Fahazamoohum bi iznillaahi wa qatala Daawoodu jaaloota wa aataahul laahulmulka Wal Hikmata wa `allamahoo mimmaa yashaaa`; wa law laa daf`ullaahin naasa ba`dahum biba`dil lafasadatil ardu wa laakinnal laaha zoo fadlin `alal`aalameen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তারপর ঈমানদাররা আল্লাহর হুকুমে জালূতের বাহিনীকে পরাজিত করে দিল এবং দাউদ জালূতকে হত্যা করল। আর আল্লাহ দাউদকে দান করলেন রাজ্য ও অভিজ্ঞতা। আর তাকে যা চাইলেন শিখালেন। আল্লাহ যদি একজনকে অপরজনের দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তাহলে গোটা দুনিয়া বিধ্বস্ত হয়ে যেতো। কিন্তু বিশ্ববাসীর প্রতি আল্লাহ একান্তই দয়ালু, করুণাময়।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
फिर तो उन लोगों ने ख़ुदा के हुक्म से दुशमनों को शिकस्त दी और दाऊद ने जालूत को क़त्ल किया और ख़ुदा ने उनको सल्तनत व तदबीर तम्द्दुन अता की और इल्म व हुनर जो चाहा उन्हें गोया घोल के पिला दिया और अगर ख़ुदा बाज़ लोगों के ज़रिए से बाज़ का दफाए (शर) न करता तो तमाम रुए ज़मीन पर फ़साद फैल जाता मगर ख़ुदा तो सारे जहाँन के लोगों पर फज़ल व रहम करता है
তারপর ঈমানদাররা আল্লাহর হুকুমে জালূতের বাহিনীকে পরাজিত করে দিল এবং দাউদ জালূতকে হত্যা করল। আর আল্লাহ দাউদকে দান করলেন রাজ্য ও অভিজ্ঞতা। আর তাকে যা চাইলেন শিখালেন। আল্লাহ যদি একজনকে অপরজনের দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তাহলে গোটা দুনিয়া বিধ্বস্ত হয়ে যেতো। কিন্তু বিশ্ববাসীর প্রতি আল্লাহ একান্তই দয়ালু, করুণাময়।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
فَهَزَمُوهُم = তারা তাদেরকে পরাজিত করল।
جَالُوتَ = জালুত (গোলিয়াথ) — শত্রু সৈন্যবাহিনীর প্রধান সেনাপতি।
الْمُلْكَ = রাজত্ব/ক্ষমতা।
الْحِكْمَةَ = প্রজ্ঞা, নবুওয়াত ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জ্ঞান।
دَفْعُ = প্রতিরোধ করা, একদল দ্বারা অন্যদলকে বাধা দেওয়া।
তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুমতি ও সাহায্যে মুমিনদের ছোট্ট দলটিকে শত্রু বাহিনীর ওপর বিজয় দান করলেন। সেই যুদ্ধে দাউদ (আঃ) জালুত নামক শত্রু সেনাপতিকে হত্যা করেন। এরপর আল্লাহ তাআলা দাউদ (আঃ)-কে রাজত্ব, নবুওয়াত ও প্রজ্ঞা দান করেন এবং তিনি যা ইচ্ছা করেছিলেন তাকে তা শিক্ষা দেন — যেমন বর্ম নির্মাণের কারিগরি জ্ঞান, যুদ্ধকৌশল, প্রভৃতি। ফলে দাউদ (আঃ) নিজের হাতের কাজ খেয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ উভয়ই তার মধ্যে একত্রিত হয়েছিল।
এরপর আল্লাহ তাআলা একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়মের কথা জানিয়ে দেন: যদি আল্লাহ মানুষের মধ্যে কাউকে দিয়ে অন্যদেরকে প্রতিরোধ না করতেন — অর্থাৎ মুমিন ও সৎকর্মপরায়ণদের মাধ্যমে পাপী ও সীমালঙ্ঘনকারীদের বাধা না দিতেন — তবে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেত, ফাসাদ ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ত, আর দুর্বল মুমিনরা নিপীড়িত হতো। কিন্তু আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা চালু রেখেছেন, যাতে পৃথিবীতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং সত্যের পথে চলা মানুষেরা টিকে থাকতে পারে। আল্লাহ সমগ্র সৃষ্টিজগতের প্রতি অশেষ অনুগ্রহশীল।
শিক্ষা ও উপদেশ:
বিজয় ও সাফল্য সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছা ও সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল — সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা শক্তি নয়, বরং আল্লাহর ওপর ভরসাই আসল শক্তি।
আল্লাহ যাকে চান তাকে রাজত্ব, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেন; তাই ক্ষমতা ও জ্ঞান অর্জনের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা এবং তাঁর দেওয়া নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত।
নিজের হালাল উপার্জন ও পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা অত্যন্ত সম্মানজনক — দাউদ (আঃ) নিজের হাতে কাজ করে খেতেন, এটি আমাদের জন্য উত্তম শিক্ষা।
আল্লাহর এই নিয়ম যে তিনি একদল মানুষকে দিয়ে অন্যদের ফাসাদ প্রতিরোধ করেন, তা আমাদের শেখায় যে সমাজে সৎ ও মুমিনদের উপস্থিতি অপরিহার্য; তাদের দোয়া ও সংগ্রামের কারণেই সমাজে শান্তি বজায় থাকে।
পৃথিবীতে ফাসাদ ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে মুমিনদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত পছন্দনীয় কাজ — এটি আমাদেরকে সমাজের কল্যাণে কাজ করার প্রেরণা দেয়।
অতঃপর তালূত যখন সৈন্য-সামন্ত নিয়ে বেরুল, তখন বলল, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদিগকে পরীক্ষা করবেন একটি নদীর মাধ্যমে। সুতরাং যে লোক সেই নদীর পানি পান করবে সে আমার নয়। আর যে, লোক তার স্বাদ গ্রহণ করলো না, নিশ্চয়ই সে আমার লোক। কিন্তু যে লোক হাতের আঁজলা ভরে সামান্য খেয়ে নেবে তার দোষঅবশ্য তেমন গুরুতর হবে না। অতঃপর সবাই পান করল সে পানি, সামান্য কয়েকজন ছাড়া। পরে তালূত যখন তা পার হলো এবং তার সাথে ছিল মাত্র কয়েকজন ঈমানদার, তখন তারা বলতে লাগল, আজকের দিনে জালূত এবং তার সেনাবাহিনীর সাথে যুদ্ধ করার শক্তি আমাদের নেই, যাদের ধারণা ছিল যে, আল্লাহর সামনে তাদের একদিন উপস্থিত হতে হবে, তারা বার বার বলতে লাগল, সামান্য দলই বিরাট দলের মোকাবেলায় জয়ী হয়েছে আল্লাহর হুকুমে। আর যারা ধৈর্য্যশীল আল্লাহ তাদের সাথে রয়েছেন।
আর যখন তালূত ও তার সেনাবাহিনী শত্রুর সম্মুখীন হল, তখন বলল, হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের মনে ধৈর্য্য সৃষ্টি করে দাও এবং আমাদেরকে দৃঢ়পদ রাখ-আর আমাদের সাহায্য কর সে কাফের জাতির বিরুদ্ধে।
তারপর ঈমানদাররা আল্লাহর হুকুমে জালূতের বাহিনীকে পরাজিত করে দিল এবং দাউদ জালূতকে হত্যা করল। আর আল্লাহ দাউদকে দান করলেন রাজ্য ও অভিজ্ঞতা। আর তাকে যা চাইলেন শিখালেন। আল্লাহ যদি একজনকে অপরজনের দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তাহলে গোটা দুনিয়া বিধ্বস্ত হয়ে যেতো। কিন্তু বিশ্ববাসীর প্রতি আল্লাহ একান্তই দয়ালু, করুণাময়।
এই রসূলগণ-আমি তাদের কাউকে কারো উপর মর্যাদা দিয়েছি। তাদের মধ্যে কেউ তো হলো তারা যার সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন, আর কারও মর্যাদা উচ্চতর করেছেন এবং আমি মরিয়ম তনয় ঈসাকে প্রকৃষ্ট মু’জেযা দান করেছি এবং তাকে শক্তি দান করেছি ‘রুহূল কুদ্দুস’ অর্থৎ জিবরাঈলের মাধ্যমে। আর আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন, তাহলে পরিস্কার নির্দেশ এসে যাবার পর পয়গম্বরদের পেছনে যারা ছিল তারা লড়াই করতো না। কিন্তু তাদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়ে গেছে। অতঃপর তাদের কেউ তো ঈমান এনেছে, আর কেউ হয়েছে কাফের। আর আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন, তাহলে তারা পরস্পর লড়াই করতো, কিন্তু আল্লাহ তাই করেন, যা তিনি ইচ্ছা করেন।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।