يَسْتَفِزَّهُم — তাদেরকে উৎখাত করা, উত্ত্যক্ত করা বা বের করে দেওয়া।
مِنَ الْأَرْضِ — এখানে ‘আরদ’ বলতে মিসর দেশকে বোঝানো হয়েছে।
فَأَغْرَقْنَاهُ — অতঃপর আমি তাকে (ফিরআউনকে) নিমজ্জিত করলাম।
তাফসীর:
ফিরআউন যখন মু‘জিযার পর মু‘জিযা দেখল, তবুও সে ঈমান আনল না, বরং তার ঔদ্ধত্য ও অহংকার আরও বেড়ে গেল। সে সংকল্প করল যে, মূসা (আঃ) ও বনী ইসরাঈলকে মিসর থেকে বিতাড়িত করবে এবং তাদেরকে শাস্তি দেবে। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা তার এই দুরভিসন্ধি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত ছিলেন। ফলে আল্লাহ তার ও তার সাঙ্গোপাঙ্গদের সবাইকে সমুদ্রে নিমজ্জিত করে ধ্বংস করে দিলেন। এতে কারো কোনো রেহাই ছিল না—ফিরআউন, তার সেনাবাহিনী কিংবা তার অনুসারী কেউই রক্ষা পায়নি। এটি ছিল তাদের কুফরি ও জুলুমের প্রতিদান, আর মূসা (আঃ) ও তার সম্প্রদায়ের জন্য ছিল মহান বিজয় ও মুক্তি।
শিক্ষা ও উপদেশ:
আল্লাহ তা‘আলা অত্যাচারী শাসকদের দম্ভ ও অন্যায়ের প্রতিশোধ গ্রহণ করেন, যদিও তারা ক্ষণিকের জন্য ক্ষমতায় থাকে।
নবী-রাসূলগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের পরিণাম চিরকালের জন্য ধ্বংস—ইহকালে ও পরকালে।
আল্লাহর সাহায্য সত্যের অনুসারীদের জন্য অবশ্যম্ভাবী, যদিও শত্রু শক্তিশালী ও সংখ্যায় বেশি হয়।
এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া যায় যে, কেউ আল্লাহর নবী ও তার অনুসারীদের ক্ষতি করতে চাইলে আল্লাহ নিজেই তার বিপক্ষে দাঁড়িয়ে যান এবং তাকে অপদস্থ করেন।
সমুদ্রে ফিরআউনের ধ্বংস একটি চিরন্তন নিদর্শন—যা কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য উপদেশ ও সতর্কবার্তা বহন করে।
আপনি বণী-ইসরাঈলকে জিজ্ঞেস করুন, আমি মূসাকে নয়টি প্রকাশ্য নিদর্শন দান করেছি। যখন তিনি তাদের কাছে আগমন করেন, ফেরাউন তাকে বললঃ হে মূসা, আমার ধারনায় তুমি তো জাদুগ্রস্থ।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।