আল-বাকারা · 32/286
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-বাকারা
قَالُوا سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ ۝٣٢
Qaaloo subhaanaka laa `ilma lanaaa illaa maa `allamtanaaa innaka antal`aleemul hakeem
📖 বাংলা অর্থ
তারা বলল, তুমি পবিত্র! আমরা কোন কিছুই জানি না, তবে তুমি যা আমাদিগকে শিখিয়েছ (সেগুলো ব্যতীত) নিশ্চয় তুমিই প্রকৃত জ্ঞানসম্পন্ন, হেকমতওয়ালা।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • سُبْحَانَكَ – আমরা আপনাকে পবিত্র ঘোষণা করছি / আমরা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি (অর্থাৎ, আপনার কোনো ত্রুটি বা দোষ নেই, আপনি সকল দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত)।
  • لَا عِلْمَ لَنَا – আমাদের কোনো জ্ঞান নেই।
  • إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا – তবে যা আপনি আমাদের শিখিয়েছেন (তা ছাড়া)।
  • الْعَلِيمُ – সর্বজ্ঞ (যিনি সবকিছু জানেন, গোপন-প্রকাশ্য কিছুই তাঁর অজানা নয়)।
  • الْحَكِيمُ – প্রজ্ঞাময় (যিনি প্রতিটি কাজ প্রজ্ঞার সাথে করেন, প্রতিটি সিদ্ধান্ত যথাযথ ও নিখুঁত)।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

যখন আল্লাহ তাআলা আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করে ফেরেশতাদের বললেন, “তোমরা আদমকে সিজদা করো” এবং তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, “আমি তোমাদেরকে যা জানি, তা কি তোমরা জানো?” তখন ফেরেশতারা নম্রতা ও বিনয়ের সাথে, নিজেদের অক্ষমতা স্বীকার করে এবং আল্লাহর প্রশংসা ও পবিত্রতা ঘোষণা করে বলল:

“আমরা আপনাকে পবিত্র ঘোষণা করছি, হে আমাদের রব! আপনার কোনো ত্রুটি নেই, আপনি সকল দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত। আমরা এমন কোনো জ্ঞানের অধিকারী নই, যা আপনি আমাদেরকে শিখিয়ে দেননি। অর্থাৎ, আমাদের জ্ঞান সম্পূর্ণরূপে আপনার দান। আমরা নিজ থেকে কিছু জানি না। আপনি ছাড়া আমাদের কোনো জ্ঞান নেই।”

এরপর তারা স্বীকার করে নিল যে, আল্লাহই সর্বজ্ঞ এবং তিনিই প্রজ্ঞাময়। তিনি যা কিছু করেন, তা প্রজ্ঞার সাথে করেন; তিনি যা কিছু জানেন, তা নিখুঁতভাবে জানেন। তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সামনে আমাদের জ্ঞান কিছুই নয়। তাই আমরা আপনার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি করি না, বরং আমরা আপনার সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট এবং আপনার আদেশ মেনে চলতে প্রস্তুত।

ফেরেশতাদের এই উত্তরটি ছিল তাদের নম্রতা, বিনয় এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের প্রকাশ। তারা নিজেদের অক্ষমতা স্বীকার করে আল্লাহর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার কাছে মাথা নত করল এবং তাঁর সিদ্ধান্তকে মেনে নিল।


ফায়দা (শিক্ষা ও উপকারিতা):

  1. বিনয় ও নম্রতা: ফেরেশতাদের মতো আমাদের উচিত নিজের জ্ঞান ও ক্ষমতাকে বড় না ভেবে আল্লাহর জ্ঞান ও ক্ষমতার কাছে নিজেকে ছোট করা। জ্ঞান যতই থাকুক না কেন, তা আল্লাহর দান।
  2. আল্লাহর প্রশংসা ও পবিত্রতা ঘোষণা: যে কোনো সংকট বা প্রশ্নের মুখোমুখি হলে আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করা এবং তাঁর সিদ্ধান্তের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
  3. জ্ঞানের উৎস আল্লাহ: প্রকৃত জ্ঞান কেবল আল্লাহর কাছ থেকে আসে। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর কাছে জ্ঞান প্রার্থনা করা এবং তাঁর শেখানো পথে চলা।
  4. আল্লাহর সিদ্ধান্তে আস্থা: আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়। তিনি যা কিছু করেন, তাতে কল্যাণ রয়েছে, যদিও আমরা তার হেকমত (প্রজ্ঞা) বুঝতে না পারি। তাই তাঁর সিদ্ধান্তে আস্থা রাখা এবং আপত্তি না করাই ঈমানের দাবি।
  5. শিক্ষার গুরুত্ব: ফেরেশতারা জ্ঞান না থাকার কথা স্বীকার করেছেন, কিন্তু আল্লাহ তাদেরকে জ্ঞান দান করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, জ্ঞান অর্জন করা এবং আল্লাহর কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া কত বড় নিয়ামত। আমাদের উচিত জ্ঞান অর্জনে সচেষ্ট থাকা এবং আল্লাহর কাছে হেদায়াত প্রার্থনা করা।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 30-34 — আল-বাকারা

30وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً ۖ قَالُوا أَتَجْعَلُ فِيهَا مَن يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ ۖ قَالَ إِنِّي أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ
আর তোমার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদিগকে বললেনঃ আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি বানাতে যাচ্ছি, তখন ফেরেশতাগণ বলল, তুমি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবে যে দাঙ্গা-হাঙ্গামার সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা নিয়ত তোমার গুণকীর্তন করছি এবং তোমার পবিত্র সত্তাকে স্মরণ করছি। তিনি বললেন, নিঃসন্দেহে আমি জানি, যা তোমরা জান না।
31وَعَلَّمَ آدَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلَائِكَةِ فَقَالَ أَنبِئُونِي بِأَسْمَاءِ هَٰؤُلَاءِ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ
আর আল্লাহ তা’আলা শিখালেন আদমকে সমস্ত বস্তু-সামগ্রীর নাম। তারপর সে সমস্ত বস্তু-সামগ্রীকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন। অতঃপর বললেন, আমাকে তোমরা এগুলোর নাম বলে দাও, যদি তোমরা সত্য হয়ে থাক।
32قَالُوا سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ
তারা বলল, তুমি পবিত্র! আমরা কোন কিছুই জানি না, তবে তুমি যা আমাদিগকে শিখিয়েছ (সেগুলো ব্যতীত) নিশ্চয় তুমিই প্রকৃত জ্ঞানসম্পন্ন, হেকমতওয়ালা।
33قَالَ يَا آدَمُ أَنبِئْهُم بِأَسْمَائِهِمْ ۖ فَلَمَّا أَنبَأَهُم بِأَسْمَائِهِمْ قَالَ أَلَمْ أَقُل لَّكُمْ إِنِّي أَعْلَمُ غَيْبَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَأَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا كُنتُمْ تَكْتُمُونَ
তিনি বললেন, হে আদম, ফেরেশতাদেরকে বলে দাও এসবের নাম। তারপর যখন তিনি বলে দিলেন সে সবের নাম, তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, আমি আসমান ও যমীনের যাবতীয় গোপন বিষয় সম্পর্কে খুব ভাল করেই অবগত রয়েছি? এবং সেসব বিষয়ও জানি যা তোমরা প্রকাশ কর, আর যা তোমরা গোপন কর!
34وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَىٰ وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ
এবং যখন আমি হযরত আদম (আঃ)-কে সেজদা করার জন্য ফেরেশতাগণকে নির্দেশ দিলাম, তখনই ইবলীস ব্যতীত সবাই সিজদা করলো। সে (নির্দেশ) পালন করতে অস্বীকার করল এবং অহংকার প্রদর্শন করল। ফলে সে কাফেরদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেল।
আল-বাকারাকুরআন সূচী
286আয়াত
মাদানীRevelation
32আয়াত

অনুবাদ — আল-বাকারা 32

সূরা আয়াত 32/286 — আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-বাকারা শুনুন, আল-বাকারা অনুবাদ, আল-বাকারা mp3, আল-বাকারা pdf. আয়াত 30–34. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না