আল-ইসরা · 102/111
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-ইসরা
قَالَ لَقَدْ عَلِمْتَ مَا أَنزَلَ هَٰؤُلَاءِ إِلَّا رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ بَصَائِرَ وَإِنِّي لَأَظُنُّكَ يَا فِرْعَوْنُ مَثْبُورًا ۝١٠٢
Qaala laqad `alimta maaa anzala haaa`ulaaa`i illaa Rabbus samaawaati wal ardi basaaa`ira wa innee la azun nuka yaa Fir`awnu masbooraa
📖 বাংলা অর্থ
তিনি বললেনঃ তুমি জান যে, আসমান ও যমীনের পালনকর্তাই এসব নিদর্শনাবলী প্রত্যক্ষ প্রমাণস্বরূপ নাযিল করেছেন। হে ফেরাউন, আমার ধারণায় তুমি ধ্বংস হতে চলেছো।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • بَصَائِرَ (বাসায়ের) — অর্থ: প্রমাণসমূহ, অন্তর্দৃষ্টি প্রদানকারী নিদর্শন, যা সত্যকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।
  • مَثْبُورًا (মাছবুরান) — অর্থ: ধ্বংসপ্রাপ্ত, অভিশপ্ত, বিনাশপ্রাপ্ত।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

মূসা (আঃ) ফিরআউনের উদ্দেশ্যে বললেন, “হে ফিরআউন! তুমি তো নিজেই জানো যে, এই নয়টি মু‘জিযা (আশ্চর্যজনক নিদর্শন) কেউ নাজিল করেনি, বরং একমাত্র আসমানসমূহ ও জমিনের রব আল্লাহই এগুলো নাজিল করেছেন।” এই মু‘জিযাগুলো ছিল স্পষ্ট প্রমাণ ও অন্তর্দৃষ্টির আলোকবর্তিকা, যা মানুষের বিবেক-বুদ্ধিকে জাগ্রত করে এবং আল্লাহর একত্ব ও মূসা (আঃ)-এর সত্যবাদিতার সাক্ষ্য দেয়। কিন্তু ফিরআউন তার জ্ঞান ও উপলব্ধি সত্ত্বেও অহংকার ও বিদ্বেষের কারণে সেগুলো অস্বীকার করেছিল। মূসা (আঃ) আরও বললেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, হে ফিরআউন! তুমি অবশ্যই ধ্বংসপ্রাপ্ত, অভিশপ্ত এবং পরাজিত হবে।” অর্থাৎ, তুমি যে পথে চলেছ, তার পরিণতি শুধু ধ্বংসই বটে।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. সত্যের পথে দৃঢ় থাকা এবং অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করা — এটি আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের বৈশিষ্ট্য। মূসা (আঃ) ক্ষমতাধর ফিরআউনের সামনে নির্ভীকভাবে সত্য ঘোষণা করেছেন, যা আমাদের জন্য সাহস ও দৃঢ়তার শিক্ষা।
  2. জ্ঞান ও সত্য উপলব্ধি করার পরও যদি কেউ তা অস্বীকার করে, তবে তার পরিণতি ধ্বংস। আল্লাহর নিদর্শনসমূহ মানুষের হিদায়াতের জন্য, কিন্তু যারা অহংকার করে, তারা নিজেরাই নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনে।
  3. আল্লাহর মু‘জিযা ও নিদর্শনসমূহ কেবল প্রমাণের জন্যই নয়, বরং মানুষের অন্তর্দৃষ্টি জাগ্রত করার জন্য। আমাদের উচিত প্রতিটি নিদর্শনে আল্লাহর ক্ষমতা ও একত্ব উপলব্ধি করা।
  4. অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো — যদিও মনে হয় প্রতিপক্ষ শক্তিশালী, তবুও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখলে বিজয় নিশ্চিত। কারণ, আল্লাহই আসমান-জমিনের রব এবং তিনিই সবকিছুর নিয়ন্ত্রক।


📜 আয়াত 100-104 — আল-ইসরা

100قُل لَّوْ أَنتُمْ تَمْلِكُونَ خَزَائِنَ رَحْمَةِ رَبِّي إِذًا لَّأَمْسَكْتُمْ خَشْيَةَ الْإِنفَاقِ ۚ وَكَانَ الْإِنسَانُ قَتُورًا
বলুনঃ যদি আমার পালনকর্তার রহমতের ভান্ডার তোমাদের হাতে থাকত, তবে ব্যয়িত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অবশ্যই তা ধরে রাখতে। মানুষ তো অতিশয় কৃপণ।
101وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَىٰ تِسْعَ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ ۖ فَاسْأَلْ بَنِي إِسْرَائِيلَ إِذْ جَاءَهُمْ فَقَالَ لَهُ فِرْعَوْنُ إِنِّي لَأَظُنُّكَ يَا مُوسَىٰ مَسْحُورًا
আপনি বণী-ইসরাঈলকে জিজ্ঞেস করুন, আমি মূসাকে নয়টি প্রকাশ্য নিদর্শন দান করেছি। যখন তিনি তাদের কাছে আগমন করেন, ফেরাউন তাকে বললঃ হে মূসা, আমার ধারনায় তুমি তো জাদুগ্রস্থ।
102قَالَ لَقَدْ عَلِمْتَ مَا أَنزَلَ هَٰؤُلَاءِ إِلَّا رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ بَصَائِرَ وَإِنِّي لَأَظُنُّكَ يَا فِرْعَوْنُ مَثْبُورًا
তিনি বললেনঃ তুমি জান যে, আসমান ও যমীনের পালনকর্তাই এসব নিদর্শনাবলী প্রত্যক্ষ প্রমাণস্বরূপ নাযিল করেছেন। হে ফেরাউন, আমার ধারণায় তুমি ধ্বংস হতে চলেছো।
103فَأَرَادَ أَن يَسْتَفِزَّهُم مِّنَ الْأَرْضِ فَأَغْرَقْنَاهُ وَمَن مَّعَهُ جَمِيعًا
অতঃপর সে বনী ইসরাঈলকে দেশ থেকে উৎখাত করতে চাইল, তখন আমি তাকে ও তার সঙ্গীদের সবাইকে নিমজ্জত করে দিলাম।
104وَقُلْنَا مِن بَعْدِهِ لِبَنِي إِسْرَائِيلَ اسْكُنُوا الْأَرْضَ فَإِذَا جَاءَ وَعْدُ الْآخِرَةِ جِئْنَا بِكُمْ لَفِيفًا
তারপর আমি বনী ইসলাঈলকে বললামঃ এ দেশে তোমরা বসবাস কর। অতঃপর যখন পরকালের ওয়াদা বাস্তবায়িত হবে, তখন তোমাদের কে জড়ো করে নিয়ে উপস্থিত হব।
আল-ইসরাকুরআন সূচী
111আয়াত
মাক্কীRevelation
102আয়াত

অনুবাদ — আল-ইসরা 102

সূরা আল-ইসরা আয়াত 102 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তিনি বললেনঃ তুমি জান যে, আসমান ও যমীনের পালনকর্তাই এসব…

সূরা আয়াত 102/111 — আল-ইসরা الإسراء (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-ইসরা শুনুন, আল-ইসরা অনুবাদ, আল-ইসরা mp3, আল-ইসরা pdf. আয়াত 100–104. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না