আল-ইসরা · 64/111
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-ইসরা
وَاسْتَفْزِزْ مَنِ اسْتَطَعْتَ مِنْهُم بِصَوْتِكَ وَأَجْلِبْ عَلَيْهِم بِخَيْلِكَ وَرَجِلِكَ وَشَارِكْهُمْ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ وَعِدْهُمْ ۚ وَمَا يَعِدُهُمُ الشَّيْطَانُ إِلَّا غُرُورًا ۝٦٤
Wastafziz manis tat`ta minhum bisawtika wa ajlib `alaihim bikhailika wa rajilika wa shaarik hum fil amwaali wal awlaadi wa `idhum; wa maa ya`iduhumush Shaitaanu illaa ghurooraa
📖 বাংলা অর্থ
তুই সত্যচ্যুত করে তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস স্বীয় আওয়ায দ্বারা, স্বীয় অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে তাদেরকে আক্রমণ কর, তাদের অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে শরীক হয়ে যা এবং তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দে। ছলনা ছাড়া শয়তান তাদেরকে কোন প্রতিশ্রুতি দেয় না।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • اسْتَفْزِزْ – তুমি পদস্খলিত করো, বিভ্রান্ত করো, হালকা করে দাও।
  • أَجْلِبْ – তুমি একত্র করো, সমবেত করো, চিৎকার করে হামলা চালাও।
  • رَجِلِكَ – পদাতিক বাহিনী (পায়ে হাঁটা সৈন্য)।
  • شَارِكْهُمْ – তুমি তাদের সাথে অংশীদার হও, শরিক হও।
  • غُرُورًا – প্রতারণা, ধোঁকা, মিথ্যা আশ্বাস।

তাফসির:

আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে শয়তানকে সম্বোধন করে বলছেন— হে শয়তান! তুমি আদম সন্তানদের মধ্য থেকে যাকে পারো, তাকে তোমার কণ্ঠস্বর দিয়ে বিভ্রান্ত করো। অর্থাৎ তোমার ওয়াসওয়াসা, প্রলোভন ও মন্দ কাজের প্রতি আহ্বানের মাধ্যমে যাকে সম্ভব পদস্খলিত করো। আর তোমার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ো, অর্থাৎ তোমার সব ধরণের কৌশল ও উপায় অবলম্বন করে তাদেরকে পথভ্রষ্ট করার চেষ্টা চালাও। তুমি তাদের সম্পদে অংশীদার হও— যেমন সুদ, ঘুষ, চুরি, ডাকাতি, প্রতারণা ইত্যাদি হারাম উপায়ে উপার্জন ও খরচের মাধ্যমে। আর তাদের সন্তানদের ব্যাপারেও অংশীদার হও— যেমন ব্যভিচারের মাধ্যমে সন্তান উৎপাদন, সন্তানদেরকে শিরক ও কুফরের উপর লালন-পালন, তাদেরকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা (জাহিলি যুগের কন্যা হত্যা প্রথা), অথবা তাদেরকে ইয়াহুদি, খ্রিস্টান, অগ্নিপূজক বানানো। আর তুমি তাদেরকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দাও— যেমন বলো, “কোনো পুনরুত্থান নেই, কোনো হিসাব-নিকাশ নেই, জান্নাত-জাহান্নাম কিছুই নেই।” কিন্তু শয়তান তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয়, তা সম্পূর্ণ প্রতারণা ও ধোঁকা ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ শয়তানের সব ওয়াদা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন, যা বাস্তবে কোনো কাজে আসে না।


শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. শয়তান是人类 প্রকাশ্য শত্রু। তার একমাত্র লক্ষ্য是人类কে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করা। তাই প্রতিটি মুমিনের উচিত শয়তানের কৌশল সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং তার ধোঁকা থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা।
  2. শয়তান মানুষের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিকে ব্যবহার করে তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে। তাই মুমিনের উচিত নিজের সম্পদ ও সন্তানদের ব্যাপারে সতর্ক থাকা— যেন হারাম উপার্জন ও অসৎ পথে সন্তান লালন-পালনের মাধ্যমে শয়তান তাদের উপর কর্তৃত্ব না করে।
  3. শয়তানের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি মিথ্যা ও প্রতারণামূলক। যে ব্যক্তি শয়তানের ওয়াদায় ভরসা করে, সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বরং মুমিনের উচিত আল্লাহর ওয়াদার উপর ভরসা করা, যা সত্য ও অবশ্যম্ভাবী।
  4. এ আয়াত থেকে জানা যায় যে, শয়তানের ক্ষমতা সীমিত— সে শুধু তাদের উপর প্রভাব ফেলতে পারে যারা তার কথা শোনে এবং আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে। যারা আল্লাহর উপর ভরসা করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে, শয়তান তাদের উপর কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারে না।
  5. ইসলাম শুধু ব্যক্তির ইবাদত-বন্দেগীই শেখায় না, বরং অর্থনীতি, পারিবারিক জীবন ও সন্তান-সন্ততির প্রতিপালনসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে পবিত্রতা ও আল্লাহর বিধান মেনে চলার নির্দেশ দেয়, যাতে শয়তানের অনুপ্রবেশের পথ বন্ধ হয়।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 62-66 — আল-ইসরা

62قَالَ أَرَأَيْتَكَ هَٰذَا الَّذِي كَرَّمْتَ عَلَيَّ لَئِنْ أَخَّرْتَنِ إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَأَحْتَنِكَنَّ ذُرِّيَّتَهُ إِلَّا قَلِيلًا
সে বললঃ দেখুন তো, এনা সে ব্যক্তি, যাকে আপনি আমার চাইতেও উচ্চ মার্যাদা দিয়ে দিয়েছেন। যদি আপনি আমাকে কেয়ামত দিবস পর্যন্ত সময় দেন, তবে আমি সামান্য সংখ্যক ছাড়া তার বংশধরদেরকে সমূলে নষ্ট করে দেব।
63قَالَ اذْهَبْ فَمَن تَبِعَكَ مِنْهُمْ فَإِنَّ جَهَنَّمَ جَزَاؤُكُمْ جَزَاءً مَّوْفُورًا
আল্লাহ বলেনঃ চলে যা, অতঃপর তাদের মধ্য থেকে যে তোর অনুগামী হবে, জাহান্নামই হবে তাদের সবার শাস্তি-ভরপুর শাস্তি।
64وَاسْتَفْزِزْ مَنِ اسْتَطَعْتَ مِنْهُم بِصَوْتِكَ وَأَجْلِبْ عَلَيْهِم بِخَيْلِكَ وَرَجِلِكَ وَشَارِكْهُمْ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ وَعِدْهُمْ ۚ وَمَا يَعِدُهُمُ الشَّيْطَانُ إِلَّا غُرُورًا
তুই সত্যচ্যুত করে তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস স্বীয় আওয়ায দ্বারা, স্বীয় অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে তাদেরকে আক্রমণ কর, তাদের অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে শরীক হয়ে যা এবং তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দে। ছলনা ছাড়া শয়তান তাদেরকে কোন প্রতিশ্রুতি দেয় না।
65إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَانٌ ۚ وَكَفَىٰ بِرَبِّكَ وَكِيلًا
আমার বান্দাদের উপর তোর কোন ক্ষমতা নেই আপনার পালনকর্তা যথেষ্ট কার্যনির্বাহী।
66رَّبُّكُمُ الَّذِي يُزْجِي لَكُمُ الْفُلْكَ فِي الْبَحْرِ لِتَبْتَغُوا مِن فَضْلِهِ ۚ إِنَّهُ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا
তোমাদের পালনকর্তা তিনিই, যিনি তোমাদের জন্যে সমুদ্রে জলযান চালনা করেন, যাতে তোমরা তার অনুগ্রহ অন্বেষন করতে পারো। নিঃ সন্দেহে তিনি তোমাদের প্রতি পরম দয়ালূ।
আল-ইসরাকুরআন সূচী
111আয়াত
মাক্কীRevelation
64আয়াত

অনুবাদ — আল-ইসরা 64

সূরা আল-ইসরা আয়াত 64 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তুই সত্যচ্যুত করে তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস স্বীয় আওয়ায…

সূরা আয়াত 64/111 — আল-ইসরা الإسراء (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-ইসরা শুনুন, আল-ইসরা অনুবাদ, আল-ইসরা mp3, আল-ইসরা pdf. আয়াত 62–66. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না