আল-ইসরা · 101/111
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-ইসরা
وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَىٰ تِسْعَ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ ۖ فَاسْأَلْ بَنِي إِسْرَائِيلَ إِذْ جَاءَهُمْ فَقَالَ لَهُ فِرْعَوْنُ إِنِّي لَأَظُنُّكَ يَا مُوسَىٰ مَسْحُورًا ۝١٠١
Wa laqad aatainaa Moosaa tis`a Aayaatim baiyinaatin fas`al Baneee Israaa`eela iz jaaa`ahum faqaala lahoo Fir`awnu inee la azunnuka yaa Moosaa mas hooraa
📖 বাংলা অর্থ
আপনি বণী-ইসরাঈলকে জিজ্ঞেস করুন, আমি মূসাকে নয়টি প্রকাশ্য নিদর্শন দান করেছি। যখন তিনি তাদের কাছে আগমন করেন, ফেরাউন তাকে বললঃ হে মূসা, আমার ধারনায় তুমি তো জাদুগ্রস্থ।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • আয়াত (আয়াতসমূহ): এখানে অর্থ নিদর্শন, মু'জিযা বা প্রমাণ।
  • বাইয়্যিনাত (বাইয়্যিনাত): স্পষ্ট, সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য।
  • মাসহুরান (মাসহুরান): যাদুগ্রস্ত, যার জ্ঞান-বুদ্ধি নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি মূসা (আঃ)-কে নয়টি সুস্পষ্ট নিদর্শন বা মু'জিযা দান করেছিলাম, যা তার সত্যতা ও নবুওয়াতের সাক্ষ্য বহন করে। এই নয়টি মু'জিযা হলো: (১) লাঠি (যা সাপে পরিণত হতো), (২) উজ্জ্বল শুভ্র হাত, (৩) দুর্ভিক্ষ ও খরার বছরসমূহ, (৪) ফলের ঘাটতি, (৫) তুফান বা বন্যা, (৬) পঙ্গপাল, (৭) উকুন, (৮) ব্যাঙ এবং (৯) রক্ত (যা পানিতে রক্তে পরিণত হয়ে যেত)। এই সমস্ত নিদর্শন ছিল সম্পূর্ণ স্পষ্ট ও প্রকাশ্য, যাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ ছিল না।

এরপর আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে উদ্দেশ্য করে বলেন, হে নবী! আপনি বনী ইসরাঈলকে জিজ্ঞেস করুন—যখন মূসা (আঃ) তাদের কাছে এই স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে এসেছিলেন, তখন ফিরআউন তাকে কী বলেছিল? ফিরআউন মূসা (আঃ)-কে বলেছিল, "হে মূসা! আমি তো মনে করি তুমি যাদুগ্রস্ত।" অর্থাৎ ফিরআউন তার জেদ, অহংকার ও সত্যকে অস্বীকার করার কারণে এই স্পষ্ট মু'জিযাগুলোকেও যাদু বলে আখ্যা দিয়েছিল এবং মূসা (আঃ)-কে যাদুগ্রস্ত ব্যক্তি বলে অপবাদ দিয়েছিল। অথচ এই নিদর্শনগুলো ছিল এতটাই স্পষ্ট ও প্রমাণপূর্ণ যে, কোনো সুস্থ বিবেকই তা অস্বীকার করতে পারত না। কিন্তু ফিরআউনের কুফরি ও হঠকারিতার কারণে সে সত্যকে মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীদেরকে সত্য প্রমাণের জন্য অসংখ্য মু'জিযা দান করেছেন, যা মানুষের জন্য রহমত ও হেদায়াতের মাধ্যম।
  2. সত্যের সামনে কোনো বাধাই চিরস্থায়ী নয়; কিন্তু যারা অহংকার ও জেদের বশবর্তী হয়, তারা স্পষ্ট প্রমাণ দেখেও তা অস্বীকার করে।
  3. ফিরআউনের মতো সত্যের বিরোধীরা সর্বদা সত্যকে মিথ্যা প্রমাণের চেষ্টা করে, এমনকি মিথ্যা অপবাদ দিতেও দ্বিধা করে না।
  4. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, সত্যের পথে চলতে গেলে অনেক বাধা-বিপত্তি আসবে, কিন্তু আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে দৃঢ় থাকতে হবে। যেমন মূসা (আঃ) ফিরআউনের অপবাদ সত্ত্বেও তার দাওয়াত চালিয়ে গিয়েছিলেন।
  5. ইসলামের দাওয়াতের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী জাতির ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং সত্য প্রতিষ্ঠায় ধৈর্য ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি।


📜 আয়াত 99-103 — সূরা আল-ইসরা

99۞ أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللَّهَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ قَادِرٌ عَلَىٰ أَن يَخْلُقَ مِثْلَهُمْ وَجَعَلَ لَهُمْ أَجَلًا لَّا رَيْبَ فِيهِ فَأَبَى الظَّالِمُونَ إِلَّا كُفُورًا
তারা কি দেখেনি যে, যে আল্লাহ আসমান ও যমিন সৃজিত করেছেন, তিনি তাদের মত মানুষও পুনরায় সৃষ্টি করতে সক্ষম? তিনি তাদের জন্যে স্থির করেছেন একটি নির্দিষ্ট কাল, এতে কোন সন্দেহ নেই; অতঃপর জালেমরা অস্বীকার ছাড়া কিছু করেনি।
100قُل لَّوْ أَنتُمْ تَمْلِكُونَ خَزَائِنَ رَحْمَةِ رَبِّي إِذًا لَّأَمْسَكْتُمْ خَشْيَةَ الْإِنفَاقِ ۚ وَكَانَ الْإِنسَانُ قَتُورًا
বলুনঃ যদি আমার পালনকর্তার রহমতের ভান্ডার তোমাদের হাতে থাকত, তবে ব্যয়িত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অবশ্যই তা ধরে রাখতে। মানুষ তো অতিশয় কৃপণ।
101وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَىٰ تِسْعَ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ ۖ فَاسْأَلْ بَنِي إِسْرَائِيلَ إِذْ جَاءَهُمْ فَقَالَ لَهُ فِرْعَوْنُ إِنِّي لَأَظُنُّكَ يَا مُوسَىٰ مَسْحُورًا
আপনি বণী-ইসরাঈলকে জিজ্ঞেস করুন, আমি মূসাকে নয়টি প্রকাশ্য নিদর্শন দান করেছি। যখন তিনি তাদের কাছে আগমন করেন, ফেরাউন তাকে বললঃ হে মূসা, আমার ধারনায় তুমি তো জাদুগ্রস্থ।
102قَالَ لَقَدْ عَلِمْتَ مَا أَنزَلَ هَٰؤُلَاءِ إِلَّا رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ بَصَائِرَ وَإِنِّي لَأَظُنُّكَ يَا فِرْعَوْنُ مَثْبُورًا
তিনি বললেনঃ তুমি জান যে, আসমান ও যমীনের পালনকর্তাই এসব নিদর্শনাবলী প্রত্যক্ষ প্রমাণস্বরূপ নাযিল করেছেন। হে ফেরাউন, আমার ধারণায় তুমি ধ্বংস হতে চলেছো।
103فَأَرَادَ أَن يَسْتَفِزَّهُم مِّنَ الْأَرْضِ فَأَغْرَقْنَاهُ وَمَن مَّعَهُ جَمِيعًا
অতঃপর সে বনী ইসরাঈলকে দেশ থেকে উৎখাত করতে চাইল, তখন আমি তাকে ও তার সঙ্গীদের সবাইকে নিমজ্জত করে দিলাম।
আল-ইসরাকুরআন সূচী
111আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
101আয়াত

অনুবাদ — আল-ইসরা 101

সূরা আল-ইসরা আয়াত 101 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আপনি বণী-ইসরাঈলকে জিজ্ঞেস করুন, আমি মূসাকে নয়টি প্রকাশ্য নিদর্শন দান…

সূরা আয়াত 101/111 — সূরা আল-ইসরা الإسراء (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-ইসরা শুনুন, সূরা আল-ইসরা অনুবাদ, সূরা আল-ইসরা mp3, সূরা আল-ইসরা pdf. আয়াত 99–103. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না