ইউনুস · 32/109
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা ইউনুস
فَذَٰلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمُ الْحَقُّ ۖ فَمَاذَا بَعْدَ الْحَقِّ إِلَّا الضَّلَالُ ۖ فَأَنَّىٰ تُصْرَفُونَ ۝٣٢
Fazaalikumul laahu Rabbukumul haqq; famaazaa ba`dal haqqi illad dalaalu fa annnaa tusrafoon
📖 বাংলা অর্থ
অতএব, এ আল্লাহই তোমাদের প্রকৃত পালনকর্তা। আর সত্য প্রকাশের পরে (উদভ্রান্ত ঘুরার মাঝে) কি রয়েছে গোমরাহী ছাড়া? সুতরাং কোথায় ঘুরছ?

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • فَذَٰلِكُمُ — সুতরাং সেই (তিনিই)।
  • الْحَقُّ — সত্য, যার কোনো সন্দেহ নেই।
  • الضَّلَالُ — পথভ্রষ্টতা, সত্য থেকে বিচ্যুতি।
  • فَأَنَّىٰ — তাহলে কীভাবে? (বিস্ময় ও তিরস্কারসূচক প্রশ্ন)।
  • تُصْرَفُونَ — তোমাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে / তোমরা ফিরে যাচ্ছ।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

হে মানুষ! যে মহান সত্তা আকাশ, পৃথিবী, সূর্য, চন্দ্র, দিন-রাত এবং তোমাদের জীবনধারণের সকল উপকরণ সৃষ্টি করেছেন—তিনিই আল্লাহ, তোমাদের প্রকৃত রব। তিনি ছাড়া আর কেউ তোমাদের লালন-কর্তা নয়। তাঁর সত্তা ও গুণাবলি সম্পূর্ণ সত্য, তাঁর অস্তিত্ব ও একত্বে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। তিনিই একমাত্র ইবাদতের যোগ্য, তাঁর কোনো অংশীদার নেই।

এখন প্রশ্ন হলো—সত্যের পর আর কী থাকতে পারে? সত্যের বিপরীত যা কিছু, তা সবই মিথ্যা ও পথভ্রষ্টতা। সত্য ও মিথ্যার মাঝে কোনো তৃতীয় অবস্থান নেই। আল্লাহই একমাত্র সত্য, তাই তাঁর বাইরে যা কিছু আছে—মূর্তি, নক্ষত্র, নবী-অলি বা অন্য যাকে ইবাদত করা হয়—সবই বাতিল ও বিভ্রান্তি।

তাহলে তোমাদেরকে কীভাবে সত্য থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে? যে সত্য এত স্পষ্ট, যার প্রমাণ এত দৃশ্যমান, তবুও তোমরা কেন তা ছেড়ে মিথ্যার পেছনে ছুটছ? এটা কী বুদ্ধিমানের কাজ? তোমাদের বিবেক-বুদ্ধি কোথায় হারিয়ে গেল? অথচ প্রকৃতির প্রতিটি নিদর্শন, তোমাদের নিজেদের সৃষ্টি—সবকিছুই আল্লাহর একত্বের সাক্ষ্য দিচ্ছে। অথচ তোমরা এত স্পষ্ট সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছ!


শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহই একমাত্র সত্য মা'বুদ। তাঁর সত্তা, গুণাবলি ও ইবাদত—সবকিছুতে কোনো শিরক বা অংশীদারিত্ব জায়েজ নয়।
  2. সত্য ও মিথ্যার মাঝে কোনো মাঝামাঝি অবস্থান নেই। যে আল্লাহকে ছেড়ে অন্য কিছুর ওপর ভরসা করে বা অন্য কারো ইবাদত করে, সে সরাসরি পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত।
  3. মানুষের বিবেক ও প্রকৃতি (ফিতরাত) আল্লাহর একত্বের সাক্ষ্য দেয়। তাই সত্য থেকে বিমুখ হওয়া মানে নিজের সহজাত জ্ঞানকেই অস্বীকার করা।
  4. এই আয়াত আমাদেরকে প্রতিনিয়ত আত্মসমালোচনার শিক্ষা দেয়—আমরা কি সত্যের পথে আছি, নাকি কোনো না কোনোভাবে মিথ্যার দিকে ঝুঁকে পড়েছি?
  5. আল্লাহর সৃষ্টিজগতের প্রতি গভীর দৃষ্টি দিলে তাঁর অস্তিত্ব ও একত্বের প্রমাণ এত স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, তা থেকে বিমুখ হওয়া কেবল অজ্ঞতা বা অহংকারের কারণেই সম্ভব।
  6. এই আয়াত মুমিনের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও ভক্তি জাগ্রত করে, এবং তাকে সত্যের ওপর অবিচল থাকার প্রেরণা দেয়—যেন সে কখনো সত্য থেকে বিচ্যুত না হয়।


📜 আয়াত 30-34 — সূরা ইউনুস

30هُنَالِكَ تَبْلُو كُلُّ نَفْسٍ مَّا أَسْلَفَتْ ۚ وَرُدُّوا إِلَى اللَّهِ مَوْلَاهُمُ الْحَقِّ ۖ وَضَلَّ عَنْهُم مَّا كَانُوا يَفْتَرُونَ
সেখানে প্রত্যেকে যাচাই করে নিতে পারবে যা কিছু সে ইতিপূর্বে করেছিল এবং আল্লাহর প্রতি প্রত্যাবর্তন করবে যিনি তাদের প্রকৃত মালিক, আর তাদের কাছ থেকে দূরে যেতে থাকবে যারা মিথ্যা বলত।
31قُلْ مَن يَرْزُقُكُم مِّنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أَمَّن يَمْلِكُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَمَن يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَمَن يُدَبِّرُ الْأَمْرَ ۚ فَسَيَقُولُونَ اللَّهُ ۚ فَقُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ
তুমি জিজ্ঞেস কর, কে রুযী দান করে তোমাদেরকে আসমান থেকে ও যমীন থেকে, কিংবা কে তোমাদের কান ও চোখের মালিক? তাছাড়া কে জীবিতকে মৃতের ভেতর থেকে বের করেন এবং কেইবা মৃতকে জীবিতের মধ্য থেকে বের করেন? কে করেন কর্ম সম্পাদনের ব্যবস্থাপনা? তখন তারা বলে উঠবে, আল্লাহ! তখন তুমি বলো তারপরেও ভয় করছ না?
32فَذَٰلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمُ الْحَقُّ ۖ فَمَاذَا بَعْدَ الْحَقِّ إِلَّا الضَّلَالُ ۖ فَأَنَّىٰ تُصْرَفُونَ
অতএব, এ আল্লাহই তোমাদের প্রকৃত পালনকর্তা। আর সত্য প্রকাশের পরে (উদভ্রান্ত ঘুরার মাঝে) কি রয়েছে গোমরাহী ছাড়া? সুতরাং কোথায় ঘুরছ?
33كَذَٰلِكَ حَقَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ عَلَى الَّذِينَ فَسَقُوا أَنَّهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ
এমনিভাবে সপ্রমাণিত হয়ে গেছে তোমার পরওয়ারদেগারের বাণী সেসব নাফরমানের ব্যাপারে যে, এরা ঈমান আনবে না।
34قُلْ هَلْ مِن شُرَكَائِكُم مَّن يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ ۚ قُلِ اللَّهُ يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ ۖ فَأَنَّىٰ تُؤْفَكُونَ
বল, আছে কি কেউ তোমাদের শরীকদের মাঝে যে সৃষ্টি কে পয়দা করতে পারে এবং আবার জীবিত করতে পারে? বল, আল্লাহই প্রথমবার সৃষ্টি করেন এবং অতঃপর তার পুনরুদ্ভব করবেন। অতএব, কোথায় ঘুরপাক খাচ্ছে?
ইউনুসকুরআন সূচী
109আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
32আয়াত

অনুবাদ — ইউনুস 32

সূরা ইউনুস আয়াত 32 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : অতএব, এ আল্লাহই তোমাদের প্রকৃত পালনকর্তা। আর সত্য প্রকাশের পরে…

সূরা আয়াত 32/109 — সূরা ইউনুস يونس (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা ইউনুস শুনুন, সূরা ইউনুস অনুবাদ, সূরা ইউনুস mp3, সূরা ইউনুস pdf. আয়াত 30–34. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না