Wa iz yureekumoohum izil taqaitum feee a`yunikum qaleelanw wa yuqallilukum feee a`yunihim liyaqdiyal laahu amran kaana maf`oolaa; wa ilal laahi turja`ul umoor
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আর যখন তোমাদেরকে দেখালেন সে সৈন্যদল মোকাবেলার সময় তোমাদের চোখে অল্প এবং তোমাদেরকে দেখালেন তাদের চোখে বেশী, যাতে আল্লাহ সে কাজ করে নিতে পারেন যা ছিল নির্ধারিত। আর সব কাজই আল্লাহর নিকট গিয়ে পৌছায়।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(ये वह वक्त था) जब तुम लोगों ने मुठभेड़ की तो ख़ुदा ने तुम्हारी ऑखों में कुफ्फ़ार को बहुत कम करके दिखलाया और उनकी ऑखों में तुमको थोड़ा कर दिया ताकि ख़ुदा को जो कुछ करना मंज़ूर था वह पूरा हो जाए और कुल बातों का दारोमदार तो ख़ुदा ही पर है
يُرِيكُمُوهُمْ — তিনি তোমাদেরকে তাদের দেখিয়েছিলেন।
إِذِ الْتَقَيْتُمْ — যখন তোমরা (মুসলিম ও মুশরিক) পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিলে।
فِي أَعْيُنِكُمْ قَلِيلًا — তোমাদের চোখে তাদের (শত্রুদের) সংখ্যা অল্প দেখানো হয়েছিল।
وَيُقَلِّلُكُمْ فِي أَعْيُنِهِمْ — এবং তাদের চোখে তোমাদের সংখ্যা অল্প দেখানো হয়েছিল।
لِيَقْضِيَ اللَّهُ أَمْرًا كَانَ مَفْعُولًا — যাতে আল্লাহ সেই বিষয়টি সম্পন্ন করেন যা ঘটানো অবধারিত ছিল।
تُرْجَعُ الْأُمُورُ — সকল বিষয় প্রত্যাবর্তিত হয়।
তাফসীর:
হে মুমিনগণ! স্মরণ করো সেই মুহূর্তটিকে, যখন বদরের ময়দানে তোমরা শত্রু বাহিনীর মুখোমুখি হয়েছিলে। আল্লাহ তাআলা তাঁর অসীম কুদরতে তোমাদের চোখে শত্রুদের সংখ্যা অল্প দেখিয়েছিলেন, যাতে তোমাদের মনে সাহস সৃষ্টি হয় এবং তোমরা নির্ভীকভাবে তাদের মোকাবিলায় অগ্রসর হও। অপরদিকে, তিনি তাদের চোখে তোমাদের সংখ্যাও অল্প দেখিয়েছিলেন, যাতে তারা মনে করে তোমরা দুর্বল এবং তারা যেন যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে আসে, পিছু হটার কথা না ভাবে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা একটি নির্ধারিত বিষয় সম্পন্ন করতে চেয়েছিলেন—তা হলো ইসলাম ও মুসলিমদের সম্মানিত করা, শিরক ও তার অনুসারীদের অপদস্থ করা, এবং মুমিনদের ওপর বিজয় ও কর্তৃত্ব দান করা। এই সবকিছুই ঘটেছিল আল্লাহর ইচ্ছা ও পরিকল্পনায়, যা তিনি পূর্বেই লিখে রেখেছিলেন। আর সকল বিষয়ের চূড়ান্ত পরিণতি আল্লাহর দিকেই ফিরে যায়; তিনি প্রত্যেককে তার কর্ম অনুযায়ী প্রতিদান দেবেন—সৎকর্মশীলকে তার উত্তম প্রতিদান এবং অসৎকর্মীকে তার শাস্তি।
উপকারিতা ও শিক্ষা:
আল্লাহ তাআলাই যুদ্ধের ময়দানে মুমিনদের অন্তরে সাহস ও দৃঢ়তা সৃষ্টি করেন; তিনি চাইলে শত্রুকে ছোট দেখিয়ে মুমিনদের বিজয়ের পথ সুগম করেন। তাই মুমিনের উচিত সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা করা।
বিজয় ও পরাজয় সম্পূর্ণ আল্লাহর হাতে। তিনি যাকে ইচ্ছা সম্মান দেন এবং যাকে ইচ্ছা অপমান করেন। মুমিনের কর্তব্য আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা এবং তাঁর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকা।
আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য এমন কৌশল অবলম্বন করেন যা মানুষের চোখে অদৃশ্য; তিনি মুমিনদের স্বার্থেই পরিস্থিতি পরিচালনা করেন, যদিও তা প্রথম দৃষ্টিতে বোঝা না-ও যায়।
সকল বিষয়ের চূড়ান্ত পরিণতি আল্লাহর দিকে। তাই জীবনের প্রতিটি কর্মে আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা উচিত, কারণ প্রতিটি কাজের হিসাব তাঁর কাছেই দিতে হবে।
এই আয়াত মুমিনদের মনে এই বিশ্বাস দৃঢ় করে যে, আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন। তিনি মুমিনদের সাহায্য করার জন্য এমন উপায় তৈরি করেন যা তারা কল্পনাও করতে পারে না।
আর যখন তোমাদেরকে দেখালেন সে সৈন্যদল মোকাবেলার সময় তোমাদের চোখে অল্প এবং তোমাদেরকে দেখালেন তাদের চোখে বেশী, যাতে আল্লাহ সে কাজ করে নিতে পারেন যা ছিল নির্ধারিত। আর সব কাজই আল্লাহর নিকট গিয়ে পৌছায়।
আর যখন তোমরা ছিলে সমরাঙ্গনের এ প্রান্তে আর তারা ছিল সে প্রান্তে অথচ কাফেলা তোমাদের থেকে নীচে নেমে গিয়েছিল। এমতাবস্থায় যদি তোমরা পারস্পরিক অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে, তবে তোমরা এক সঙ্গে সে ওয়াদা পালন করতে পারতে না। কিন্তু আল্লাহ তা’আলা এমন এক কাজ করতে চেয়েছিলেন, যা নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল যাতে সে সব লোক নিহত হওয়ার ছিল, প্রমাণ প্রতিষ্ঠার পর এবং যাদের বাঁচার ছিল, তারা বেঁচে থাকে প্রমাণ প্রতিষ্ঠার পর। আর নিশ্চিতই আল্লাহ শ্রবণকারী, বিজ্ঞ।
আল্লাহ যখন তোমাকে স্বপ্নে সেসব কাফেরের পরিমাণ অল্প করে দেখালেন; বেশী করে দেখালে তোমরা কাপুরুষতা অবলম্বন করতে এবং কাজের বেলায় বিপদ সৃষ্টি করতে। কিন্তু আল্লাহ বাঁচিয়ে দিয়েছেন। তিনি অতি উত্তমভাবেই জানেন; যা কিছু অন্তরে রয়েছে।
আর যখন তোমাদেরকে দেখালেন সে সৈন্যদল মোকাবেলার সময় তোমাদের চোখে অল্প এবং তোমাদেরকে দেখালেন তাদের চোখে বেশী, যাতে আল্লাহ সে কাজ করে নিতে পারেন যা ছিল নির্ধারিত। আর সব কাজই আল্লাহর নিকট গিয়ে পৌছায়।
আর আল্লাহ তা’আলার নির্দেশ মান্য কর এবং তাঁর রসূলের। তাছাড়া তোমরা পরস্পরে বিবাদে লিপ্ত হইও না। যদি তা কর, তবে তোমরা কাপুরুষ হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব চলে যাবে। আর তোমরা ধৈর্য্যধারণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা রয়েছেন ধৈর্য্যশীলদের সাথে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।