Wa ka aiyim min Nabiyyin qaatala ma`ahoo ribbiyyoona kaseerun famaa wahanoo limaaa Asaabahum fee sabeelil laahi wa maa da`ufoo wa mas takaanoo; wallaahu yuhibbus saabireen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আর বহু নবী ছিলেন, যাঁদের সঙ্গী-সাথীরা তাঁদের অনুবর্তী হয়ে জেহাদ করেছে; আল্লাহর পথে-তাদের কিছু কষ্ট হয়েছে বটে, কিন্তু আল্লাহর রাহে তারা হেরেও যায়নি, ক্লান্তও হয়নি এবং দমেও যায়নি। আর যারা সবর করে, আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और (मुसलमानों तुम ही नहीं) ऐसे पैग़म्बर बहुत से गुज़र चुके हैं जिनके साथ बहुतेरे अल्लाह वालों ने (राहे खुदा में) जेहाद किया और फिर उनको ख़ुदा की राह में जो मुसीबत पड़ी है न तो उन्होंने हिम्मत हारी न बोदापन किया (और न दुशमन के सामने) गिड़गिड़ाने लगे और साबित क़दम रहने वालों से ख़ुदा उलफ़त रखता है
আর বহু নবী ছিলেন, যাঁদের সঙ্গী-সাথীরা তাঁদের অনুবর্তী হয়ে জেহাদ করেছে; আল্লাহর পথে-তাদের কিছু কষ্ট হয়েছে বটে, কিন্তু আল্লাহর রাহে তারা হেরেও যায়নি, ক্লান্তও হয়নি এবং দমেও যায়নি। আর যারা সবর করে, আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
رِبِّيُّونَ — অর্থাৎ আল্লাহওয়ালা, দ্বীনদার, জ্ঞানী ও ধৈর্যশীল অনুসারীদের বিশাল দল। কেউ কেউ বলেছেন, এখানে রব্বানী তথা আল্লাহভীরু আলিম ও নিষ্ঠাবান সৈনিকদের বোঝানো হয়েছে।
وَهَنُوا — অর্থ দুর্বল হয়ে পড়া, সাহস হারিয়ে ফেলা।
ضَعُفُوا — অর্থ শারীরিক বা মানসিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়া।
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে ধৈর্য ও সাহসের শিক্ষা দিয়েছেন এবং পূর্ববর্তী নবী ও তাদের অনুসারীদের মহান আদর্শ তুলে ধরেছেন। বহু নবী ছিলেন যাঁদের সাথে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল অসংখ্য রব্বানী তথা আল্লাহভীরু, জ্ঞানী ও নিষ্ঠাবান অনুসারী। তাঁরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করার সময় কতিপয় কষ্ট, আহত হওয়া এমনকি শহীদ হওয়ার সম্মুখীন হয়েছেন। কিন্তু এসব কিছুই তাঁদেরকে দুর্বল করেনি, তাদের সাহস ও দৃঢ়তা কখনো ভঙ্গ হয়নি। তারা জিহাদ থেকে পিছু হটেনি, শত্রুর সামনে মাথা নত করেনি, লাঞ্ছিত হয়নি এবং আপস করেনি। বরং তারা চরম ধৈর্য ও অবিচলতার সাথে আল্লাহর পথে অটল থেকেছে। আল্লাহ তাআলা এই ধৈর্যশীল বান্দাদেরকে ভালোবাসেন এবং তাদের প্রতি সন্তুষ্ট।
এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ মুমিনদেরকে শিক্ষা দিচ্ছেন যে, বিপদ-আপদ, ক্ষতি-ক্ষয় বা কষ্ট আসলেই দুর্বল হওয়া, হতাশ হওয়া বা শত্রুর কাছে নতি স্বীকার করা উচিত নয়। বরং আল্লাহর পথে ধৈর্য ধরতে হবে, কারণ আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন এবং তাদেরকে সাহায্য করেন।
শিক্ষা ও ফায়দা:
আল্লাহর পথে সংগ্রাম ও জিহাদে বিপদ-আপদ আসবেই, কিন্তু মুমিনের কর্তব্য ধৈর্য ধরা এবং সাহস না হারানো।
পূর্ববর্তী নবী ও তাদের অনুসারীদের জীবন আমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ — তাঁরা কঠিন থেকে কঠিন পরিস্থিতিতেও আল্লাহর পথে অবিচল ছিলেন।
বিপদে পড়লে দুর্বল হওয়া, হতাশ হওয়া বা শত্রুর কাছে মাথা নত করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়; বরং মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো ধৈর্য, সাহস ও আল্লাহর উপর ভরসা।
আল্লাহ তাআলা ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন — এটি একটি মহা সুসংবাদ যে, ধৈর্য ধারণ করলে আল্লাহর ভালোবাসা ও সাহায্য লাভ করা যায়।
এই আয়াত মুমিনদেরকে সাহস জোগায় যে, সংখ্যায় কম বা বিপদে পড়লেও আল্লাহর সাহায্য নিশ্চিত, যদি তারা ধৈর্য ধারণ করে।
আর মুহাম্মদ একজন রসূল বৈ তো নয়! তাঁর পূর্বেও বহু রসূল অতিবাহিত হয়ে গেছেন। তাহলে কি তিনি যদি মৃত্যুবরণ করেন অথবা নিহত হন, তবে তোমরা পশ্চাদপসরণ করবে? বস্তুতঃ কেউ যদি পশ্চাদপসরণ করে, তবে তাতে আল্লাহর কিছুই ক্ষতি-বৃদ্ধি হবে না। আর যারা কৃতজ্ঞ, আল্লাহ তাদের সওয়াব দান করবেন।
আর আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ মরতে পারে না-সেজন্য একটা সময় নির্ধারিত রয়েছে। বস্তুতঃ যে লোক দুনিয়ায় বিনিময় কামনা করবে, আমি তাকে তা দুনিয়াতেই দান করব। পক্ষান্তরে-যে লোক আখেরাতে বিনিময় কামনা করবে, তা থেকে আমি তাকে তাই দেবো। আর যারা কৃতজ্ঞ তাদেরকে আমি প্রতিদান দেবো
আর বহু নবী ছিলেন, যাঁদের সঙ্গী-সাথীরা তাঁদের অনুবর্তী হয়ে জেহাদ করেছে; আল্লাহর পথে-তাদের কিছু কষ্ট হয়েছে বটে, কিন্তু আল্লাহর রাহে তারা হেরেও যায়নি, ক্লান্তও হয়নি এবং দমেও যায়নি। আর যারা সবর করে, আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন।
তারা আর কিছুই বলেনি-শুধু বলেছে, হে আমাদের পালনকর্তা! মোচন করে দাও আমাদের পাপ এবং যা কিছু বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে আমাদের কাজে। আর আমাদিগকে দৃঢ় রাখ এবং কাফেরদের উপর আমাদিগকে সাহায্য কর।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।