الْبَيِّنَاتُ – সুস্পষ্ট প্রমাণসমূহ, অকাট্য দলিলসমূহ (কুরআন ও সুন্নাহ)।
عَزِيزٌ – পরাক্রমশালী, অপরাজেয়, প্রতাপশালী।
حَكِيمٌ – প্রজ্ঞাময়, যিনি প্রতিটি কাজ যথাযথভাবে ও নিখুঁতভাবে করেন।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের কাছে যখন স্পষ্ট প্রমাণ ও অকাট্য দলিল এসে গেছে—যেমন কুরআনের আয়াত, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ এবং অন্যান্য সুস্পষ্ট নিদর্শন—তারপরও যদি তোমরা সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হও, পদস্খলন ঘটাও এবং ইসলামের সরল পথ থেকে সরে যাও, তাহলে জেনে রাখো যে, আল্লাহ তা‘আলা عَزِيزٌ অর্থাৎ তিনি সম্পূর্ণ ক্ষমতার মালিক, তাঁর কর্তৃত্ব থেকে কিছুই বেরিয়ে যেতে পারে না এবং তিনি তার শত্রুদের উপর প্রতিশোধ গ্রহণে সক্ষম। তিনি حَكِيمٌ অর্থাৎ তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়, তাঁর প্রতিটি আদেশ-নিষেধ, প্রতিটি বিধান ও প্রতিটি কাজের মধ্যে গভীর প্রজ্ঞা নিহিত। তিনি কখনো অন্যায়ভাবে কাউকে শাস্তি দেন না, বরং তাঁর শাস্তি সম্পূর্ণ ন্যায়সংগত ও প্রজ্ঞাপূর্ণ। তাই সত্য স্পষ্ট হওয়ার পর বিচ্যুত হওয়া অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ, এবং এর পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য।
শিক্ষা ও উপদেশ:
সত্য স্পষ্ট হওয়ার পর তা মেনে নেওয়া প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব; জেনে-বুঝে সত্য থেকে বিচ্যুত হওয়া মারাত্মক গুনাহ।
আল্লাহর ক্ষমা ও করুণা যেমন বিশাল, তেমনি তাঁর শাস্তিও অত্যন্ত কঠোর। তাই তাঁর অনুগ্রহের উপর ভরসা করে অন্যায়ে লিপ্ত হওয়া উচিত নয়।
আল্লাহর প্রতিটি বিধান ও সিদ্ধান্তের মধ্যে গভীর প্রজ্ঞা রয়েছে; আমরা অনেক সময় বুঝতে না পারলেও তাঁর সিদ্ধান্তই সর্বোত্তম।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, জ্ঞান ও প্রমাণ পাওয়ার পর আমল করা অপরিহার্য; শুধু জানা যথেষ্ট নয়, সেই অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করাই ঈমানের দাবি।
আল্লাহর ভয় ও পরকালের হিসাবের স্মরণ মানুষকে ভুল পথে পা বাড়াতে বাধা দেয় এবং সত্যের উপর অটল থাকতে সাহায্য করে।
তারা কি সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছে যে, মেঘের আড়ালে তাদের সামনে আসবেন আল্লাহ ও ফেরেশতাগণ ? আর তাতেই সব মীমাংসা হয়ে যাবে। বস্তুতঃ সবকার্যকলাপই আল্লাহর নিকট গিয়ে পৌঁছবে।
বনী ইসরাঈলদিগকে জিজ্ঞেস কর, তাদেরকে আমি কত স্পষ্ট নির্দশনাবলী দান করেছি। আর আল্লাহর নেয়ামত পৌছে যাওয়ার পর যদি কেউ সে নেয়ামতকে পরিবর্তিত করে দেয়, তবে আল্লাহর আযাব অতি কঠিন।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।