Wa laa tamuddanna `ainaika ilaa ma matta`na biheee azwajam minhum zahratal hayaatid dunya linaftinahum feeh; wa rizqu Rabbika khairunw wa abqaa
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আমি এদের বিভিন্ন প্রকার লোককে পরীক্ষা করার জন্যে পার্থিবজীবনের সৌন্দর্য স্বরূপ ভোগ-বিলাসের যে উপকরণ দিয়েছি, আপনি সেই সব বস্তুর প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করবেন না। আপনার পালনকর্তার দেয়া রিযিক উৎকৃষ্ট ও অধিক স্থায়ী।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और (ऐ रसूल) जो उनमें से कुछ लोगों को दुनिया की इस ज़रा सी ज़िन्दगी की रौनक़ से निहाल कर दिया है ताकि हम उनको उसमें आज़माएँ तुम अपनी नज़रें उधर न बढ़ाओ और (इससे) तुम्हारे परवरदिगार की रोज़ी (सवाब) कहीं बेहतर और ज्यादा पाएदार है
لَا تَمُدَّنَّ عَيْنَيْكَ — তুমি দৃষ্টি প্রসারিত করো না, অর্থাৎ লোভভরে তাকাও না।
أَزْوَاجًا — বিভিন্ন শ্রেণী, দল বা প্রকার।
زَهْرَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا — দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্য, চাকচিক্য ও আভিজাত্য।
لِنَفْتِنَهُمْ فِيهِ — যাতে আমরা তাদেরকে এর মাধ্যমে পরীক্ষা করি।
رِزْقُ رَبِّكَ — তোমার রবের পক্ষ থেকে প্রদত্ত প্রতিদান ও অনুগ্রহ।
خَيْرٌ وَأَبْقَى — উত্তম এবং অধিক স্থায়ী।
তাফসীর:
হে নবী! তুমি ঐসব কাফির ও মুশরিকদের দিকে লোভভরে তাকিও না, যাদেরকে আমি দুনিয়ার নানাবিধ ভোগ-সম্ভার, ধন-সম্পদ, সৌন্দর্য ও বিলাসিতা দিয়ে পরীক্ষার উদ্দেশ্যে মোহগ্রস্ত করেছি। এ সবই হলো দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনের অস্থায়ী সৌন্দর্য ও চাকচিক্য, যা কিছুদিনের মধ্যেই ধ্বংস হয়ে যাবে। আমি তাদেরকে এগুলো দিয়েছি মূলত তাদের পরীক্ষার জন্য, যাতে তারা এসবের অহংকারে বিভোর হয়ে সত্য থেকে দূরে সরে থাকে এবং এর মাধ্যমে তাদের প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ পায়। তুমি এসবের প্রতি আকৃষ্ট হয়ো না, কারণ তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমাকে যে প্রতিদান, পুরস্কার ও জান্নাতের নেয়ামতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা তাদের এ পার্থিব ভোগ-সম্ভারের চেয়ে অনেক উত্তম এবং চিরস্থায়ী। দুনিয়ার সম্পদ ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আখিরাতের নেয়ামত কখনো শেষ হবে না, বরং তা চিরকাল অব্যাহত থাকবে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
মুমিনের দৃষ্টি হওয়া উচিত আখিরাতের দিকে, দুনিয়ার বিলাসিতার প্রতি লোভভরে তাকানো উচিত নয়। কারণ দুনিয়ার সম্পদ অস্থায়ী, আর আখিরাতের পুরস্কার চিরস্থায়ী।
দুনিয়ার ধন-সম্পদ ও বিলাসিতা আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা স্বরূপ। কারো কাছে সম্পদ দেখে হিংসা বা লোভ করা উচিত নয়, বরং এটা বুঝতে হবে যে এটি তার জন্য পরীক্ষা।
আল্লাহর পক্ষ থেকে ধৈর্য ও তাকওয়ার বিনিময়ে যে প্রতিদান রয়েছে, তা দুনিয়ার যাবতীয় ভোগ-সম্ভারের চেয়ে উত্তম ও স্থায়ী। তাই মুমিনের উচিত ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, প্রকৃত সফলতা ও কল্যাণ হলো আখিরাতের সাফল্য, দুনিয়ার সাময়িক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য নয়। তাই আমাদের উচিত আখিরাতের প্রস্তুতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া।
নবীজী (সা.)-কে লক্ষ্য করে এই নির্দেশনার মাধ্যমে উম্মতের জন্যও শিক্ষা রয়েছে যে, আমরা যেন দুনিয়ার সামান্য সম্পদের প্রতি লোভ না করি এবং আল্লাহর দেওয়া রিজিকের ওপর সন্তুষ্ট থাকি।
আমি এদের বিভিন্ন প্রকার লোককে পরীক্ষা করার জন্যে পার্থিবজীবনের সৌন্দর্য স্বরূপ ভোগ-বিলাসের যে উপকরণ দিয়েছি, আপনি সেই সব বস্তুর প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করবেন না। আপনার পালনকর্তার দেয়া রিযিক উৎকৃষ্ট ও অধিক স্থায়ী।
সুতরাং এরা যা বলে সে বিষয়ে ধৈর্য্য ধারণ করুন এবং আপনার পালনকর্তার প্রশংসা পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা করুন সূর্যোদয়ের পূর্বে, সূর্যাস্তের পূর্বে এবং পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা করুন রাত্রির কিছু অংশ ও দিবাভাগে, সম্ভবতঃ তাতে আপনি সন্তুষ্ট হবেন।
আমি এদের বিভিন্ন প্রকার লোককে পরীক্ষা করার জন্যে পার্থিবজীবনের সৌন্দর্য স্বরূপ ভোগ-বিলাসের যে উপকরণ দিয়েছি, আপনি সেই সব বস্তুর প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করবেন না। আপনার পালনকর্তার দেয়া রিযিক উৎকৃষ্ট ও অধিক স্থায়ী।
আপনি আপনার পরিবারের লোকদেরকে নামাযের আদেশ দিন এবং নিজেও এর ওপর অবিচল থাকুন। আমি আপনার কাছে কোন রিযিক চাই না। আমি আপনাকে রিযিক দেই এবং আল্লাহ ভীরুতার পরিণাম শুভ।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।