আন-নূর · 7/64
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নূর
وَٱلۡخَٰمِسَةُ أَنَّ لَعۡنَتَ ٱللَّهِ عَلَيۡهِ إِن كَانَ مِنَ ٱلۡكَٰذِبِينَ  ۝٧
Wal khaamisatu anna la`natal laahi `alaihi in kaana minal kaazibeen
📖 বাংলা অর্থ
এবং পঞ্চমবার বলবে যে, যদি সে মিথ্যাবাদী হয় তবে তার উপর আল্লাহর লানত।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • الْخَامِسَةُ – পঞ্চম সাক্ষ্য বা শপথ।
  • لَعْنَتَ اللهِ – আল্লাহর অভিশাপ বা রহমত থেকে দূরীভূত হওয়া।
  • مِنَ الْكَاذِبِينَ – মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।

তাফসীর:

আয়াতটি লি‘আন (অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক অভিযোগের ক্ষেত্রে বিশেষ শপথের বিধান) সম্পর্কিত। যখন কোনো স্বামী তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগ আনে, কিন্তু তার দাবি প্রমাণের জন্য তার কাছে কোনো সাক্ষী থাকে না, তখন শরীয়তের বিধান হলো—স্বামীকে অবশ্যই বিচারকের সামনে চারবার শপথ করে বলতে হবে যে, “আল্লাহর শপথ! আমি আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যভিচারের যে অভিযোগ করেছি, তাতে আমি সত্যবাদী।” এরপর পঞ্চমবারে তাকে বলতে হবে: “আমার উপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক, যদি আমি মিথ্যাবাদী হয়ে থাকি।” এই পঞ্চম শপথটিই হচ্ছে আয়াতে উল্লেখিত “الْخَامِسَةُ”। এর মাধ্যমে স্বামী নিজের উপর আল্লাহর গজব ও অভিশাপ নাযিলের আহ্বান জানায়, যদি সে মিথ্যা বলে থাকে। এই শপথের পরই স্বামীর সাক্ষ্য সম্পূর্ণ হয় এবং স্ত্রীর উপর শাস্তি রহিত হয়, যদি স্ত্রীও পাল্টা শপথ করে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করে। এই বিধানটি অত্যন্ত কঠোর ও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে মিথ্যা বলার পরিণতি হিসেবে আল্লাহর অভিশাপকে সামনে আনা হয়েছে, যা একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ বিষয়।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. ইসলাম এমন একটি ন্যায়বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে যেখানে কোনো ব্যক্তি অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলে তা প্রমাণের জন্য কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যাতে মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে কাউকে অপমানিত করা না হয়।
  2. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, মিথ্যা বলা ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। এমনকি নিজের স্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করলেও আল্লাহর অভিশাপের ভয় রাখতে হবে।
  3. ইসলাম পরিবারের পবিত্রতা ও সম্মান রক্ষায় অত্যন্ত যত্নবান। এই বিধানের মাধ্যমে স্ত্রীর সম্ভ্রম ও মর্যাদা রক্ষা করা হয়েছে, যাতে কোনো স্বামী মনগড়া অভিযোগ এনে স্ত্রীকে অপমানিত করতে না পারে।
  4. একজন মুমিনের জীবনে আল্লাহর ভয় (তাকওয়া) সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ। এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, প্রতিটি কাজে, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য বা শপথের ক্ষেত্রে, আল্লাহর হিসাবের কথা স্মরণ রাখতে হবে।
  5. ইসলামের বিধানগুলো মানবকল্যাণ ও সমাজের শান্তির জন্য। এই বিধানটি পারিবারিক কলহ নিরসনে একটি ন্যায়সঙ্গত পথ দেখায়, যা সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 5-9 — আন-নূর

5إِلَّا ٱلَّذِينَ تَابُواْ مِنۢ بَعۡدِ ذَٰلِكَ وَأَصۡلَحُواْ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ 
কিন্তু যারা এরপর তওবা করে এবং সংশোধিত হয়, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম মেহেরবান।
6وَٱلَّذِينَ يَرۡمُونَ أَزۡوَٰجَهُمۡ وَلَمۡ يَكُن لَّهُمۡ شُهَدَآءُ إِلَّآ أَنفُسُهُمۡ فَشَهَٰدَةُ أَحَدِهِمۡ أَرۡبَعُ شَهَٰدَٰتِۭ بِٱللَّهِ إِنَّهُۥ لَمِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ 
এবং যারা তাদের স্ত্রীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে এবং তারা নিজেরা ছাড়া তাদের কোন সাক্ষী নেই, এরূপ ব্যক্তির সাক্ষ্য এভাবে হবে যে, সে আল্লাহর কসম খেয়ে চারবার সাক্ষ্য দেবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী।
7وَٱلۡخَٰمِسَةُ أَنَّ لَعۡنَتَ ٱللَّهِ عَلَيۡهِ إِن كَانَ مِنَ ٱلۡكَٰذِبِينَ 
এবং পঞ্চমবার বলবে যে, যদি সে মিথ্যাবাদী হয় তবে তার উপর আল্লাহর লানত।
8وَيَدۡرَؤُاْ عَنۡهَا ٱلۡعَذَابَ أَن تَشۡهَدَ أَرۡبَعَ شَهَٰدَٰتِۭ بِٱللَّهِ إِنَّهُۥ لَمِنَ ٱلۡكَٰذِبِينَ 
এবং স্ত্রীর শাস্তি রহিত হয়ে যাবে যদি সে আল্লাহর কসম খেয়ে চার বার সাক্ষ্য দেয় যে, তার স্বামী অবশ্যই মিথ্যাবাদী;
9وَٱلۡخَٰمِسَةَ أَنَّ غَضَبَ ٱللَّهِ عَلَيۡهَآ إِن كَانَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ 
এবং পঞ্চমবার বলে যে, যদি তার স্বামী সত্যবাদী হয় তবে তার ওপর আল্লাহর গযব নেমে আসবে।
আন-নূরকুরআন সূচী
64আয়াত
মাদানীRevelation
7আয়াত

অনুবাদ — আন-নূর 7

সূরা আয়াত 7/64 — আন-নূর النور (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নূর শুনুন, আন-নূর অনুবাদ, আন-নূর mp3, আন-নূর pdf. আয়াত 5–9. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না