আল-আনফাল · 44/75
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-আনফাল
وَإِذْ يُرِيكُمُوهُمْ إِذِ الْتَقَيْتُمْ فِي أَعْيُنِكُمْ قَلِيلًا وَيُقَلِّلُكُمْ فِي أَعْيُنِهِمْ لِيَقْضِيَ اللَّهُ أَمْرًا كَانَ مَفْعُولًا ۗ وَإِلَى اللَّهِ تُرْجَعُ الْأُمُورُ ۝٤٤
Wa iz yureekumoohum izil taqaitum feee a`yunikum qaleelanw wa yuqallilukum feee a`yunihim liyaqdiyal laahu amran kaana maf`oolaa; wa ilal laahi turja`ul umoor
📖 বাংলা অর্থ
আর যখন তোমাদেরকে দেখালেন সে সৈন্যদল মোকাবেলার সময় তোমাদের চোখে অল্প এবং তোমাদেরকে দেখালেন তাদের চোখে বেশী, যাতে আল্লাহ সে কাজ করে নিতে পারেন যা ছিল নির্ধারিত। আর সব কাজই আল্লাহর নিকট গিয়ে পৌছায়।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • يُرِيكُمُوهُمْ — তিনি তোমাদেরকে তাদের দেখিয়েছিলেন।
  • إِذِ الْتَقَيْتُمْ — যখন তোমরা (মুসলিম ও মুশরিক) পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিলে।
  • فِي أَعْيُنِكُمْ قَلِيلًا — তোমাদের চোখে তাদের (শত্রুদের) সংখ্যা অল্প দেখানো হয়েছিল।
  • وَيُقَلِّلُكُمْ فِي أَعْيُنِهِمْ — এবং তাদের চোখে তোমাদের সংখ্যা অল্প দেখানো হয়েছিল।
  • لِيَقْضِيَ اللَّهُ أَمْرًا كَانَ مَفْعُولًا — যাতে আল্লাহ সেই বিষয়টি সম্পন্ন করেন যা ঘটানো অবধারিত ছিল।
  • تُرْجَعُ الْأُمُورُ — সকল বিষয় প্রত্যাবর্তিত হয়।

তাফসীর:

হে মুমিনগণ! স্মরণ করো সেই মুহূর্তটিকে, যখন বদরের ময়দানে তোমরা শত্রু বাহিনীর মুখোমুখি হয়েছিলে। আল্লাহ তাআলা তাঁর অসীম কুদরতে তোমাদের চোখে শত্রুদের সংখ্যা অল্প দেখিয়েছিলেন, যাতে তোমাদের মনে সাহস সৃষ্টি হয় এবং তোমরা নির্ভীকভাবে তাদের মোকাবিলায় অগ্রসর হও। অপরদিকে, তিনি তাদের চোখে তোমাদের সংখ্যাও অল্প দেখিয়েছিলেন, যাতে তারা মনে করে তোমরা দুর্বল এবং তারা যেন যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে আসে, পিছু হটার কথা না ভাবে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা একটি নির্ধারিত বিষয় সম্পন্ন করতে চেয়েছিলেন—তা হলো ইসলাম ও মুসলিমদের সম্মানিত করা, শিরক ও তার অনুসারীদের অপদস্থ করা, এবং মুমিনদের ওপর বিজয় ও কর্তৃত্ব দান করা। এই সবকিছুই ঘটেছিল আল্লাহর ইচ্ছা ও পরিকল্পনায়, যা তিনি পূর্বেই লিখে রেখেছিলেন। আর সকল বিষয়ের চূড়ান্ত পরিণতি আল্লাহর দিকেই ফিরে যায়; তিনি প্রত্যেককে তার কর্ম অনুযায়ী প্রতিদান দেবেন—সৎকর্মশীলকে তার উত্তম প্রতিদান এবং অসৎকর্মীকে তার শাস্তি।


উপকারিতা ও শিক্ষা:

  1. আল্লাহ তাআলাই যুদ্ধের ময়দানে মুমিনদের অন্তরে সাহস ও দৃঢ়তা সৃষ্টি করেন; তিনি চাইলে শত্রুকে ছোট দেখিয়ে মুমিনদের বিজয়ের পথ সুগম করেন। তাই মুমিনের উচিত সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা করা।
  2. বিজয় ও পরাজয় সম্পূর্ণ আল্লাহর হাতে। তিনি যাকে ইচ্ছা সম্মান দেন এবং যাকে ইচ্ছা অপমান করেন। মুমিনের কর্তব্য আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা এবং তাঁর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকা।
  3. আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য এমন কৌশল অবলম্বন করেন যা মানুষের চোখে অদৃশ্য; তিনি মুমিনদের স্বার্থেই পরিস্থিতি পরিচালনা করেন, যদিও তা প্রথম দৃষ্টিতে বোঝা না-ও যায়।
  4. সকল বিষয়ের চূড়ান্ত পরিণতি আল্লাহর দিকে। তাই জীবনের প্রতিটি কর্মে আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা উচিত, কারণ প্রতিটি কাজের হিসাব তাঁর কাছেই দিতে হবে।
  5. এই আয়াত মুমিনদের মনে এই বিশ্বাস দৃঢ় করে যে, আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন। তিনি মুমিনদের সাহায্য করার জন্য এমন উপায় তৈরি করেন যা তারা কল্পনাও করতে পারে না।


📜 আয়াত 42-46 — আল-আনফাল

42إِذْ أَنتُم بِالْعُدْوَةِ الدُّنْيَا وَهُم بِالْعُدْوَةِ الْقُصْوَىٰ وَالرَّكْبُ أَسْفَلَ مِنكُمْ ۚ وَلَوْ تَوَاعَدتُّمْ لَاخْتَلَفْتُمْ فِي الْمِيعَادِ ۙ وَلَٰكِن لِّيَقْضِيَ اللَّهُ أَمْرًا كَانَ مَفْعُولًا لِّيَهْلِكَ مَنْ هَلَكَ عَن بَيِّنَةٍ وَيَحْيَىٰ مَنْ حَيَّ عَن بَيِّنَةٍ ۗ وَإِنَّ اللَّهَ لَسَمِيعٌ عَلِيمٌ
আর যখন তোমরা ছিলে সমরাঙ্গনের এ প্রান্তে আর তারা ছিল সে প্রান্তে অথচ কাফেলা তোমাদের থেকে নীচে নেমে গিয়েছিল। এমতাবস্থায় যদি তোমরা পারস্পরিক অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে, তবে তোমরা এক সঙ্গে সে ওয়াদা পালন করতে পারতে না। কিন্তু আল্লাহ তা’আলা এমন এক কাজ করতে চেয়েছিলেন, যা নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল যাতে সে সব লোক নিহত হওয়ার ছিল, প্রমাণ প্রতিষ্ঠার পর এবং যাদের বাঁচার ছিল, তারা বেঁচে থাকে প্রমাণ প্রতিষ্ঠার পর। আর নিশ্চিতই আল্লাহ শ্রবণকারী, বিজ্ঞ।
43إِذْ يُرِيكَهُمُ اللَّهُ فِي مَنَامِكَ قَلِيلًا ۖ وَلَوْ أَرَاكَهُمْ كَثِيرًا لَّفَشِلْتُمْ وَلَتَنَازَعْتُمْ فِي الْأَمْرِ وَلَٰكِنَّ اللَّهَ سَلَّمَ ۗ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ
আল্লাহ যখন তোমাকে স্বপ্নে সেসব কাফেরের পরিমাণ অল্প করে দেখালেন; বেশী করে দেখালে তোমরা কাপুরুষতা অবলম্বন করতে এবং কাজের বেলায় বিপদ সৃষ্টি করতে। কিন্তু আল্লাহ বাঁচিয়ে দিয়েছেন। তিনি অতি উত্তমভাবেই জানেন; যা কিছু অন্তরে রয়েছে।
44وَإِذْ يُرِيكُمُوهُمْ إِذِ الْتَقَيْتُمْ فِي أَعْيُنِكُمْ قَلِيلًا وَيُقَلِّلُكُمْ فِي أَعْيُنِهِمْ لِيَقْضِيَ اللَّهُ أَمْرًا كَانَ مَفْعُولًا ۗ وَإِلَى اللَّهِ تُرْجَعُ الْأُمُورُ
আর যখন তোমাদেরকে দেখালেন সে সৈন্যদল মোকাবেলার সময় তোমাদের চোখে অল্প এবং তোমাদেরকে দেখালেন তাদের চোখে বেশী, যাতে আল্লাহ সে কাজ করে নিতে পারেন যা ছিল নির্ধারিত। আর সব কাজই আল্লাহর নিকট গিয়ে পৌছায়।
45يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوا وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
হে ঈমানদারগণ, তোমরা যখন কোন বাহিনীর সাথে সংঘাতে লিপ্ত হও, তখন সুদৃঢ় থাক এবং আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর যাতে তোমরা উদ্দেশ্যে কৃতকার্য হতে পার।
46وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ ۖ وَاصْبِرُوا ۚ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ
আর আল্লাহ তা’আলার নির্দেশ মান্য কর এবং তাঁর রসূলের। তাছাড়া তোমরা পরস্পরে বিবাদে লিপ্ত হইও না। যদি তা কর, তবে তোমরা কাপুরুষ হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব চলে যাবে। আর তোমরা ধৈর্য্যধারণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা রয়েছেন ধৈর্য্যশীলদের সাথে।
আল-আনফালকুরআন সূচী
75আয়াত
মাদানীRevelation
44আয়াত

অনুবাদ — আল-আনফাল 44

সূরা আল-আনফাল আয়াত 44 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আর যখন তোমাদেরকে দেখালেন সে সৈন্যদল মোকাবেলার সময় তোমাদের চোখে…

সূরা আয়াত 44/75 — আল-আনফাল الأنفال (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-আনফাল শুনুন, আল-আনফাল অনুবাদ, আল-আনফাল mp3, আল-আনফাল pdf. আয়াত 42–46. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না