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না