তোমাদের কারো যখন মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়, সে যদি কিছু ধন-সম্পদ ত্যাগ করে যায়, তবে তার জন্য ওসীয়ত করা বিধিবদ্ধ করা হলো, পিতা-মাতা ও নিকটাত্নীয়দের জন্য ইনসাফের সাথে পরহেযগারদের জন্য এ নির্দেশ জরুরী। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা সবকিছু শোনেন ও জানেন।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(मुसलमानों) तुम को हुक्म दिया जाता है कि जब तुम में से किसी के सामने मौत आ खड़ी हो बशर्ते कि वह कुछ माल छोड़ जाएं तो माँ बाप और क़राबतदारों के लिए अच्छी वसीयत करें जो ख़ुदा से डरते हैं उन पर ये एक हक़ है
তোমাদের কারো যখন মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়, সে যদি কিছু ধন-সম্পদ ত্যাগ করে যায়, তবে তার জন্য ওসীয়ত করা বিধিবদ্ধ করা হলো, পিতা-মাতা ও নিকটাত্নীয়দের জন্য ইনসাফের সাথে পরহেযগারদের জন্য এ নির্দেশ জরুরী। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা সবকিছু শোনেন ও জানেন।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
كُتِبَ অর্থ: ফরজ করা হয়েছে, নির্ধারিত করা হয়েছে।
حَضَرَ الْمَوْتُ অর্থ: মৃত্যুর লক্ষণ ও কারণসমূহ উপস্থিত হওয়া।
خَيْرًا অর্থ: সম্পদ, ধন-সম্পদ।
الْوَصِيَّةُ অর্থ: অসিয়ত করা, অর্থাৎ মৃত্যুর পর যেন তার সম্পদ থেকে নির্দিষ্ট অংশ বণ্টন করা হয় এমন নির্দেশ দেওয়া।
بِالْمَعْرُوفِ অর্থ: ন্যায়সংগতভাবে, শরিয়তসম্মত পদ্ধতিতে, যা অতি বাড়াবাড়ি বা ঘাটতিমুক্ত।
حَقًّا অর্থ: এটি একটি অপরিহার্য দায়িত্ব।
الْمُتَّقِينَ অর্থ: যারা আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলে।
তাফসির:
আল্লাহ তাআলা মুমিনদের প্রতি ফরজ করেছেন যে, যখন তোমাদের কারও নিকট মৃত্যুর লক্ষণ ও কারণসমূহ উপস্থিত হবে—যেমন মারাত্মক রোগ বা বার্ধক্যের উপক্রম—এবং সে যদি কিছু সম্পদ রেখে যায়, তবে তার কর্তব্য হলো পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য ন্যায়সংগতভাবে অসিয়ত করা। অর্থাৎ সে যেন তার সম্পদের একটি অংশ তাদের জন্য নির্দিষ্ট করে যায়, তবে তা মোট সম্পদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি হবে না। অসিয়তের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার বজায় রাখতে হবে; যেন কাউকে বাদ দিয়ে অপরকে বেশি না দেওয়া হয়, কিংবা গরিবকে বাদ দিয়ে ধনীকে অগ্রাধিকার না দেওয়া হয়। এটি আল্লাহভীরুদের জন্য একটি অপরিহার্য দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারিত ছিল।
তবে এই বিধান ছিল ইসলামের প্রাথমিক যুগে, যখন উত্তরাধিকার আইন (মিরাস) নাজিল হয়নি। পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলা সূরা আন-নিসায় উত্তরাধিকারের বিস্তারিত বিধান নাজিল করেন, যেখানে প্রত্যেক ওয়ারিসের নির্দিষ্ট অংশ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য অসিয়তের এই বিধান রহিত হয়ে যায়, এবং এখন ওয়ারিসদের জন্য অসিয়ত করা জায়েয নেই, বরং তারা আল্লাহ নির্ধারিত অংশ অনুযায়ী সম্পদ পাবে। তবে যারা ওয়ারিস নয়—যেমন দূর সম্পর্কের আত্মীয় বা এতিম-মিসকিন—তাদের জন্য অসিয়ত করা এখনও উত্তম ও সওয়াবের কাজ।
শিক্ষা ও উপদেশ:
ইসলাম ধন-সম্পদের সঠিক বণ্টনের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে, যেন মৃত্যুর পরও কারও অধিকার ক্ষুণ্ণ না হয়।
পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের প্রতি সদাচরণ এবং তাদের অধিকার রক্ষা করা মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
আল্লাহভীরু মানুষই প্রকৃতপক্ষে শরিয়তের বিধান মেনে চলে এবং পরকালের হিসাবকে ভয় করে।
ইসলামের বিধানগুলো ধাপে ধাপে নাজিল হয়েছে; প্রাথমিক বিধান পরবর্তীতে আরও পরিপূর্ণ ও সুস্পষ্ট বিধান দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছে, যা ইসলামের প্রজ্ঞাপূর্ণ আইন প্রণয়নের পরিচায়ক।
অসিয়তের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ও সংযম বজায় রাখা উচিত; কারও প্রতি জুলুম করা বা কাউকে বঞ্চিত করা বৈধ নয়।
হে ঈমানদারগন! তোমাদের প্রতি নিহতদের ব্যাপারে কেসাস গ্রহণ করা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। স্বাধীন ব্যক্তি স্বাধীন ব্যক্তির বদলায়, দাস দাসের বদলায় এবং নারী নারীর বদলায়। অতঃপর তার ভাইয়ের তরফ থেকে যদি কাউকে কিছুটা মাফ করে দেয়া হয়, তবে প্রচলিত নিয়মের অনুসরণ করবে এবং ভালভাবে তাকে তা প্রদান করতে হবে। এটা তোমাদের পালনকর্তার তরফ থেকে সহজ এবং বিশেষ অনুগ্রহ। এরপরও যে ব্যাক্তি বাড়াবাড়ি করে, তার জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।
তোমাদের কারো যখন মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়, সে যদি কিছু ধন-সম্পদ ত্যাগ করে যায়, তবে তার জন্য ওসীয়ত করা বিধিবদ্ধ করা হলো, পিতা-মাতা ও নিকটাত্নীয়দের জন্য ইনসাফের সাথে পরহেযগারদের জন্য এ নির্দেশ জরুরী। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা সবকিছু শোনেন ও জানেন।
যদি কেউ ওসীয়তকারীর পক্ষ থেকে আশংকা করে পক্ষপাতিত্বের অথবা কোন অপরাধমূলক সিদ্ধান্তের এবং তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়, তবে তার কোন গোনাহ হবে না। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।