فِئَةً — একটি দল, এখানে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত শত্রুদের দল।
فَاثْبُتُوا — তোমরা দৃঢ় থাকো, পিছু হটো না।
وَاذْكُرُوا اللهَ كَثِيرًا — আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো এবং তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো।
لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ — যাতে তোমরা সফলতা অর্জন করতে পারো।
তাফসির:
হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা যুদ্ধের ময়দানে শত্রুদের একটি দলের মুখোমুখি হও, তখন তোমাদের কর্তব্য হলো দৃঢ়তা ও সাহসিকতার সাথে মোকাবিলা করা। কোনো অবস্থাতেই পলায়ন করা বা দুর্বলতা প্রদর্শন করা উচিত নয়। কারণ, দৃঢ়তা ও ধৈর্যই বিজয়ের চাবিকাঠি।
এছাড়া, সেই কঠিন মুহূর্তে তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করবে—তাঁর প্রশংসা করবে, তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে এবং দোয়া করবে যেন তিনি তোমাদের ওপর বিজয় দান করেন। মনে রাখবে, প্রকৃত সাহায্য একমাত্র আল্লাহর কাছ থেকে আসে। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। তোমরা যখন আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে দৃঢ় থাকবে এবং তাঁর জিকিরে লিপ্ত থাকবে, তখন আল্লাহ তোমাদের অন্তরে প্রশান্তি দান করবেন এবং শত্রুর মোকাবিলায় তোমাদের সাহস ও শক্তি বৃদ্ধি করবেন। এই দৃঢ়তা, ধৈর্য এবং আল্লাহর স্মরণই তোমাদের সাফল্যের পথ সুগম করবে—পার্থিব জীবনে বিজয় এবং পরকালে চিরন্তন সফলতা।
শিক্ষা ও উপদেশ:
কঠিন পরিস্থিতিতে দৃঢ় থাকা এবং সাহস না হারানো মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আল্লাহর ওপর ভরসা থাকলে কোনো বাধাই দুস্তর নয়।
যুদ্ধ কিংবা সংকটের সময় আল্লাহর জিকির ও দোয়া অস্ত্রের মতোই শক্তিশালী মাধ্যম। এটি অন্তরকে প্রশান্ত করে এবং আল্লাহর সাহায্য আকর্ষণ করে।
সফলতা কেবল পার্থিব বিজয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই প্রকৃত সফলতা। দৃঢ়তা ও আল্লাহমুখী হওয়ার মাধ্যমেই মুমিন দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জায়গায় সফল হয়।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে—শত্রুর মোকাবিলা হোক বা অন্য যেকোনো সংকট—আল্লাহকে স্মরণ করা এবং তাঁর ওপর নির্ভর করাই মুমিনের একমাত্র পথ।
আল্লাহ যখন তোমাকে স্বপ্নে সেসব কাফেরের পরিমাণ অল্প করে দেখালেন; বেশী করে দেখালে তোমরা কাপুরুষতা অবলম্বন করতে এবং কাজের বেলায় বিপদ সৃষ্টি করতে। কিন্তু আল্লাহ বাঁচিয়ে দিয়েছেন। তিনি অতি উত্তমভাবেই জানেন; যা কিছু অন্তরে রয়েছে।
আর যখন তোমাদেরকে দেখালেন সে সৈন্যদল মোকাবেলার সময় তোমাদের চোখে অল্প এবং তোমাদেরকে দেখালেন তাদের চোখে বেশী, যাতে আল্লাহ সে কাজ করে নিতে পারেন যা ছিল নির্ধারিত। আর সব কাজই আল্লাহর নিকট গিয়ে পৌছায়।
আর আল্লাহ তা’আলার নির্দেশ মান্য কর এবং তাঁর রসূলের। তাছাড়া তোমরা পরস্পরে বিবাদে লিপ্ত হইও না। যদি তা কর, তবে তোমরা কাপুরুষ হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব চলে যাবে। আর তোমরা ধৈর্য্যধারণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা রয়েছেন ধৈর্য্যশীলদের সাথে।
আর তাদের মত হয়ে যেয়ো না, যারা বেরিয়েছে নিজেদের অবস্থান থেকে গর্বিতভাবে এবং লোকদেরকে দেখাবার উদ্দেশে। আর আল্লাহর পথে তারা বাধা দান করত। বস্তুতঃ আল্লাহর আয়ত্বে রয়েছে সে সমস্ত বিষয় যা তারা করে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।