আল-আম্বিয়া · 29/112
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-আম্বিয়া
۞ وَمَن يَقُلْ مِنْهُمْ إِنِّي إِلَٰهٌ مِّن دُونِهِ فَذَٰلِكَ نَجْزِيهِ جَهَنَّمَ ۚ كَذَٰلِكَ نَجْزِي الظَّالِمِينَ ۝٢٩
Wa mai yaqul minhum inneee ilaahum min doonihee fazaalika najzeehi Jahannam; kazaalika najziz zaalimeen
📖 বাংলা অর্থ
তাদের মধ্যে যে বলে যে, তিনি ব্যতীত আমিই উপাস্য, তাকে আমি জাহান্নামের শাস্তি দেব। আমি জালেমদেরকে এভাবেই প্রতিফল দিয়ে থাকি।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ ও ব্যাখ্যা:

  • مِنْهُمْ - তাদের মধ্য থেকে (অর্থাৎ ফেরেশতাদের মধ্য থেকে, অনুমানমূলকভাবে বলা হয়েছে)
  • إِلَٰهٌ - উপাস্য, মাবুদ
  • مِن دُونِهِ - আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ
  • نَجْزِيهِ - আমরা তাকে প্রতিদান দেব
  • جَهَنَّمَ - জাহান্নাম
  • الظَّالِمِينَ - যালিমরা, যারা কুফরি ও শিরকের মাধ্যমে নিজেদের ওপর অত্যাচার করেছে

তাফসির:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে, ফেরেশতারা তাঁর সম্মানিত ও অনুগত বান্দা। তারা কখনো নিজেদেরকে উপাস্য দাবি করার সাহস করে না। তবে যদি কেউ—এমনকি ফেরেশতাদের মধ্য থেকেও—অনুমানমূলকভাবে বলার চেষ্টা করে যে, "আমিই আল্লাহ ছাড়া অন্য উপাস্য," তাহলে তার শাস্তি হবে জাহান্নাম। এটি একটি সতর্কবাণী যে, আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা বা নিজেকে উপাস্য দাবি করা এমন একটি জঘন্য অপরাধ, যার পরিণতি চরম ভয়াবহ।

আল্লাহ তাআলা এখানে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই শাস্তি শুধু ফেরেশতাদের জন্য নির্দিষ্ট নয়; বরং যে কেউ জুলুম করবে—অর্থাৎ আল্লাহর ইবাদত ও উপাস্যতাকে সঠিক স্থানে না রেখে অন্য কারো দিকে ফিরিয়ে দেবে, সে-ই এই শাস্তির উপযুক্ত। যারা আল্লাহর একত্ববাদকে অস্বীকার করে এবং তাঁর সাথে অন্য কিছুকে শরিক করে, তারা নিজেদের ওপরই জুলুম করেছে, কারণ তারা নিজেদেরকে চিরস্থায়ী শাস্তির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

প্রচারমূলক দিক:

প্রিয় পাঠক! এই আয়াত আমাদেরকে ইসলামের সবচেয়ে মৌলিক শিক্ষা—তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদ—সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করতে আহ্বান জানায়। আল্লাহ তাআলা এতই দয়ালু ও ক্ষমাশীল যে, তিনি তাঁর বান্দাদেরকে শিরক থেকে বিরত থাকার জন্য বারবার সতর্ক করেছেন। শিরক এমন একটি অপরাধ, যা ক্ষমা করা হবে না যদি কেউ তাওবা না করে। অথচ আল্লাহর রহমতের দরজা সর্বদা খোলা—যে কেউ শিরক ও কুফরি থেকে ফিরে এসে এক আল্লাহর ইবাদতে আত্মনিয়োগ করবে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন এবং জান্নাতের সুসংবাদ দেবেন।

আসুন, আমরা সবাই এই শিক্ষা গ্রহণ করি—আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। এই বিশ্বাসকে অন্তরে দৃঢ়ভাবে ধারণ করি এবং তা আমাদের জীবনাচরণে প্রতিফলিত করি। তাহলেই আমরা সফলকাম হব ইনশাআল্লাহ।



📜 আয়াত 27-31 — সূরা আল-আম্বিয়া

27لَا يَسْبِقُونَهُ بِالْقَوْلِ وَهُم بِأَمْرِهِ يَعْمَلُونَ
তারা আগে বেড়ে কথা বলতে পারে না এবং তারা তাঁর আদেশেই কাজ করে।
28يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَىٰ وَهُم مِّنْ خَشْيَتِهِ مُشْفِقُونَ
তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা আছে, তা তিনি জানেন। তারা শুধু তাদের জন্যে সুপারিশ করে, যাদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট এবং তারা তাঁর ভয়ে ভীত।
29۞ وَمَن يَقُلْ مِنْهُمْ إِنِّي إِلَٰهٌ مِّن دُونِهِ فَذَٰلِكَ نَجْزِيهِ جَهَنَّمَ ۚ كَذَٰلِكَ نَجْزِي الظَّالِمِينَ
তাদের মধ্যে যে বলে যে, তিনি ব্যতীত আমিই উপাস্য, তাকে আমি জাহান্নামের শাস্তি দেব। আমি জালেমদেরকে এভাবেই প্রতিফল দিয়ে থাকি।
30أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا ۖ وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ ۖ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ
কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না?
31وَجَعَلْنَا فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَن تَمِيدَ بِهِمْ وَجَعَلْنَا فِيهَا فِجَاجًا سُبُلًا لَّعَلَّهُمْ يَهْتَدُونَ
আমি পৃথিবীতে ভারী বোঝা রেখে দিয়েছি যাতে তাদেরকে নিয়ে পৃথিবী ঝুঁকে না পড়ে এবং তাতে প্রশস্ত পথ রেখেছি, যাতে তারা পথ প্রাপ্ত হয়।
আল-আম্বিয়াকুরআন সূচী
112আয়াত
মাক্কীRevelation
29আয়াত

অনুবাদ — আল-আম্বিয়া 29

সূরা আল-আম্বিয়া আয়াত 29 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তাদের মধ্যে যে বলে যে, তিনি ব্যতীত আমিই উপাস্য, তাকে…

সূরা আয়াত 29/112 — সূরা আল-আম্বিয়া الأنبياء (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-আম্বিয়া শুনুন, সূরা আল-আম্বিয়া অনুবাদ, সূরা আল-আম্বিয়া mp3, সূরা আল-আম্বিয়া pdf. আয়াত 27–31. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Monday, September 7, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না