আত-তওবা · 129/129
অনুবাদ উচ্চারণ — আত-তওবা
فَإِن تَوَلَّوۡاْ فَقُلۡ حَسۡبِيَ ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَۖ عَلَيۡهِ تَوَكَّلۡتُۖ وَهُوَ رَبُّ ٱلۡعَرۡشِ ٱلۡعَظِيمِ  ۝١٢٩
Fa in tawallaw faqul lhasbiyal laahu laaa ilaaha illaa Huwa `alaihi tawakkkaltu wa Huwa Rabbul `Arshil `Azeem
📖 বাংলা অর্থ
এ সত্ত্বেও যদি তারা বিমুখ হয়ে থাকে, তবে বলে দাও, আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত আর কারো বন্দেগী নেই। আমি তাঁরই ভরসা করি এবং তিনিই মহান আরশের অধিপতি।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দের অর্থ:

  • حَسْبِيَ — আমার জন্য যথেষ্ট, আমার পক্ষে পর্যাপ্ত।
  • تَوَكَّلْتُ — আমি ভরসা করেছি, নির্ভর করেছি।
  • الْعَرْشِ الْعَظِيمِ — মহান আরশ (যা সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি)।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

হে নবী! যদি এই মুশরিক ও মুনাফিকরা ঈমান আনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং আপনার প্রতি ঈমান না আনে, তবে আপনি তাদের বলুন: “আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি আমাকে সব কিছুর জন্য পর্যাপ্ত, তিনি আমার রক্ষক ও সাহায্যকারী। তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। আমি তাঁরই উপর ভরসা করেছি এবং আমার সমস্ত বিষয় তাঁর কাছেই সোপর্দ করেছি। আমি তাঁর ছাড়া কারো কাছে আশা করি না। তিনি হলেন মহান আরশের রব — সেই আরশ যা সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্ববৃহৎ। যিনি এই মহান আরশের মালিক, তিনি অবশ্যই তাঁর বান্দাকে রক্ষা করতে সক্ষম।”

এই আয়াতে আল্লাহ তাঁর নবীকে শিক্ষা দিচ্ছেন যে, যখন শত্রুরা মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং কষ্ট দেয়, তখন এভাবে আল্লাহর উপর ভরসা প্রকাশ করতে হবে। এটি মুমিনের জন্য এক মহান শিক্ষা — সব অবস্থায় আল্লাহর উপর নির্ভর করা।

উপকারিতা ও শিক্ষা:

  1. মুমিনের জীবনে আল্লাহর উপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) অপরিহার্য — যখন মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেয়, তখন আল্লাহই একমাত্র ভরসাস্থল।
  2. “لا إله إلا الله” — এই কালিমার মাধ্যমে তাওহিদের ঘোষণা এবং সবকিছু থেকে বিমুখ হয়ে একমাত্র আল্লাহর দিকে ফেরার শিক্ষা।
  3. আল্লাহর মহত্ত্ব ও ক্ষমতা সম্পর্কে সচেতনতা — তিনি আরশের রব, অর্থাৎ সমগ্র সৃষ্টিজগতের উপর তাঁর পূর্ণ কর্তৃত্ব। তাই তাঁর সাহায্য ও রক্ষা অবশ্যই আসবে।
  4. এই আয়াত পাঠ করা মুমিনের জন্য শান্তি ও প্রশান্তির উৎস — যখনই দুশ্চিন্তা বা ভয় আসে, তখন এই দোয়া পাঠ করলে অন্তর প্রশান্ত হয়।
  5. নবীজীর (সা.) আদর্শ অনুসরণ — কঠিন পরিস্থিতিতেও ধৈর্য ধরে আল্লাহর উপর ভরসা করা এবং শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার সাহস পাওয়া যায়।
  6. ইসলামের শিক্ষা — মুমিন কখনো হতাশ হয় না, কারণ সে জানে আল্লাহ তার সাথে আছেন এবং তিনিই সর্বশক্তিমান।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 127-129 — আত-তওবা

127وَإِذَا مَآ أُنزِلَتۡ سُورَةٌ نَّظَرَ بَعۡضُهُمۡ إِلَىٰ بَعۡضٍ هَلۡ يَرَىٰكُم مِّنۡ أَحَدٍ ثُمَّ ٱنصَرَفُواْۚ صَرَفَ ٱللَّهُ قُلُوبَهُم بِأَنَّهُمۡ قَوۡمٌ لَّا يَفۡقَهُونَ 
আর যখনই কোন সূরা অবতীর্ণ হয়, তখন তারা একে অন্যের দিকে তাকায় যে, কোন মুসলমান তোমাদের দেখছে কি-না-অতঃপর সরে পড়ে। আল্লাহ ওদের অন্তরকে সত্য বিমুখ করে দিয়েছেন! নিশ্চয়ই তারা নির্বোধ সম্প্রদায়।
128لَقَدۡ جَآءَكُمۡ رَسُولٌ مِّنۡ أَنفُسِكُمۡ عَزِيزٌ عَلَيۡهِ مَا عَنِتُّمۡ حَرِيصٌ عَلَيۡكُم بِٱلۡمُؤۡمِنِينَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ 
তোমাদের কাছে এসেছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রসূল। তোমাদের দুঃখ-কষ্ট তার পক্ষে দুঃসহ। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময়।
129فَإِن تَوَلَّوۡاْ فَقُلۡ حَسۡبِيَ ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَۖ عَلَيۡهِ تَوَكَّلۡتُۖ وَهُوَ رَبُّ ٱلۡعَرۡشِ ٱلۡعَظِيمِ 
এ সত্ত্বেও যদি তারা বিমুখ হয়ে থাকে, তবে বলে দাও, আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত আর কারো বন্দেগী নেই। আমি তাঁরই ভরসা করি এবং তিনিই মহান আরশের অধিপতি।
আত-তওবাকুরআন সূচী
129আয়াত
মাদানীRevelation
129আয়াত

অনুবাদ — আত-তওবা 129

সূরা আয়াত 129/129 — আত-তওবা التوبة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আত-তওবা শুনুন, আত-তওবা অনুবাদ, আত-তওবা mp3, আত-তওবা pdf. আয়াত 127–129. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না