Wa `allama Aadamal asmaaa`a kullahaa summa `aradahum `alal malaaa`ikati faqaala ambi`oonee bias maaa`i haaa`ulaaa`i in kuntum saadiqeen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আর আল্লাহ তা’আলা শিখালেন আদমকে সমস্ত বস্তু-সামগ্রীর নাম। তারপর সে সমস্ত বস্তু-সামগ্রীকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন। অতঃপর বললেন, আমাকে তোমরা এগুলোর নাম বলে দাও, যদি তোমরা সত্য হয়ে থাক।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और (आदम की हक़ीक़म ज़ाहिर करने की ग़रज़ से) आदम को सब चीज़ों के नाम सिखा दिए फिर उनको फरिश्तों के सामने पेश किया और फ़रमाया कि अगर तुम अपने दावे में कि हम मुस्तहके ख़िलाफ़त हैं। सच्चे हो तो मुझे इन चीज़ों के नाम बताओ
আর আল্লাহ তা’আলা শিখালেন আদমকে সমস্ত বস্তু-সামগ্রীর নাম। তারপর সে সমস্ত বস্তু-সামগ্রীকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন। অতঃপর বললেন, আমাকে তোমরা এগুলোর নাম বলে দাও, যদি তোমরা সত্য হয়ে থাক।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
عَلَّمَ — শিক্ষা দিয়েছেন।
الْأَسْمَاءَ — নামসমূহ (প্রত্যেক বস্তুর নাম)।
عَرَضَهُمْ — তাদের (নামযুক্ত বস্তুসমূহকে) উপস্থাপন করলেন।
أَنبِئُونِي — আমাকে জানাও/সংবাদ দাও।
صَادِقِينَ — সত্যবাদী।
তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা আদম (আঃ)-এর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য তাকে সমস্ত বস্তুর নাম শিক্ষা দিয়েছিলেন—পশু-পাখি, নিস্প্রাণ বস্তু, আকাশ-পৃথিবী, পাহাড়-নদী, এমনকি প্রতিটি জিনিসের নাম ও তার পরিচয়। এরপর তিনি সেই নামযুক্ত বস্তুসমূহকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করে বললেন: “যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো—অর্থাৎ তোমাদের ধারণা অনুযায়ী তোমরাই আদমের চেয়ে উত্তম ও জ্ঞানী এবং খলিফা হওয়ার বেশি উপযুক্ত—তবে এই বস্তুগুলোর নাম আমাকে বলে দাও।”
ফেরেশতারা এর আগে বলেছিল যে, তারা মনে করে আদমের সন্তানরা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে, অথচ তারা (ফেরেশতারা) আল্লাহর প্রশংসা ও পবিত্রতা ঘোষণা করে। আল্লাহ তাদের প্রমাণ করার জন্য এই পরীক্ষাটি উপস্থাপন করলেন, যাতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, আদম (আঃ)-এর জ্ঞান ও মর্যাদা ফেরেশতাদের চেয়ে অনেক উচ্চে। কারণ আদমকে আল্লাহ সরাসরি জ্ঞান দান করেছেন, যা ফেরেশতারা পাননি।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
জ্ঞানের মর্যাদা ইসলামে অত্যন্ত উচ্চ—আল্লাহ আদম (আঃ)-কে জ্ঞান দানের মাধ্যমেই তাকে ফেরেশতাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। তাই মুমিনের উচিত জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী হওয়া এবং তাকে সম্মান করা।
আল্লাহর সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করা এবং নাম ও পরিচয় জানার চেষ্টা করা একটি ইবাদত, কারণ এটি আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন উপলব্ধিতে সহায়তা করে।
কোনো বিষয়ে নিশ্চিত না হয়ে কথা না বলা উচিত; ফেরেশতারা যখন নিশ্চিত ছিল না, তখন তারা নীরব ছিল। আমাদেরও উচিত অজানা বিষয়ে নীরব থাকা বা সততার সাথে স্বীকার করা।
আল্লাহর সিদ্ধান্ত সর্বদা হিকমতপূর্ণ—তিনি যা কিছু করেন, তাতে গভীর প্রজ্ঞা থাকে, যদিও তা মানুষের বোধগম্য না হয়।
বিনয় ও নম্রতা—ফেরেশতারা ভুল স্বীকার করে আল্লাহর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, যা আমাদের শেখায় যে, ভুল স্বীকার করা এবং সত্য জানতে আগ্রহী হওয়া একটি মহৎ গুণ।
তিনিই সে সত্ত্বা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য যা কিছু জমীনে রয়েছে সে সমস্ত। তারপর তিনি মনোসংযোগ করেছেন আকাশের প্রতি। বস্তুতঃ তিনি তৈরী করেছেন সাত আসমান। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে অবহিত।
আর তোমার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদিগকে বললেনঃ আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি বানাতে যাচ্ছি, তখন ফেরেশতাগণ বলল, তুমি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবে যে দাঙ্গা-হাঙ্গামার সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা নিয়ত তোমার গুণকীর্তন করছি এবং তোমার পবিত্র সত্তাকে স্মরণ করছি। তিনি বললেন, নিঃসন্দেহে আমি জানি, যা তোমরা জান না।
আর আল্লাহ তা’আলা শিখালেন আদমকে সমস্ত বস্তু-সামগ্রীর নাম। তারপর সে সমস্ত বস্তু-সামগ্রীকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন। অতঃপর বললেন, আমাকে তোমরা এগুলোর নাম বলে দাও, যদি তোমরা সত্য হয়ে থাক।
তিনি বললেন, হে আদম, ফেরেশতাদেরকে বলে দাও এসবের নাম। তারপর যখন তিনি বলে দিলেন সে সবের নাম, তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, আমি আসমান ও যমীনের যাবতীয় গোপন বিষয় সম্পর্কে খুব ভাল করেই অবগত রয়েছি? এবং সেসব বিষয়ও জানি যা তোমরা প্রকাশ কর, আর যা তোমরা গোপন কর!
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।