Rabbi qad aataitanee minal mulki wa `allamtanee min taaweelil ahaadees; faati ras samaawaati wal ardi Anta waliyyee fid dunyaa wal Aakhirati tawaffanee muslimanw wa alhiqnee bissaaliheen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
হে পালনকর্তা আপনি আমাকে রাষ্ট্রক্ষমতাও দান করেছেন এবং আমাকে বিভিন্ন তাৎপর্য সহ ব্যাখ্যা করার বিদ্যা শিখিয়ে দিয়েছেন। হে নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলের স্রষ্টা, আপনিই আমার কার্যনির্বাহী ইহকাল ও পরকালে। আমাকে ইসলামের উপর মৃত্যুদান করুন এবং আমাকে স্বজনদের সাথে মিলিত করুন।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(उसके बाद यूसुफ ने दुआ की ऐ परवरदिगार तूने मुझे मुल्क भी अता फरमाया और मुझे ख्वाब की बातों की ताबीर भी सिखाई ऐ आसमान और ज़मीन के पैदा करने वाले तू ही मेरा मालिक सरपरस्त है दुनिया में भी और आख़िरत में भी तू मुझे (दुनिया से) मुसलमान उठाये और मुझे नेको कारों में शामिल फरमा
হে পালনকর্তা আপনি আমাকে রাষ্ট্রক্ষমতাও দান করেছেন এবং আমাকে বিভিন্ন তাৎপর্য সহ ব্যাখ্যা করার বিদ্যা শিখিয়ে দিয়েছেন। হে নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলের স্রষ্টা, আপনিই আমার কার্যনির্বাহী ইহকাল ও পরকালে। আমাকে ইসলামের উপর মৃত্যুদান করুন এবং আমাকে স্বজনদের সাথে মিলিত করুন।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
مِنَ الْمُلْكِ – রাজত্বের কিছু অংশ (অর্থাৎ মিশরের রাজত্ব)।
تَأْوِيلِ الْأَحَادِيثِ – স্বপ্নের ব্যাখ্যা ও ঘটনাবলীর তাৎপর্য উদ্ঘাটন।
فَاطِرَ – সৃষ্টিকর্তা, যিনি অস্তিত্বহীন থেকে সৃষ্টি করেছেন।
وَلِيِّي – আমার অভিভাবক, আমার যাবতীয় বিষয়ের দায়িত্বশীল।
تَوَفَّنِي – আমাকে মৃত্যু দান করুন, আমার প্রাণ হরণ করুন।
مُسْلِمًا – আপনার অনুগত ও আত্মসমর্পণকারী অবস্থায়।
أَلْحِقْنِي – আমাকে অন্তর্ভুক্ত করুন, মিলিত করুন।
তাফসীর:
হযরত ইউসুফ (আঃ) যখন আল্লাহ তাআলার অশেষ অনুগ্রহে মিশরের রাজত্ব লাভ করলেন এবং স্বপ্ন ব্যাখ্যার জ্ঞানসহ বহু বিদ্যায় সম্মানিত হলেন, তখন তিনি দুনিয়ার এই ক্ষণস্থায়ী নেয়ামতে মগ্ন হয়ে পড়েননি। বরং তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, দুনিয়ার রাজত্ব ও সম্পদ চিরস্থায়ী নয়। তাই তিনি তাঁর রবের কাছে দোয়া করে বললেন: “হে আমার রব! আপনি আমাকে রাজত্বের একটি অংশ দান করেছেন এবং স্বপ্নের ব্যাখ্যা ও অন্যান্য জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন। হে আসমান ও জমিনের সৃষ্টিকর্তা! আপনিই আমার অভিভাবক, আমার সমস্ত বিষয়ের দায়িত্ব আপনার হাতে—দুনিয়াতেও এবং আখিরাতেও। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আপনার অনুগত (মুসলিম) অবস্থায় মৃত্যু দান করুন এবং আমাকে আপনার সৎ বান্দাদের—অর্থাৎ আমার পিতা-পিতামহ ইবরাহীম, ইসহাক ও ইয়াকুব (আঃ)-এর মতো নবী ও পুণ্যবানদের—সাথে মিলিত করুন।”
এই দোয়ার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, দুনিয়ার নেয়ামত তার কাছে আকর্ষণীয় ছিল না; বরং তার কামনা ছিল আখিরাতের সাফল্য এবং আল্লাহর নৈকট্য। তিনি চেয়েছেন যেন তার জীবনের শেষ মুহূর্তটিও হয় ঈমান ও ইসলামের উপর, এবং মৃত্যুর পর যেন তিনি নবী-রাসূলগণের সঙ্গী হতে পারেন।
শিক্ষা ও উপদেশ:
দুনিয়ার যত বড় নেয়ামতই মিলুক না কেন, একজন মুমিনের উচিত দুনিয়ায় মগ্ন না হয়ে আখিরাতের কথা স্মরণ রাখা। হযরত ইউসুফ (আঃ) রাজত্ব পেয়েও দুনিয়ার মোহে পড়েননি, বরং আল্লাহর কাছে হুসনে খাতিমা (সুন্দর পরিণতি) প্রার্থনা করেছেন।
একজন প্রকৃত মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা হওয়া উচিত—ঈমানের সাথে মৃত্যু লাভ করা এবং আল্লাহর সৎ বান্দাদের সাথে মিলিত হওয়া। এই দোয়াটি আমাদের শেখায় কীভাবে আল্লাহর কাছে উত্তম পরিণতি চাইতে হয়।
আল্লাহর কাছে দোয়া করার সময় তাঁর গুণাবলি উল্লেখ করা—যেমন “আসমান-জমিনের সৃষ্টিকর্তা”, “আমার অভিভাবক”—দোয়া কবুলের একটি উত্তম পদ্ধতি। এটি আমাদের শেখায় আল্লাহর পরিচয় ও গুণাবলির মাধ্যমে দোয়া করতে।
নবী-রাসূলগণ ও সৎকর্মশীলদের সাথে আখিরাতে মিলিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করা মুমিনের জন্য একটি মহৎ লক্ষ্য। এটি আমাদেরকে সৎকর্মশীলদের পথ অনুসরণ করতে এবং তাদের সাথে থাকার যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করতে উৎসাহিত করে।
এই দোয়া আমাদের শেখায় যে, জ্ঞান ও ক্ষমতা অর্জনের পরও বিনয়ী থাকা এবং আল্লাহর কাছে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করা—এটাই একজন বান্দার প্রকৃত অবস্থান। যত বড় মর্যাদাই পাওয়া যাক, আল্লাহর কাছে নিজেকে ছোট মনে করা এবং তাঁরই উপর ভরসা রাখা উচিত।
এবং তিনি পিতা-মাতাকে সিংহাসনের উপর বসালেন এবং তারা সবাই তাঁর সামনে সেজদাবনত হল। তিনি বললেনঃ পিতা এ হচ্ছে আমার ইতিপূর্বেকার স্বপ্নের বর্ণনা আমার পালনকর্তা একে সত্যে পরিণত করেছেন এবং তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। আমাকে জেল থেকে বের করেছেন এবং আপনাদেরকে গ্রাম থেকে নিয়ে এসেছেন, শয়তান আমার ও আমার ভাইদের মধ্যে কলহ সৃষ্টি করে দেয়ার পর। আমার পালনকর্তা যা চান, কৌশলে সম্পন্ন করেন। নিশ্চয় তিনি বিজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
হে পালনকর্তা আপনি আমাকে রাষ্ট্রক্ষমতাও দান করেছেন এবং আমাকে বিভিন্ন তাৎপর্য সহ ব্যাখ্যা করার বিদ্যা শিখিয়ে দিয়েছেন। হে নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলের স্রষ্টা, আপনিই আমার কার্যনির্বাহী ইহকাল ও পরকালে। আমাকে ইসলামের উপর মৃত্যুদান করুন এবং আমাকে স্বজনদের সাথে মিলিত করুন।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।