হুদ · 29/123
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা হুদ
وَيَا قَوْمِ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مَالًا ۖ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى اللَّهِ ۚ وَمَا أَنَا بِطَارِدِ الَّذِينَ آمَنُوا ۚ إِنَّهُم مُّلَاقُو رَبِّهِمْ وَلَٰكِنِّي أَرَاكُمْ قَوْمًا تَجْهَلُونَ ۝٢٩
Wa yaa qawmi laaa as`alukum `alaihi maalan in ajriya illaa `alal laah; wa maaa ana bitaaridil lazeena aamanoo; innahum mulaaqoo Rabbihim wa laakinneee araakum qawman tajhaloon
📖 বাংলা অর্থ
আর হে আমার জাতি! আমি তো এজন্য তোমাদের কাছে কোন অর্থ চাই না; আমার পারিশ্রমিক তো আল্লাহর জিম্মায় রয়েছে। আমি কিন্তু ঈমানদারদের তাড়িয়ে দিতে পারি না। তারা অবশ্যই তাদের পালনকর্তার সাক্ষাত লাভ করবে। বরঞ্চ তোমাদেরই আমি অজ্ঞ সম্প্রদায় দেখছি।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • مُلَاقُو رَبِّهِمْ — তাদের রবের সাথে সাক্ষাতকারী, অর্থাৎ তারা কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে।
  • تَجْهَلُونَ — তোমরা অজ্ঞতা প্রদর্শন করছ, অর্থাৎ প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করতে পারছ না।

তাফসীর:

হে আমার সম্প্রদায়! নূহ (আঃ) তাঁর সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে বললেন, আমি তোমাদের কাছে এই দাওয়াত ও নসীহতের বিনিময়ে কোনো পার্থিব সম্পদ বা ধন-সম্পদ চাই না। আমি তোমাদের ঈমান আনার জন্য কোনো অর্থের বিনিময় দাবি করি না। আমার প্রতিদান তো একমাত্র আল্লাহর কাছে। তিনি আমাকে যে সওয়াব দেবেন তাই আমার জন্য যথেষ্ট।

তোমরা আমাকে যে পরামর্শ দিচ্ছ যে, তোমাদের মধ্যে যারা দরিদ্র ও সাধারণ শ্রেণীর মুমিন, তাদেরকে আমি আমার মজলিস থেকে তাড়িয়ে দিই, তা আমি কখনো করব না। কারণ তারা আমার নিকট সম্মানিত, আল্লাহর প্রতি তাদের ঈমানই তাদের মর্যাদার কারণ। তারা তাদের রবের সাথে সাক্ষাৎকারী — কিয়ামতের দিন তারা আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে এবং তাদের ঈমানের প্রতিদান পাবে। আর যারা তাদেরকে তাড়িয়ে দিতে আদেশ করে, তাদেরকে আল্লাহ জবাবদিহির সম্মুখীন করবেন।

কিন্তু আমি দেখছি, তোমরা এমন এক সম্প্রদায় যারা প্রকৃত সত্য বুঝতে অক্ষম। তোমরা জান না যে, আল্লাহর দৃষ্টিতে মুমিনদের মর্যাদা কত উচ্চ। তোমাদের এই অজ্ঞতার কারণেই তোমরা আল্লাহর প্রিয় বান্দাদেরকে অপমানিত করতে চাচ্ছ এবং আমার নবুওয়াতের দাবিকে ভুল পথে পরিচালিত করতে চাচ্ছ।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. দাওয়াত ও দ্বীনের কাজে কোনো পার্থিব লাভের আশা করা উচিত নয়। নবীগণও কোনো বিনিময় চাননি, আমাদেরও উচিত খাঁটি নিয়তে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করা।
  2. দরিদ্র ও সাধারণ মানুষকে কখনো হেয় দৃষ্টিতে দেখা যাবে না। ঈমানই মানুষের প্রকৃত মর্যাদার মানদণ্ড, সম্পদ বা সামাজিক অবস্থান নয়।
  3. মুমিনদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন করা ইসলামের শিক্ষা। তাদেরকে তাড়িয়ে দেওয়া বা অপমান করা ঘোর অজ্ঞতা ও অন্যায়।
  4. প্রতিটি মানুষের কাজের হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে। তাই অন্যায় আদেশ কারো মানা উচিত নয়, এমনকি তা নেতা বা সমাজের বড়দের পক্ষ থেকে হলেও।
  5. অজ্ঞতা মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করে। জ্ঞান অর্জন ও সত্য উপলব্ধির চেষ্টা করা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য।


📜 আয়াত 27-31 — সূরা হুদ

27فَقَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن قَوْمِهِ مَا نَرَاكَ إِلَّا بَشَرًا مِّثْلَنَا وَمَا نَرَاكَ اتَّبَعَكَ إِلَّا الَّذِينَ هُمْ أَرَاذِلُنَا بَادِيَ الرَّأْيِ وَمَا نَرَىٰ لَكُمْ عَلَيْنَا مِن فَضْلٍ بَلْ نَظُنُّكُمْ كَاذِبِينَ
তখন তাঁর কওমের কাফের প্রধানরা বলল আমরা তো আপনাকে আমাদের মত একজন মানুষ ব্যতীত আর কিছু মনে করি না; আর আমাদের মধ্যে যারা ইতর ও স্থুল-বুদ্ধিসম্পন্ন তারা ব্যতীত কাউকে তো আপনার আনুগত্য করতে দেখি না এবং আমাদের উপর আপনাদের কেন প্রাধান্য দেখি না, বরং আপনারা সবাই মিথ্যাবাদী বলে আমারা মনে করি।
28قَالَ يَا قَوْمِ أَرَأَيْتُمْ إِن كُنتُ عَلَىٰ بَيِّنَةٍ مِّن رَّبِّي وَآتَانِي رَحْمَةً مِّنْ عِندِهِ فَعُمِّيَتْ عَلَيْكُمْ أَنُلْزِمُكُمُوهَا وَأَنتُمْ لَهَا كَارِهُونَ
নূহ (আঃ) বললেন-হে আমার জাতি! দেখ তো আমি যদি আমার পালনকর্তার পক্ষ হতে স্পষ্ট দলীলের উপর থাক, আর তিনি যদি তাঁর পক্ষ হতে আমাকে রহমত দান করে থাকেন, তারপরেও তা তোমাদের চোখে না পড়ে, তাহলে আমি কি উহা তোমাদের উপর তোমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই চাপিয়ে দিতে পারি ?
29وَيَا قَوْمِ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مَالًا ۖ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى اللَّهِ ۚ وَمَا أَنَا بِطَارِدِ الَّذِينَ آمَنُوا ۚ إِنَّهُم مُّلَاقُو رَبِّهِمْ وَلَٰكِنِّي أَرَاكُمْ قَوْمًا تَجْهَلُونَ
আর হে আমার জাতি! আমি তো এজন্য তোমাদের কাছে কোন অর্থ চাই না; আমার পারিশ্রমিক তো আল্লাহর জিম্মায় রয়েছে। আমি কিন্তু ঈমানদারদের তাড়িয়ে দিতে পারি না। তারা অবশ্যই তাদের পালনকর্তার সাক্ষাত লাভ করবে। বরঞ্চ তোমাদেরই আমি অজ্ঞ সম্প্রদায় দেখছি।
30وَيَا قَوْمِ مَن يَنصُرُنِي مِنَ اللَّهِ إِن طَرَدتُّهُمْ ۚ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ
আর হে আমার জাতি! আমি যদি তাদের তাড়িয়ে দেই তাহলে আমাকে আল্লাহ হতে রেহাই দেবে কে? তোমরা কি চিন্তা করে দেখ না?
31وَلَا أَقُولُ لَكُمْ عِندِي خَزَائِنُ اللَّهِ وَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلَا أَقُولُ إِنِّي مَلَكٌ وَلَا أَقُولُ لِلَّذِينَ تَزْدَرِي أَعْيُنُكُمْ لَن يُؤْتِيَهُمُ اللَّهُ خَيْرًا ۖ اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا فِي أَنفُسِهِمْ ۖ إِنِّي إِذًا لَّمِنَ الظَّالِمِينَ
আর আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে এবং একথাও বলি না যে, আমি গায়বী খবরও জানি; একথাও বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা; আর তোমাদের দৃষ্টিতে যারা লাঞ্ছিত আল্লাহ তাদের কোন কল্যাণ দান করবেন না। তাদের মনের কথা আল্লাহ ভাল করেই জানেন। সুতরাং এমন কথা বললে আমি অন্যায় কারী হব।
হুদকুরআন সূচী
123আয়াত
মাক্কীRevelation
29আয়াত

অনুবাদ — হুদ 29

সূরা হুদ আয়াত 29 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আর হে আমার জাতি! আমি তো এজন্য তোমাদের কাছে কোন…

সূরা আয়াত 29/123 — সূরা হুদ هود (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা হুদ শুনুন, সূরা হুদ অনুবাদ, সূরা হুদ mp3, সূরা হুদ pdf. আয়াত 27–31. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, September 8, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না